Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Ritabhari Chakraborty

‘সুমিত এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে চুমু খায়, আটকাতে পারিনি’, বলিউডি প্রেমিককে নিয়ে আগল খোলা ঋতাভরী

প্রেমদিবসে প্রথমবার প্রেমিক সুমিত অরোরাকে নিয়ে মুখ খুললেন ঋতাভরী চক্রবর্তী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫, ১৫:২৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫, ১৫:২৫

options
link
‘সুমিত এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে চুমু খায়, আটকাতে পারিনি’, বলিউডি প্রেমিককে নিয়ে আগল খোলা ঋতাভরী zoom

ঠিক কেমন ঋতাভরী চক্রবর্তী আর সুমিত অরোরার প্রেমের গল্পটা? ভ‌্যালেন্টাইনস ডে-র সময় প্রথমবার শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। শম্পালী মৌলিক

সেদিন ছিল তাঁর ক‌্যালেন্ডার লঞ্চের অনুষ্ঠান, সব কিছুর শেষে প্রাণ খুলে আড্ডা দিলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী। সুমিত অরোরার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতার কথা জানতে চাইলে এই প্রথমবার মনের আগল খুলে দিলেন অভিনেত্রী। কে এই সুমিত অরোরা? তিনি পেশাগতভাবে বলিউডের সঙ্গে যুক্ত, লেখক-পরিচালক। শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’-এর সংলাপ তাঁরই লেখা। এ ছাড়া ‘স্ত্রী’, ‘চন্দু চ‌্যাম্পিয়ন’, ‘দাহাড়’, ‘ফ‌্যামিলি ম‌্যান’-এর সংলাপ-ও তাঁরই লেখা। কবে থেকে শুরু ঋতাভরী আর তাঁর ভালোবাসার উড়ান? ভ‌্যালেন্টাইনস ডে-র সময় মনের কথা বললেন অভিনেত্রী।

Advertisement

সুমিত অরোরার সঙ্গে আলাপ কীভাবে?
– সেই সময় আমি ‘নেকেড’ বলে একটা শর্ট ফিল্ম করেছিলাম, ২০১৭ সালে। কালকি-ও ছিল ওটায়। ওই সময় সুমিতও একটা শর্ট ফিল্ম করেছিল, ‘হোয়াইট শার্ট’ বলে। যেটায় কৃতিকা কামরা আর কুণাল কাপুর ছিল। ওটা সুমিতের প্রথম পরিচালনা। কাকতালীয়ভাবে দুজনের ছবিটাই একই সময়ে এসেছিল। অনেক লিস্ট বেরিয়েছিল তখন, যে ‘টপ ফাইভ শর্ট ফিল্মস টু ওয়াচ আউট’। সেই সূত্রে আমি একদিন দেখি ওই নামটা। তারপর ওর নামে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাই ফেসবুকে।

তারপর?
– কিছু না ভেবেই অ‌্যাকসেপ্ট করেছিলাম। দু’জনেই আর্টিকলে নিজেদের নামটা দেখেছিলাম। একদিন ওই মেসেঞ্জারে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কি কলকাতাতেই থাকো? নাকি মুম্বইয়েও আসো মাঝে মাঝে?’ বলেছিলাম, আসি। ও তখন বলে যে, এলে তাহলে দেখা করলে ভালো হয়। আমার মাথায় ছিল, যদি কোলাবরেট করে কাজ করতে পারি। তখন বম্বে-কলকাতা মিলিয়ে থাকছি। সেই বছরেই আমি ‘পরি’-র শুটিং করি। এরপর বম্বে থাকাকালীন ভারসোভাতে ওকে মিট করি। চমৎকার সময় কেটেছিল, কারণ সুমিত খুবই বুদ্ধিমান। তবে আর কিছু ছিল না আমার তরফ থেকে।

Ritabhari Chakraborty

সত্যি বলছেন?
– হ্যাঁ, গো। বরং সুমিতের আমাকে ভালো লেগে গিয়েছিল। দেখা হওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ও আমার দিকে প্রেম-প্রেম চোখে তাকাতে শুরু করে। সেই সময় ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগলেও, বিশেষ কেউ ছিল না ও আমার কাছে। পরে বাড়ি আসার পরে মেসেজ করে যে, ‘খুব ভালো লাগল দেখা করে। আমি তোমার হাতটা ধরতে চাই’। এটা দেখেই আমি আতঙ্কিত হয়ে যাই। যে, কেন? সবে তো দেখা হল! তার পর কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম একবছর। যখনই মেসেজ করেছে ‘সিন’ করে ছেড়ে দিয়েছি। বা ইমোজি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। মনে হয়েছিল ভালো দেখতে কিন্তু এর গন্ডগোল আছে (হাসি)। তারপর আমার নিজের জীবনেও প্রেমের ওঠানামা গেছে, হাটব্রেক-ও হয়। তারপর একটু একটু করে সামলেছি নিজেকে। তখন ‘স্ত্রী’ রিলিজ করে। আর সুমিতকে নিয়ে সর্বত্র আলোচনা শুরু হয়ে যায়। ‘স্ত্রী’-র আগে ও সে অর্থে বিখ‌্যাত ছিল না। ‘স্ত্রী’-র সংলাপ খুব জনপ্রিয় হয়। মিডিয়া-তে ওকে নিয়ে লেখালিখি শুরু হয়, পুরস্কার অর্জন করে। ওর পোস্ট দেখতাম, সব যে নোটিস করেছি তাও নয়। যখন ডেনমার্কে ছিলাম, সোলো ট্রিপে, ‘বেটার টুগেদার’ গানটা এত ভালো লেগেছিল যে লুপে শুনছিলাম। মনে হল, কয়েকজনকে পাঠাই। সুমিতকেও পাঠিয়েছিলাম আর ‘স্ত্রী’-র জন‌্য কনগ্রাচুলেশন লিখেছিলাম। তাতে ও রিপ্লাই করেছিল যে, যখন কেউ মনে করে তার পছন্দের গান পাঠায়, একটা সুররিয়াল ফিলিং হয়। ওকে বলি যে, ডেনমার্কে আছি, ওর জন‌্য কিছু আনব কি না। বম্বে আসছি ও তখন লিখেছিল, ‘ব্রিং ঋতাভরী ফর মি।’ (হাসি)

মুম্বইয়ে মিট করলেন?
– হ্যাঁ, কিন্তু একটা উদ্দেশ‌্য ছিল। আমরা একটা স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম ‘আজাদ’ বলে, আমি চেয়েছিলাম, ও যদি সংলাপটা লেখে। সি ফেসিং যে নভোটেল আছে মুম্বইয়ে, ওখানে মিট করার কথা বলে ও। সুমিত কোনওদিন এমনি দেখা করেনি, সবসময় ডেট-এর মতো ভাবত। তারপর ওকে মিট করে স্ক্রিপ্টটা নিয়ে কথা বললাম। সেদিন কলকাতা ফেরার কথা। আমার তখনকার ম‌্যানেজার ম‌্যাডিও ওয়েট করছে। সুমিত বলেছিল এয়ারপোর্টে ড্রপ করে দেবে। যখন ওকে মিট করলাম, দেখলাম আমাদের গাড়িও এক। ‘অডি এ ফোর’ যেটা আমি কলকাতায় কিনেছিলাম, ব্ল‌্যাক কালার! মিটিংয়ের পর এয়ারপোর্ট যেতে যেতে আমরা জীবন নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম যে, সিঙ্গল কি না, কাজের কী অবস্থা ইত‌্যাদি। তখনই বললাম, যে হার্টব্রেক থেকে বেরিয়েছি। আই ওয়াজ টোটালি ইন লাভ উইথ সামওয়ান। ইট ডিড নট ওয়ার্ক আউট। যন্ত্রণা রয়েছে কিন্তু আমি মুভ অন করে গেছি, ওর কথাও জিজ্ঞেস করলাম। বলল, ‘ম‌্যায় জিস বন্দেকো পসন্দ করতা হুঁ উও তো ইয়ে অঙ্গরেজো মে ভটক গ‌্যয়ি। অব পতা নেহি উসে বুলাউঁ ক‌্যায়সে ওয়াপস’। বুঝলাম, ফ্লার্ট করছে। খুব কিউট। সেই প্রথম ওর ঝারি মারায় মাইন্ড করিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে, ওকে বাই করলাম, হি হাগড মি। আই হাগড হিম ব‌্যাক। আমাদের অত গভীর সম্পর্ক ছিল না। ডেটও করিনি আগে। কিন্তু সেই দিনের গভীর আলিঙ্গনে মনে হল বহুদিনের চেনা। খুব কষ্ট হচ্ছিল যে ওকে বাই বলতে হচ্ছে। তক্ষুনি ও একটু চুমু খায়, আমি আটকাতে পারিনি। উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রথমবার। তারপর নিজেই সুটকেস নিয়ে টলমলো পায়ে এয়ারপোর্টে ঢুকে যাই।

Actress Ritabhari Chakraborty

আর আজ যেখানে দাঁড়িয়ে…
– তার পরের ছ’বছর বদলে যাবে সেদিনই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ফ্লাইটে যখন বসে যাই, ও টেক্সট করে- ‘আমার ভাবনায় আসা বন্ধ করো, প্লিজ। কাজ করতে পারছি না।’ (হাসি) এটা সারাদিন চলে। তখন বলি, মাথা থেকে যখন আমাকে বের করতে পারছ না, তাহলে কলকাতায় এসো এবং ও চলে এল! সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ এক সপ্তাহ কাটালাম আমরা। ২০১৮ সাল, আমরা শান্তিনিকেতন গেলাম, ঘুরলাম। সব ও চিনল একটু একটু করে। আমি ডাবিংয়ে গেলাম আর ও একটু একটু করে ভিক্টোরিয়া, ফ্লুরিজ দেখতে শুরু করল, আমার চোখ দিয়ে প্রথম বারের জন‌্য। এরপরে আমি কেরালা ফেস্টিভ‌্যালে গেলাম। গিয়ে মনে হল, সুমিতকে আমি মাথা থেকে বের করতে পারছি না। তখন ও আমাকে মুম্বই যেতে বলে, ঠিক সেটাই করলাম। ওর সঙ্গে দেখা করলাম, যা হওয়ার হয়ে গেল। তবে আরেকটা কথা, এই ছ’ বছরে আমাদের দু’বার মেজর ব্রেক আপ হয়েছে, নানা কারণে। আমি যে অন‌্য একজনকে ডেট করেছি, সেটা সবাই জানত, ওকেও বলেছি। তারপর এমন একজনকে পেয়েছি, যে অত‌্যন্ত প্রেশাস। মেল অ‌্যাটেনশন বা কম্প‌্যানিয়নশিপ পাইনি যে তা নয়, কিন্তু সুমিতে আমার কাঁটা বিঁধে ছিল। প্রেমিক, কাছের মানুষ, বন্ধু যাই বলো। একবারের জন‌্যও ও আমাকে নিজেকে পালটাতে বলেনি। আমার ভুল-ত্রুটি নিয়ে ওর সামনে কোনও কিছু গোপনের নেই। এই মানুষটার সামনে পারফেক্ট থাকতে হবে না আমাকে। ওর ক্ষেত্রেও তাই।

Bengali actress Ritabhari Chakraborty

প্রেমদিবসে (আজ) কী প্ল‌্যান?
– আমি এখানে শুটিং করছি। আর ও দেরাদুনে সানি দেওলের সঙ্গে শুট করছে। কথা হল কী হবে, সবাই তো প্রেম করবে সেদিন, আমার তো খুব রাগ হবে? বলল–ভিডিও কল করব। আমি বললাম, ‘না, সে তো এমনিও করি।’ তখন অনেক ভেবে বলল দু’জন দু’জনকে চিঠি লিখব। আমি বললাম, তিন কলম লিখেও তো ছেড়ে দিতে পারো। ও বলল– ‘এ ফোর সাইজ লেটার লিখব। অব কেয়া ওয়ার্ড কাউন্ট বোলুঁ?’ ডায়লগবাজ একটা। (হাসি)

সামনে আর কী কাজ?
– মার্চে আমার ‘গৃহস্থ‌’ ছবিটা আসবে, মৈনাকের পরিচালনায়।
এছাড়া মৈনাকের পরের ছবি ‘বাৎসরিক’ করছি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.