অল্প বয়সেই সাফল্যের সিঁড়ি চড়েছিলেন। কিন্তু, মাত্র বাইশেই স্বপ্নভঙ্গ, থমকে গেল পথচলা। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়ালের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সঞ্চিতা উগালে। কুড়ি সালের ‘অভিশপ্ত’ জুন মাসেই মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের। ছ’বছর বাদে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কাকতালীয়ভাবে সুশান্ত আর সঞ্চিতার মৃত্যুদিনও এক, ১৪ জুন। তরুণী অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সঞ্চিতার মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রির অমানবিক আচরণ, কেরিয়ার বাঁচাতে অভিনেত্রীদের আপস করতে বাধ্য করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আঁচল খুরানা। এবার সঞ্চিতার মৃত্যুতে প্রাক্তন প্রেমিক উজ্জ্বল শর্মাকে কাঠগোড়ায় তুললেন কাছের বন্ধু ইন্দ্রাক্ষী কাঞ্জিলাল। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে কাজের মাধ্যমে ছোট পর্দার দর্শকের একেবারে ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার ও প্রিয়জনেরা। ইন্দ্রাক্ষীর অভিযোগ, প্রেমিকের দ্বারা প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “সাজ ঘর সিরিয়ালে কাজ করার সময় উজ্জ্বল ওঁর সহঅভিনেতা ছিলেন। ব্যক্তিগতজীবনে সঞ্চিতার উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতেন। কয়েকদিন পর আমাদের দেখা করার পরিকল্পনা ছিল। একটা শুটিংয়ে আমাদের প্রথম দেখা। এরপর ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। ও যখন সাজন ঘর সিরিয়ালে সুযোগ পায় তখন আমি কোরিয়ায় ছিলাম। ওঁর জন্য খুব খুশি হয়েছিলাম। এবছর কোরিয়া থেকে ফিরে ওঁর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু, ব্যস্ততার জন্য হয়নি। দু’মাস আগে আমি একটা কাস্টিং কল পাই। সাজন ঘর-এ নতুন মুখ প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে আমি সঞ্চিতাকে মেসেজ করি।”
এরপর কী কথা হয়েছিল দুজনের? প্রয়াত অভিনেত্রী কী জানিয়েছিলেন তাঁর বন্ধুকে? সেদিনের কথা উল্লেখ করে ইন্দ্রাক্ষীর সংযোজন, “ও বলল শো ছেড়ে দেবে। উজ্জ্বল প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন করছে। আমাকে সেসব স্ক্রিনশট আর ভিডিও-ও দেখিয়েছিল। সেই মুহূর্তে এতটাই খারাপ লেগেছিল যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। প্রযোজনা সংস্থাকে বিষয়টা জানাতে বলেছিলাম। ও বলল, সব করেছে কিন্তু, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উজ্জ্বল সঞ্চিতাকে নিয়ে যে ধরণের অশালীন শব্দ প্রয়োগ করত তা শুনে আমি তাজ্জব বনে যাই। উজ্জ্বল ওঁর থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেটা ফেরত চাইলে অপমান তো করতই সেই সঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল।”
View this post on Instagram

সঞ্চিতার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি হাতড়ে বলেন, “ওঁর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল যখন মহাবালেশ্বরে গিয়েছিল। আমি ওকে আমার বাড়িতে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু, রাজি হয়নি। এতটাই মানসিক যন্ত্রণায় ছিল যে সাজন ঘরের শুটিংয়েও যায়নি। ওকে খুব মিস করব। যখনই ওঁর সিরিয়ালের ক্লিপিংগুলো দেখছি চোখে জল চলে আসছে।” অন্যদিকে সঞ্চিতার মৃত্যুতে মুখ খুলেছেন তাঁর ভাইও। কাস্টিং এজেন্টের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।

আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মোদির প্রস্তাবনায় সায় দিয়েছিল ১৭৭ দেশ, কেন ২১ জুনই পালিত হয় আন্তর্জাতিক যোগদিবস?
-
রচনা আউট, স্বস্তিকা ইন! ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর নতুন সঞ্চালক নিয়ে সরগরম টেলিপাড়া
-
‘মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছি’, কেদার-বদ্রীর পৌরাণিক পুরোহিত পথ জিতে নজির হিমালয়ান উইজার্ডের
-
যোগীরাজ্যে নজরে মাদ্রাসা, এবার বাধ্যতামূলক আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা!
-
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত! এবার ‘বোরখা’ মন্তব্যে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের