Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৬ জুন ২০২৬
Chitrangada Satarupa

‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সাইকেল চালানোও প্র্যাকটিস করেছি’, ‘অনেকদিন পর’ নিয়ে আড্ডায় চিত্রাঙ্গদা শতরূপা

শুধুই ভালো পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয় কেন এ কথা বললেন চিত্রাঙ্গদা শতরূপা? নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে নজরকাড়া কাজের পর তিনি বাংলা ছবিতে 'অনেকদিন পর'।

Advertisement
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬, ১৭:১৬

link
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬, ১৭:১৬

options
link
‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সাইকেল চালানোও প্র্যাকটিস করেছি’, ‘অনেকদিন পর’ নিয়ে আড্ডায় চিত্রাঙ্গদা শতরূপা zoom
‘অনেকদিন পর’ নিয়ে আড্ডায় চিত্রাঙ্গদা শতরূপা

‘ম্যায় অ্যাক্টর নেহি হুঁ’ ছবিতে আপনার আদ্যন্ত স্বাভাবিক অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত। মুম্বইয়ে লোকজনের ভালো লেগেছে। অথচ এই শহরে খুব বেশি দর্শক ছবিটি দেখেননি। স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে কিছু মানুষ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আক্ষেপ হয়?

নিজের শহরে, নিজের লোকেরা কাজ দেখলে সেটা বিশেষ অনুভূতি। ছবিটা এক সপ্তাহ হলে ছিল। ইন্ডিপেনডেন্ট ছবির প্রচার যেভাবে করা হয়, হয়তো সেইভাবে লোকের কাছে পৌঁছতে পারেনি, জানি না কী করেণ। আরও তারও বেশি লোক দেখলে ভালো লাগত। বম্বেতে প্রচুর মানুষ ভালোবাসা দিয়েছে। ফলে মনটা ভরে গিয়েছে। এই আক্ষেপ খুব বড়ভাবে দাগ কাটেনি। আশাবাদী যে একটা স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের পরে সবার যেমন প্রতিক্রিয়া ছিল, যে ছবিটা যখন ওটিটিতে আসবে অনেকে দেখবে। ডিস্ট্রিবিউটর, যাঁরা প্রেজেন্টর তাঁর যদি ইন্ডিপেনডেন্ট ছবিকে ঠিকঠাক সময়মতো স্লট দেন তাহলে মানুষ দেখতে পায়। ওটিটির অপেক্ষায় আছি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিলেন?

নওয়াজ স্যারকে টক্কর দেওন্যায় আমি কেউ নই (হাসি)। আমার চরিত্রটা নওয়াজ সারের চরিত্রকে উত্তর দিয়েছে। দুটো চরিত্রই পরস্পরকে উত্তর দিয়েছে। আমার মনে হয়, ছবিতে যনি একজন অভিনেতা প্রশংসিত হয় তাহলে দু’জন অভিনেতাই জমিয়ে অভিনয় করেছেন মনে হয়। টেনিস ম্যাচের যুগলবন্দির মতো। নওয়াজ স্যরের চরিত্র যেরকম ছিল উনি আমাকে অতটা স্পেস দিয়েছেন যে, আমি আমার চরিত্রটা যেন সততার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারি। উনি স্পেস না দিলে ওই অভিনয় করতে পারতাম না।

ভালো কাজের সুযোগ পেলে বাংলা ছবিতে কাজের ইচ্ছেপ্রকাশ

আবার বাংলা ছবিতে আপনি। যে ছবির নাম ‘অনেকদিন পর’। আসবে ২৬ জুন। কাজের নেপথ্যের গল্পটা কেমন?

‘অনেকদিন পর’ ছবিটা আমার কাছে খুব অদ্ভুত সময়ে অনেকদিন পরেই আসে। আমি বাংলায় শেষ কাজ করেছি জি-এর ওয়েব সিরিজ ‘মুক্তি’ তে, ২০২২ সালে। তার চার বছর পর এই ছবিতে অভিনয়। আমি তখন ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ম্যায় অ্যাক্টর নেহি র’ জন্য বেস্ট অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড গাই ডিসি সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। ঠিক তখনই জানতে পারি, আমি কাজ হবে। তখন নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে জানতাম। তখনই সৌরভ যোগাযোগ করে জানায়, আমাকে ওঁর ছবিতে কাস্ট করতে চায়। তারপর কলকাতায় এলাম। সোজা জিজ্ঞেস করেছিলাম, চারবছর ধরে আমার কাছে বাংলা থেকে প্রায় কোনও কাজ আসেনি। সেখানে আমাকে চাইছে কেন। ও আমাকে বলে, ১৩ বছর আগে মুম্বইয়ে আমার করা প্রথম নাটক ছিল মানব কলের ‘কালার ব্লাইন্ড’, দেখেছিল। স্টোতে কালকি কেকলাঁ, স্বানন্দ কিরকিরে এঁরা সবাই অভিনয় করেছিলেন। এটার শো হয়েছিল কলকাতায়, যেটা সৌরভ দেখেছে। সেই থেকে আমার কথা মনে ছিল। যদিও পরে ও ‘আহারে মন’ দেখেছে। এটা বলাতে আমার ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল, যদি নিজের কাজটা ঠিক করে করে যাও যার তোমাকে যে নোটিস করার সে ঠিক করবে। ছবিটির শুটিং হয় নভেম্বর মাস থেকে, খুব ভালো অভিজ্ঞতা।

নতুন ছবিতে চিত্রাঙ্গদা শতরূপা

যতদূর জানি, এই ছবির শুটিংয়ের সময় আপনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

হয়, ঠিকই। প্রেগনেন্সির সময় বলে, না সেকেন্ড ট্রাইমাস্টর, সেটা নাকি হানিমুন পিরিয়ড। তখন শরীরটা একটু বেটার থাকে। ইউনিভার্সকে অনেক ধন্যবাদ। সেই সময়ে শুটিং হয়, যখন একটু বেটার ফিল করছিলাম। তার আগে কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। শুটিং ফ্লোরে নিজেদের ইন্ডাস্ট্রি, নিজের ভাষায় কাজ করা, সেখানে অনেকদিন বাদে কাজ করে খুব ভালোই লাগছিল। আমি ডেফিনিটলি বলব যে, ‘এনআইডিয়াস প্রোডাকশন’ আর সৌরভের পুরো টিম যেভাবে আমার খেয়াল রেখেছে আমি কোনওদিন তুলব। সহ অভিনেতা-অভিনেত্রী ছিলেন, তাঁরা খুবই সিনিয়র, থিয়েটারের শিল্পীরা, তাঁরাও আমার প্রতি খুবই যত্নশীল ছিলেন। কত ছোট ছোট মুহূর্ত আমাকে ছুঁয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে খুবই স্মরণীয়।

Chitrangada Satarupa shares her experience working in Saurav Palodhi's Onekdin Por
সৌরভের নতুন ছবি

সাইকেল চালানো শিখেছেন শুনেছি। সৌরভ। পালোধির কাজ দেখেছেন আগে?

আমি একটু বড় বয়সেই সাইকেল চালানো শিখেছি। শেষ ২০১৪-তে চালিয়েছি। সৌরভ যখন বলে সাইকেল চালানোর কথা, তখন একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কারণ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্র্যাকটিস করতে গিয়ে যদি পড়ে যাই। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, পড়লে হবে না। সৌরভও আমাকে বলে, তুমি ঠিক পারবে। ইনফ্যাক্ট, ও একটা স্ট্যান্ডবাই সাইকেল রেখেছিল পিছনে হুইলওয়ালা। ওটা আর ব্যবহার করতে হয়নি। আমি সম্বিতকে (হাসি) বলেছিলাম একটু হেল্প করতে (হাসি)। ও টেন্সড থাকলেও ট্রেনার হিসাবে আমাকে গাইড করত। শুধু ভাবতাম, আমি যেন না পড়ে যাই। ভালোয় ভালোয় শুটিং হয়ে যায়। সৌরভের ‘অঙ্ক কি কঠিন’ দেখেছিলাম খুব ভালো লেগেছিল, আমি ওর নাটক ‘যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল’ দেখেছি।

ছবির যতটুকু ঝলক দেখেছি চমৎকার লাগছে। আপনার চরিত্রটা নিয়ে বলা যায়?

চরিত্রের নাম ‘মল্লিকা’। সে এমন জায়গায় কাজ করে যেখানে অনেক বয়স্ক মানুষ থাকে। ঠিক বৃদ্ধাশ্রম বলব না। কিন্তু বয়স্ক বন্ধুবান্ধব, চেনাজানা লোকজন, মিলে তার নিজেদের একটা জায়গা তৈরি করেছে, যাতে খরা শেষ বয়সটা একসঙ্গে থাকতে পারে। মল্লিকা সেখানে কাজ করে। সে যে বাড়ি থেকে আসে, সেই সেই বাড়ির পরিস্থিতি একটু আলাদা যেখানে কাজ করে সেখানের থেকে। এই যে দু’রকম পরিবেশ, সেই দুটো পরিবেশের মধ্যে এর অভিজ্ঞতা, সবার সঙ্গে ওর সম্পর্ক সব কিছু নিয়েই আমাদের ছবি ‘অনেক দিন পর’। মল্লিকা খুবই সাধারণ একটি মেয়ে। এর আগে আমি একটু কমপ্লিকেটেড চরিত্রই করেছি। তার থেকে মল্লিকা আলাদা। মল্লিকার মধ্যে অনেক ধৈর্য, আশা। বাকিটা জানতে গেলে ছবিটা দেখতে হবে।

Chitrangada Satarupa opens up about working on Onekdin Por ahead of its June 26 release
চিত্রাঙ্গদা শতরূপা

এর আগে প্রতিম ডি গুপ্তর বাংলা ছবিতে নজর কেড়েছেন। আপনার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে সংশয় নেই। আরও বেশি সুযোগ পাওয়া উচিত বলে মনে হয় না?

অবশ্যই (হাসি)। কিন্তু সুযোগটা তো আর দোকানে কিনতে পাওয়া যায় না। ওটা তোমার কাছে আসতে হয়। অনেক সময় হয়, তোমার কাছে যে সুযোগটা আসছে, তুমি কি সেই সুযোগটা গ্রইছ। কিন্তু তুমি যেটা চাইছ সেটা হয়তো তোমার কাছে আসছে না। এই সব ক্যালকুলেশন করতে করতেই অনেকটা সময় বেরিয়ে যায় জীবন থেকে। এতদিন যা কাজ করেছি ভাতে খুবই ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। শুধুই ভালো পারফর্ম করাটা যথেষ্ট নয় কাজ পাওয়ার জন্য। আরও অনেক কিছু আছে, সেটা নিজেই এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।

Chitrangada Satarupa discusses her journey in the upcoming Bengali film Onekdin Por
স্বামীর সাহায্য নিয়ে সাইকেল চালানোর ট্রেনিং

পাকাপাকি মুম্বইয়ে চলে গেলেন, না কি যাওয়া-আসা করেন?

২০১৩-তে পাকাপাকিভাবে মুম্বই চলে যাই। টানা চারবছর আমি দিয়েটার করি। তারপর আস্তে আস্তে স্ক্রিনের কাজ শুরু করি। কোভিডের সময় কলকাতায় চলে আসতে হয়। তখন একটু বাংলায় আাজ করা হচ্ছিল। তারপর আমি আবার মুম্বই চলে যাই। আসা-যাওয়া কাজের জন্য নয়, যেহেতু মা এখানে রয়েছেন এবং আমার বাড়ি। কলকাতায় এসেছিলাম যখন আমি অন্তঃসত্ত্বা, চেয়েছিলাম বাড়ির লোকজনের কাছে থাকতে। তখনই এই ছবিটা হয়। আমার ছোট্ট ছানা একটু বড় হলে মুম্বইয়ে যাব। কাজের ডাক পেলে আধার কলকাতায় আসব।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.