রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেখা যাচ্ছে বাংলার বাইরে থেকে নামী পরিচালক-প্রযোজকরা পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। শুটিংয়ের জন্য পছন্দের গন্তব্য হিসাবে বরাবর ব্যাংলার জায়গা ছিল, কিন্তু পদ্ধতিগত সমস্যা ও নানা কারণে ভিন রাজ্যের চিত্র নির্মাতারা পিছিয়ে যেতেন। এবার শুটিং-ফ্রেন্ডলি পরিকাঠামো পাওয়ার আশায় বলিউড এবং দক্ষিণী নির্মাতারা আবার কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে অনুপম খের বাংলা ছবি প্রযোজনায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে অনুপম ও ফিরদৌসুল হাসান প্রযোজিত ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’-র শুটিং।
জুলাই মাসেই শহরে মণি রত্নমের ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই মণি রত্নম লোকেশন রেকি করে গিয়েছেন। তাঁর ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় বিজয় সেতুপতি ও সাই পল্লবী। আর নিশ্চিত ভাবেই বাংলার কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকবেন। সূত্রের খবর আপাতত ছবির নাম ‘মাত্রাজ টকিজ প্রোডাকশন নাম্বার ২৩’। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে জুলাই-এর তৃতীয় সপ্তাহে শুটিং শুরু। ছবির ক্যামেরার দায়িত্বে অভীক মুখোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:

মণি রত্নম শেষবার কলকাতায় শুটিং করেছিলেন ‘যুবা’-র সময়, সেটা ছিল ২০০৩ সাল। সেক্ষেত্রে বলা যায় দীর্ঘদিন পর কলকাতায় ছবি নিয়ে ফিরছেন ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি। সাম্প্রতিক খবর, বলিউড পরিচালক সুধীর মিশ্র, মহাত্মা গান্ধী যে সময়টা কলকাতায় কাটিয়েছিলেন সেই সময়কাল ধরে একটি ছবি করছেন। মনোজ বাজপেয়ীকে দেখা যাবে গান্ধীর চরিত্রে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে সৌরভ শুক্লা। কলকাতায় সেপ্টেম্বরে শুটিং শুরুর কথা।

বলিউড থেকে আরও কয়েকজন অভিনেতাও যুক্ত হবেন ছবিতে। আর কলকাতায় পার্পল মুভি টাউন স্টুডিওতে। ইতিমধ্যে শিল্পীদের অডিশন হয়েছে। কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্বে ছিলেন প্রীতিময় চক্রবর্তী। তবে শারীরিক কারণে তিনি প্রোজেক্ট থেকে সরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সুমন সেনের দ্বিভাষিক ছবি, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্রোডাকশন ‘একা’-র শুটিং শুরু হয়েছে এখানে। যেখানে প্রধান চরিত্রে রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরা ও মোনা সিং।
কিছুদিন আগেই বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের পরিচালনায় রাজকুমার রাওকে নিয়ে সৌরভগঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের শুটিংও হয়ে গেল শহরে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গেও শুটিং বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় ছবির শুটিং-ও হয়েছে সাম্প্রতিক কালে। ফেডারেশন এবং গিল্ড ইত্যাদির ভয় তথ্য চাপের পরিবেশ চলে যেতেই বাইরের প্রযোজকরা বাংলায় আগ্রহী হচ্ছেন।

এত সংখ্যক স্থানীয় টেকনিশিয়ান নেওয়ার বাধ্যবাধকতা চলে যাওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন নির্মাতারা এমনটাই মনে করা হচ্ছে। টলিউডের উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিতেও রয়েছেন রাজ্যের বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। তিনি বলছেন, “যখন আমাদের সরকার গঠন হয়, তখন প্রথম বক্তব্যতেই বলেছিলাম কোনও ব্যান কালচার থাকবে না। একে পাইয়ে দিতে হবে, ওকে নেওয়া যাবে না, এসব চলবে না। হিন্দি থেকে শুরু করে ভারতের যে কোনও ভাষায়, এমনকী, হলিউডের লোকজন এসেও এখানে শুটিং করতে পারবেন নির্দ্বিধায়।”

আরও প্রতিশ্রুতি, “কেউ অশান্তি করলে, আমার ফোন নম্বর সকলের কাছে আছে। আমি পাশে থাকব, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে। শিল্পী, কলাকুশলীরা যেন মুক্তমনে কাজ করতে পারেন। কাউকে তোলা দিতে হবে না, চাঁদা দিতে হবে না, কাটমানিও না। সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করুক। এই তো পরিচালক সুমন সেনের কাজ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান প্রোডাকশনের সঙ্গে। তেমনি পরিচালক সুধীর মিশ্রর প্রোজেক্টের কথাও শুনলাম। এগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন সবাই কাজ করবেন এখানে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কামারহাটি পুরসভায় চেয়ারম্যান পদে লকেটের ভাই! কীসের ভিত্তিতে? রিপোর্ট তলব শমীকের
-
‘বন্ধু ভারতকে কৃতজ্ঞতা’, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে অংশ নেওয়ায় বার্তা ইরানের
-
রণবীর নাকি মহেশবাবু? ‘বারাণসী’ ছবির অভিনেতার লুক ফাঁস হতেই নেটভুবনে ট্রেন্ডিং শ্রীরাম!
-
আমিরের মতো বারবার নতুন মানুষে আসক্তি! নেপথ্যে অভিজ্ঞতার তৃষ্ণা? জানাচ্ছেন মনোবিদরা
-
দোরগোড়ায় শ্রাবণ মাস, আকন্দ গাছ ঘরে রাখলে রুষ্ট হতে পারেন মহাদেব! কী বলছে বাস্তু?