১ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘আমার বউ সুপারওম্যান’, খোলাখুলি আড্ডায় বললেন অর্জুন

Published by: Bishakha Pal |    Posted: May 28, 2019 5:36 pm|    Updated: May 28, 2019 8:55 pm

An Images

বললেন অর্জুন চক্রবর্তী। সব্যসাচী চক্রবর্তীর ছোট ছেলে এভাবেই এনজয় করছেন তাঁর ফ্যামিলি লাইফ। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ মুক্তির মুহূর্তে আড্ডায় কোয়েল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

২০১৮-য় ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’। ২০১৯-এ ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’। ছবি মুক্তি পেল সম্প্রতি। তা, অর্জুন চক্রবর্তী ওরফে আবিরলাল রায় বলুন, আগের থেকে এই ছবিতে কী বদলেছে?
অর্জুন: আমি বলব, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার-ড্রামা-রোম্যান্স সব কিছুরই ডবল ডোজ ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’। এটা আরও জমকালো, আরও রাজকীয়।

গুপ্তধনের সন্ধানে’ তো বক্স অফিসে কামাল দেখিয়েছিল। এবার ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ নিয়ে কতটা আশাবাদী? ওপেনিং রেসপন্স তো ফাটাফাটি!
অর্জুন: ‘গুপ্তধনের…’ অন্য গল্প ছিল। ‘দূর্গেশগড়…’ অন্য গল্প। শুধু মূল চরিত্রগুলো এক। প্রথম ছবিটা প্ল্যান করার সময়ই ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা ভেবে রাখা হয়েছিল। জানাই ছিল, এই সিরিজে অন্তত তিনটে ছবি হবেই। হ্যাঁ, ছবি তৈরি করার সময় তো বোঝা যায় না, সেটা হিট হবে না ফ্লপ! ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ ভাল স্ক্রিপ্ট ছিল, ছবিটাও ভাল তৈরি হয়েছিল, তাই ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল। সে জন্যই সকলে চেয়েছিলাম, ‘গুপ্তধনের…’ থেকে ‘দুর্গেশগড়…’ আরও বেটার হবে। একটা কথা বলব? এই ফ্র‌্যাঞ্চাইজির জন্য আমার কাছে প্রথম ফোন কলটা আসে অরিন্দম শীলের কাছ থেকে। জানতাম, অরিন্দমদা এই ছবির সঙ্গে জড়িত। তার পর ছবিতে আবিরদা (আবির চট্টোপাধ্যায়) আছে, এসভিএফ প্রযোজনা করছে-সব শুনে বেশ কমফর্টিং লেগেছিল। তার পর পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গল্প শুনে তো আই ওয়াজ বোল্ড ওভার!

আচ্ছা, অর্জুন চক্রবর্তী কী দেখে ছবি নির্বাচন করেন?
অর্জুন: দেখি, গল্পে আমার চরিত্রের গুরুত্ব কতটা। সেটা সবসময় স্ক্রিন টাইম দেখে নয়। যেমন এই গল্পে সোনাদা প্রধান চরিত্র হলেও আমার ‘আবিরলাল রায়’ এবং ইশার (ইশা এম সাহা) ‘ঝিনুক’ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিন জনকে ছাড়া ‘গুপ্তধনের…’ ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দাঁড়াবে না। তা ছাড়া গল্প কেমন, পরিচালক কে, প্রযোজক কে? পরিচালকের সঙ্গে আমার ওয়েভলেন্থ ম্যাচ করছে কি না, পরিচালকের ভিশন ক্লিয়ার কি না-এমন অনেক কিছুই ম্যাটার করে।

গোয়েন্দা গল্পে অভিনয় করছেন। আপনার মধ্যে এই সত্তাটা কতটা আছে?
অর্জুন: প্রথমেই বলব ফেলুদা বা ব্যোমকেশ বকশির মতো সোনাদা কিন্তু গোয়েন্দা নয়। সোনাদা বেড়াতে গিয়ে ঘটনাচক্রে অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পড়ে। এমনিতে গোয়েন্দা গল্প পড়তে বা গোয়েন্দা ছবি দেখতে আমার ভালই লাগে। আর তাছাড়া কোন বাঙালি ফেলুদা, ব্যোমকেশের ফ্যান নয়, বলতে পারেন? বেশিরভাগ বাঙালিই এই দু’জনেরই ফ্যান। আমিও তাই।

[ আরও পড়ুন: উর্মিলাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মন্তব্য, আটক প্রৌঢ় ]

আবির চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পর পর কয়েকটা ছবিতে অভিনয় করলেন। আপনার সঙ্গে আবির ওরফে সোনাদার র‌্যাপো বাস্তবে কেমন?
অর্জুন: অসম্ভব ভাল। এই ইন্ডাস্ট্রিতে বেস্ট কেমিস্ট্রি আমার আর আবিরদার। তা সেই বাড়ি থেকে একসঙ্গে স্পটে যাওয়াই বলুন বা ছবির প্রিমিয়ারই বলুন-আবিরদার সঙ্গে আমার কমফোর্ট জোনটাই আলাদা। আর সেটাই পর্দায় ফুটে ওঠে। ২০১৫ সালে আমরা একসঙ্গে ‘যদি লাভ দিলে না প্রাণে’ করেছিলাম। সেখানেও কিন্তু আবিরদার চরিত্রের নাম ছিল ‘সোনাদা’। (হাসি) তার পর ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’-তে ও ‘সোনাদা’ আবীরদা আর আমি আবীরলাল, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’তে ও ব্যোমকেশ আর আমি সত্যকাম, আবার ‘দূর্গেশগড়…’-এ আমরা সেই সোনাদা আর আবীরলাল! সকলেই বলছেন, আমাদের কেমিস্ট্রিটা পর্দায় দারুণ ক্লিক করে। সেটা দাদা-ভাই হোক বা হিরো-ভিলেন! আমাদের ব্রোমান্সটা বেশ জমেছে! (হাসি)

‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ এবং ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ আদপে থ্রি মাস্কেটিয়ার্সএর গল্প। গুপ্তধনের সন্ধানে গেলে আপনি কাকে বাছতেন?
অর্জুন: এই ছবির ক্ষেত্রে বলতে গেলে আবিরদা আর ইশাই থাকবে। তবে অন্যভাবে বলতে গেলে…(একটু ভেবে) আমি দু’জন সবচেয়ে ইন্টেলিজেন্ট মানুষকে নিয়ে যেতাম। এক ফেলুদা, আর দুই ব্যোমকেশ।

আপনার পরিবারেই তো সেই দু’জন রয়েছে। বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তী বড়পর্দায় ‘ফেলুদা’ আর দাদা গৌরব ছোটপর্দায় ‘ব্যোমকেশ’। ওঁদের নিয়েই কি যাবেন?
অর্জুন: যেতেই পারি। (হাসি)

অর্জুন চক্রবর্তীর চোখে তাঁর সেরা তিন কাজ কী কী?
অর্জুন: একটু অন্যভাবে উত্তর দেব। নিজের কাজকে সেরা না বলে, বরং বলব পর্দায় নিজেকে কোন চরিত্রে দেখে আমার ভাল লেগেছে। সেটা হল, এক, ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার টু’, আর ‘যদি লাভ দিলে না প্রাণে’।

আর দর্শকদের থেকে সেরা প্রশংসা কী পেয়েছেন?
অর্জুন: দর্শকদের থেকে মিক্সড রিভিউজই পাই। যদিও বেশিটাই পজিটিভ। তবে ফ্যামিলি মেম্বাররা অনেকসময় নেগেটিভ দিকগুলোও ধরিয়ে দেয়। যেমন আমার মা, বাবা, স্ত্রী, দাদা।

আপনার কাজের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা কে করে?
অর্জুন: সব থেকে অনেস্ট আমার বউ, সৃজা। ও সবসময়ই আমাকে উৎসাহ দেয়। ওঁর যদি মনে হয়, এই দিকটা আমার ইমপ্রুভ করা দরকার, সবচেয়ে আগে ও-ই আমায় বলবে। বাবা সবসময় খুব রিজার্ভড। খুব বেশি কিছু বলেন না। কিন্তু ‘ব্যোমকেশ গোত্র’র সময় প্রিমিয়ারে গিয়ে, চারদিকে সবার মুখে আমার কাজের প্রশংসা শুনে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন, “ভাল লাগে। খুবই গর্ব হয় তোমার জন্য”। ওটা আনএক্সপেক্টেড ছিল। কখনও ভুলব না।

[ আরও পড়ুন: এবার ওয়েব সিরিজে ফুটে উঠবে রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড ]

আপনার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটা পোস্ট নজর টানল। স্ত্রী, সৃজার সঙ্গে এক্সারসাইজের ভিডিও পোস্ট করেছেন। সঙ্গে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ফিট পেরেন্টস, বেটার পেরেন্টস’। ব্যাখ্যা করা যাবে?
অর্জুন: ফিটনেস ব্যাপারটা আসলে আমার এবং সৃজা, দু’জনের কাছেই অক্সিজেনের মতো। বরাবরই আমরা এটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে এসেছি। আর আমি আবার ফুটবল-পাগল। আমার চোখে আদর্শ শারীরিক গঠন একজন ফুটবলারের। আমি আর সৃজা দু’জনেই শরীরচর্চার উপর জোর দিই। সেটা জিমে এক্সারসাইজ করাই হোক বা সুইমিং। তাই আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলাম যে ‘ফিট পেরেন্টস, বেটার পেরেন্টস’-আমি জানতাম, কখনও না কখনও এটা নিয়ে কথা উঠবেই। কিন্তু আমি কখনওই এটা বলতে চাইনি যে, যাঁরা জিম করেন না, তারা ভাল বাবা-মা নন। আমি নিজে কখনও আমার মা-বাবাকে জিম করতে দেখিনি। তাই বলে কি ওঁরা আমাদের মানুষ করেননি? সেটা কখনওই নয়। আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, শরীরচর্চা করা আমাদের পছন্দ। আমরা মনে করি, ফিটনেসটা জরুরি। ফিজিক্যাল ফিটনেস মানসিকভাবেও খুব সাহায্য করে। যে কোনও কাজ ভাল হয়। আর এই মুহূর্তে আমাদের কাজ বলতে পেরেন্টহুড। আমরা সেটা ভাল করে করতে চাই।

তা, অর্জুন, অভিভাবকত্ব কতটা এনজয় করেছেন?
অর্জুন: হ্যাঁ, উপভোগ তো করছিই। (হাসি) তবে এই অভিভাবকত্বের ৯৯ শতাংশ দায়িত্বই সৃজা পালন করে। ও অবন্তিকাকে (মেয়ে) বড় করতে নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিয়েছে। দেখুন, আমরা যে ইয়ং পেরেন্ট, তাড়াতাড়ি বিয়ে করেছি, কম বয়সে মা-বাবা হয়ে গিয়েছি, এটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। কিন্তু আমি সকলকে বলতে চাই, এই এজ গ্রুপের প্রতিনিধি হয়ে সৃজা যা করছে, সেটা সুপারওম্যানের থেকে কিছু কম নয়। নিশ্চয়ই আমার মা-বাবা, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, আর সকলের মা-বাবাই করেন। অনেকে অনেকভাবে কষ্ট করেন সন্তানকে বড় করে তুলতে। কিন্তু আমি চোখের সামনে আমার বউকে দেখেছি, যে আগে আমার প্রেমিকা ছিল-যে দিন নেই রাত নেই, সমানে এত পরিশ্রম করে চলেছে। আমি বাড়ির বাইরে শুটিংয়ে ব্যস্ত, আর ও নিজের কাজকর্মকে ‘অন হোল্ড’ রেখে, পুরোপুরি নিজেকে ঢেলে দিয়েছে অবন্তিকাকে বড় করতে। এটা কেউ পারবে না। সৃজা আমাদের পরিবারের সুপারওম্যান।

ছবি : শুভেন্দু চৌধুরি

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement