আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘হ্যাটট্রিক ইয়ার’। একজন স্বাধীন বাঙালি মহিলা পরিচালকের কাছে এটি নিঃসন্দেহে বিরাট প্রাপ্তি। ২০২৪-এ নবাগতা নির্মাতা হিসেবে প্রথম বাংলা সিনেমা ‘পুতুল’-এর প্রদর্শন, পরের বছর কানের মঞ্চেই লঞ্চ করেছিলেন ‘ইকোস অফ ভেলর’। তৃতীয়বার ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চ শোভিত করলেন অস্কার-মনোনীত বাঙালি পরিচালক। সৌজন্যে পরবর্তী ছবি ‘আ টেল অফ টু ওম্যান’। যেখানে অভিনয় করছেন টলি ক্যুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী ছায়া কদম।
যাঁরা সিনে দুনিয়ার খবর রাখেন, সিনেমা দখতে ভালোবাসেন তাঁরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গিয়েছেন কার কথা বলছি। হ্যাঁ, তিনি আর কেউ নন, খাস কলকাতার মেয়ে ইন্দিরা ধর মুখোপাধ্যায় (Indira Dhar Mukkherjee)। ১৬ মে, শনিবার কানে লঞ্চ হয়েছে তাঁর আগামী ছবি ‘আ টেল অফ টু ওম্যান’। যা দেখে উচ্ছ্বসিত কানে উপস্থিত ভারতীয় থেকে বিদেশি গুণীজনেরা। স্ক্রিনিংয়ের পর কান থেকে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তৃতীয় বর্ষে তাঁর অনবদ্য অভিজ্ঞতার কাহিনি।
আরও পড়ুন:
ইন্দিরা বলেন, “ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ যিনি আমাকে এমন ছবি বানানোর শক্তি দিয়েছেন যা আন্তর্জাতিক স্তরে মান্যতা পায়। আমি ভীষণভাবে পরিবার কেন্দ্রিক একজন মানুষ। বাইরের জগতের সঙ্গে আমার বিশেষ সংযোগ নেই। ইন্ডাস্ট্রির পার্টিতেও আমাকে খুব একটা দেখা যায় না। কানে আসার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই সব কিছু বলার ঊর্ধ্বে। এই বছর আমি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে কানে এসেছি। ২০২৬ কানের মঞ্চে আমার হ্যাটট্রিক। প্রথমদিন থেকেই ছবির স্বার্থে কানে পা রেখেছি, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। আমি কিন্তু, একজন স্বাধীন পরিচালক। নিজের ক্ষমতায় ছবি বানাই। কানে প্রদর্শিত হবে বলে কিন্তু ছবি বানাইনি। পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয় সেটা পরিচালক হিসেবে আমার পরম সৌভাগ্য।”

ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হয়েছে ‘আ টেল অফ টু ওম্যান’। সেই আনন্দ উদযাপনের সময় নস্ট্যালজিক বঙ্গললনা ইন্দিরা। ফিরে গেলেন ২০২৪-এ ‘পুতুল’-এর মাধ্যমে সাফল্যের সিঁড়িতে পা রাখার সেই বিশেষ মুহূর্তে। আবেগে ভেসে অস্কার মনোনীত পরিচালক ইন্দিরার সংযোজন, “কানে আমার বানানো প্রথম বাংলা ছবি ‘পুতুল’-এর স্ক্রিনিং হয়েছে ইন্ডিয়ান প্যাভিলিয়নে, অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছে। নবগতা পরিচালক এর থেকে বেশি আর কীই বা চাইতে পারে! কানের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু। তাই কান চলচ্চিত্র উৎসবের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। গত বছর কানের মঞ্চেই লঞ্চ হয়েছিল আমার আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘ইকোস অফ ভেলর’। ২০২৬-এর শেষেই মুক্তি পাবে। আর আমার তৃতীয় ছবি যার জন্য এবারের কানযাত্রা সেটা হল ‘আ টেল অফ টু ওম্যান’।”

আরও যোগ করেন, “ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ছায়া কদমের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করলাম। ‘ইকোস অফ ভেলর’ যদি বাংলায় বানাতাম তাহলে ঋতুদিকেই কাস্ট করতাম। সিনেমাটা যখন কানে লঞ্চ করলাম হল পুরো কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। সিনেমার পোস্টার থেকে স্টোরি লাইন, প্রত্যেকে প্রশংসা করেছেন। ভারতীয় ছবি বিশ্বের দরবারে এভাবেই সমাদৃত হোক সেটাই তো একমাত্র চাহিদা। সকলের ভালোবাসা আশীর্বাদ নিয়ে যেন আমার প্রতিটি ছবি সফল হোক।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
-
নীতি আয়োগের বৈঠককে সামনে রেখে বাংলার শিক্ষা খাতে বড়সড় রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু
-
তৃণমূলের আসল দাবিকার কে? মমতা ও ঋতব্রতদের চিঠি কমিশনের, সোমবারের মধ্যেই জবাব তলব