কথায় আছে, ‘নামে কি আসে যায়?’ কিন্তু এই নামের জেরেই আইনি বিপাকে পড়তে হল মনোজ বাজপেয়ীকে! বৃহস্পতিবারই দিল্লি হাই কোর্টে অভিনেতার আসন্ন সিনেমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার ভিনরাজ্যেও আপত্তি উঠল মনোজের আগামী ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat Controversy) নিয়ে। অভিযোগ, এহেন নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। আর সেই মর্মেই কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন সিনেমার নাম ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নিয়ে জোড় আইনি বিতর্ক। বুধবারই নেটফ্লিক্সের তরফে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ শীর্ষক সিনেমার ঘোষণা করা হয়। আর তার একদিনের মাথাতেই দিল্লির উচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করেন মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে জনৈক ব্যক্তি। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, আইনজীবী বিনীত জিন্দালের মারফৎ ইতিমধ্যেই সিনেনির্মাতাদের কাছে আইনি নোটিস পৌঁছেছে। এমনকী বলিউডের ফিল্ম সংগঠনের তরফেও ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামের জেরে। এবার এই ছবির নামে আপত্তি তুললেন যোগী আদিত্যনাথ। খবর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লখনউতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, সিনেমার নাম এবং বিষয়বস্তুতে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের আভাসও রয়েছে ছবিতে। যোগীরাজ্যের পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক আপত্তি ওঠার পরই হজরতগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর ট্রেলার দেখে অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার পরই হজরতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিক্রম সিং এফআইআর দায়ের করেন। স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই পুলিশ পরিচালক, প্রযোজক-সহ ছবির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। যোগীরাজ্যের পুলিশ আধিকারিকের কথায়, এহেন পদক্ষেপের একটাই উদ্দেশ্য- সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে জনৈক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার মনোজ বাজপেয়ীর সিনেমার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, পণ্ডিতের কেন সঙ্গে ‘ঘুষখোর’ শব্দটি রাখা হল? এতে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের অপমান করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই মামলাকারী ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ণ ও শিক্ষাদানে নিবেদিত একজন আচার্য। আর সেই প্রেক্ষিতেই সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়ে অপমানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “‘পণ্ডিত’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে পাণ্ডিত্য, নীতিশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক নির্দেশনার প্রতীক। আর সেটাকেই কিনা সিনেমার শিরোনামে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হল! এটা তো ন্যায়সংহিতার ১৪, ২১ এবং ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে।” দিল্লির পর এবার উত্তরপ্রদেশেও পরিচালক নীরজ পাণ্ডে, অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন সিনেমা ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ আইনি বিপাকে।