Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Bollywood Film Assi

‘অভিনয় নিয়ে আমার সেই প্যাশনটা নেই’, কলকাতায় ‘আস্‌সি’র প্রচারে অকপট ‘কান’ ফেরত অভিনেত্রী কানি কুসরুতি

Kani Kusruti: 'এই ছবিতে আমি তেমন নির্যাতিতা নই যে একেবারে ভেঙে পড়ব। অফ কোর্স সে ভেঙে পড়ে কিন্তু যখন সে আইনি লড়াইয়ের পথে যাবে স্থির করে তখন সেটা সাহসের সঙ্গে করে। এই নারী এমন একজন যে নিজের জীবনে, কাজে ফিরতে চায়। ধর্ষণ হয়েছে মানেই জীবন শেষ হয়ে গিয়েছে সে এটা মনে করে না', বললেন কানি কুসরুতি।

Advertisement
বিদিশা চট্টোপাধ্যায়
বিদিশা চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৪:৫৮

link
বিদিশা চট্টোপাধ্যায়
বিদিশা চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
‘অভিনয় নিয়ে আমার সেই প্যাশনটা নেই’, কলকাতায় ‘আস্‌সি’র প্রচারে অকপট ‘কান’ ফেরত অভিনেত্রী কানি কুসরুতি zoom
অভিনেত্রী কানি কুসরুতি, ছবি: কৌশিক দত্ত।

‘আমি অ্যাভারেজ অভিনেতা’, কলকাতায় এসে বললেন কানি কুসরুতি। ‘আস্‌সি’ ছবিতে তাপসী পান্নুর পাশাপাশি দেখা যাবে তাঁকে।

কানি, এটাই কি প্রথম কলকাতায় আসা?

Advertisement

…না না, এর আগেও আমি এসেছি। আমি থিয়েটার আর্টিস্ট। বহু আগে কলকাতায় থিয়েটারের সূত্রে এসেছি। কিন্তু এখন আর আমার বিশেষ কিছু মনে নেই। শেষ এসেছিলাম তাও প্রায় দশ বছর আগে। একটা শর্ট ফিল্ম করতে। ‘অল উই ইম্যাজিন অ্যাজ লাইট’-এর প্রচারের সময় আসা হয়নি।

‘আর্টিকল ফিফটিন’, ‘ভিড়’, ‘থাপ্পড়’-এর মতো ছবি করেছেন অনুভব সিনহার ‘আস্‌সি’-তে কাজ করতে রাজি হলেন কেন? ওঁর পুরনো ছবির সুবাদে?

… আমি ওঁর সব ছবি দেখিনি। কিন্তু আমি ওঁর ছবি ‘আর্টিকল ফিফটিন’ দেখেছি। আমার ভালো লেগেছে। ‘থাপ্পড়’ও দেখেছি। ‘আস্‌সি’-তে কাজ করতে রাজি হয়েছি অনুরাগ সিনহার ছবি বলে নয়। আমি চিত্রনাট্য পড়ে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম। তবে চিত্রনাট্যের গোটাটা আমার ভালো লেগেছিল এমন নয়, এমন অনেক কিছুই ছিল যা আমার ভালো লাগেনি। এমন সচরাচর হয় না যে গোটা স্ক্রিপ্টটাই ভালো লাগে। কিছু জিনিস লাগে। ‘আস্‌সি’-র বিষয়বস্তু খুব জরুরি। এটা একটা কোর্টরুম ড্রামা। একজন যৌন হেনস্তার ভিকটিম যদি আইনের সাহায্য নেয়, তখন তার সঙ্গে কী কী হতে পারে সেটা নিয়ে ছবি।

kani kusruti exclusive interview
অভিনেত্রী কানি কুসরুতি, ছবি: কৌশিক দত্ত।

জাস্টিস মানে কী? ডেথ পেনাল্টি কি ঠিক পথ? সেটা কি এই ক্রাইম রুখতে পারে?

… এই সমস্ত নানা দিক এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। দু’ঘণ্টার একটা সিনেমার মধ্যে সবটা দেখানো সম্ভব নয়। কিন্তু নির্মাতারা চেষ্টা করেছেন। তো এই ছবিতে এমন অনেক কিছু আছে যেটা আমার মনে হয়েছে খুব জরুরি, আবার এমন অনেক কিছু আছে যেটা হয়তো আরও ইভলভ করে সূক্ষ্ম জায়গায় যেতে পারত। এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে আমার মিক্সড ফিলিং কাজ করছে বলা যেতে পারে। পারফেক্ট স্ক্রিপ্ট নয়, কোনও ছবির স্ক্রিপ্টই হয়তো পারফেক্ট হয়ও না। হয়তো এই ছবিটাই দু’বছর পর লিখলে অনুরাগ স্যর অন্যভাবে লিখবেন।

একটা জিনিস মনে হয়, সোশাল মিডিয়া, খবরে, সিনেমায় যত বেশি নারী হিংসার খবর দেখি, এই অপরাধের হারও যেন বেড়েই চলেছে।

…এখন যেহেতু মেয়েরা এগিয়ে এসে লজ্জা ত্যাগ করে সোচ্চারে এই অন্যায়ের কথা বলছে, তাই মনে হচ্ছে যেন বেশি হচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা সামনে আসছে তাই মনে হচ্ছে বেশি। ইটস নাথিং লাইক দ্যাট। আগে এমন ঘটনা কম ঘটত, এখন বেশি ঘটে, এটা আমি মনে করি না।

‘আস্‌সি’ ছবিতে আপনি যখন রেপ সারভাইভারের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, তখন ঠিক কী মনে হচ্ছিল? চরিত্রটাকে কীভাবে অ্যাপ্রোচ করেছিলেন?

… আমি আমার মতো করে একটা নির্দিষ্ট সারভাইভার পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি। সব সারভাইভারের যন্ত্রণা, লড়াই বা অভিজ্ঞতা এক নয়। অনুভব এবং গৌরবকে (সহ-লেখক) জিজ্ঞেস করি, কেমন সারভাইভার চাইছেন তাঁরা? ওরা আমাকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে বলেছিলেন, তোমার মতো করো, তার পর দেখছি। এই ছবিতে আমি তেমন নির্যাতিতা নই যে একেবারে ভেঙে পড়ব। অফ কোর্স সে ভেঙে পড়ে কিন্তু যখন সে আইনি লড়াইয়ের পথে যাবে স্থির করে তখন সেটা সাহসের সঙ্গে করে। এই নারী এমন একজন যে নিজের জীবনে, কাজে ফিরতে চায়। ধর্ষণ হয়েছে মানেই জীবন শেষ হয়ে গিয়েছে সে এটা মনে করে না। আর আমি একজন অভিনেতা। যে চরিত্রেই অভিনয় করি না কেন, আমি কখনওই একেবারে একশো শতাংশ সেই চরিত্রর মধ্যে ঢুকে পড়ে সেই মানুষটা হয়ে প্রভাবিত হয়ে যাই না। চরিত্র এবং নিজের মধ্যে সীমারেখাটা টানতে জানি, যখন আমি সেটে তখন আমি অভিনয় করি, তার পর আর অভিনয় করি না।

পূর্বে বলেছেন, অভিনয় নিয়ে প্যাশনেট নয়, এখন কি প্যাশনেট? মত বদলেছেন?

… দেখো, বিনয় করে বলছি না, আমি খুব অ্যাভারেজ অভিনেতা। কারণ কিছুই না, অভিনয় নিয়ে আমার সেই প্যাশনটা নেই। বেশিরভাগ অভিনেতাই খুব অল্প বয়স থেকে বুঝে যায় যে তারা অভিনয় করতে চায়। আমার অভিনয় করা নিয়ে তেমন কোনও মাথাব্যথা ছিল না। অভিনয় করার কথা ভাবিওনি। কিন্তু অভিনেতা হয়ে যাওয়ার পর কিছু পরিশ্রম করেছি। তো যেটুকু ট্যালেন্ট আমার আছে, আর পরিশ্রম করছি তাতে যতটুকু অভিনয় পারি সেটুকুই হচ্ছে। আমার অত ট্যালেন্ট নেই। তবে হ্যাঁ, প্যাশনেট না হলেও তবে আগের থেকে নিজের ক্রাফটকে শানিয়ে নিতে চাই।

আপনার ছবি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু আপনি নিজেকে রিজিওনাল অভিনেতা বলে দাবি করেন।

… আমি মালয়ালমে ভাবতে পারি শুধু, তার বাইরে কোনও কালচার আমি বুঝতেও পারি না, অনেস্টলি। আমি মালয়ালম ভাষায় বই পড়ি, এই ভাষায় ছবি দেখি। আই কমপ্লিটলি রিলেট উইথ দেম, ইভেন যেটা রিলেট করি না সেটাও মালয়ালমেই। আই অ্যাম এ ট্রু কেরেলাইট দ্যাট ওয়ে। এই ভাষা বাদ দিয়ে অন্য ভাষায় প্রায় কিছুই দেখি না বা পড়ি না।

আপনি কি কাজ নিয়ে চুজি?

… আমি একদমই চুজি অভিনেতা নই। গতকাল একজন আমাকে বলল যে কেন সেই ছবিটা করলে, ছবিটা ভালো ছিল না, তুমি তো চুজি। অ্যাকচুয়ালি আমি কখনওই খুব চুজি নই। আমার কাছে যা কাজ এসেছে আমি করেছি। কোনও কাজে ‘না’ বলেছি, সেটা খুব রেয়ার। স্ক্রিপ্ট ভালো লাগেনি তাও ছবি করেছি, এমনও হয়েছে।

kani kusruti interview
অভিনেত্রী কানি কুসরুতি, ছবি: কৌশিক দত্ত।

‘অল উই ইম্যাজিন অ্যাজ লাইট’-এ ‘প্রভা’র চরিত্রটা একটা শান্তি এনে দেয়…

… এটা পুরোটাই পায়েল কাপাডিয়ার কৃতিত্ব। আমি একদমই ‘প্রভা’ নই। মানে এক ছটাকও ‘প্রভা’-র মতো নই। ইনফ্যাক্ট, আমি ‘প্রভা’-কে পছন্দও করি না। আমি একেবারেই শান্ত নই, খুব হাইপার। আর ‘প্রভা’ হওয়ার জন্য অনেক রিহার্সাল করতে হয়েছে। পায়েল সবটা কন্ট্রোল করেছে, গাইড করেছে। একটা দৃশ্যও আমি যেমন চেয়েছি তেমন করেছি এটা হয়নি। পুরোটাই পায়েল।

আপনি একটা সময় আপনার দিদার সেবা করেছিলেন। সেখান থেকে কি কোনও কিছু এই চরিত্রে আসেনি, যেহেতু ‘প্রভা’ একজন নার্স।

… না, আমি কোথাও নেই। তবে হ্যাঁ, কিছু ফিজিক্যালিটি আমি আমার মায়ের থেকে ধার করেছি বলতে পারো। আমার মা একজন ডাক্তার। সে জন্য নয়, মা যেভাবে হাঁটে সেটা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একদিন আমি আমার বাবা-মাকে ভিডিও কল করেছি, বাবা বলল আমি দেখলাম তুই ছবিতে কী করেছিস, ইউ আর প্লেইং জয়শ্রী (মা)। মা কিন্তু বুঝতে পারেনি। বাবা পেরেছে। আই ফাইন্ড দ্যাট সো রোম্যান্টিক অ্যান্ড বিউটিফুল।

শুনেছি আপনি গোয়ায় নিভৃতে বন্ধু এবং পোষ্যদের নিয়ে থাকেন। সেখানে আপনার প্রাক্তন আনন্দ গান্ধীও তাঁর পার্টনার নিয়ে থাকেন। বন্ধুত্ব, সম্পর্কে এই ব্যালান্সটা কী করে করতে পারলেন?

… এটা খুব শক্ত নয়, অকওয়ার্ড নয়। যদি তোমার ভালোবাসার ভিতটা কেবল রোম্যান্স না হয়। তুমি ভালোবাসতে কারণ তোমাদের ভাবনা-চিন্তা এক, পৃথিবীকে একভাবে বদলানোর স্বপ্ন দেখতে একসঙ্গে, তোমাদের সিনেমা, আর্ট, সাহিত্যকে দেখার ভঙ্গি এক, তোমরা একসঙ্গে গ্রো করতে চাইতে, তোমাদের মনের-মুখের ভাষা এক। এই জায়গা থেকে যদি ভালোবাসা হয় তা হলে প্রেমের সম্পর্ক না থাকলেও বাকিটা থেকেই যায়। বন্ধুত্ব থেকেই যায়। কেবল রোম্যান্স আর যৌনতাটা থাকে না। বাকিটা তো থাকেই। এত জটিলও নয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.