এর আগের ছবি ২০২৪-এ ‘বুমেরাং’। প্রায় দু’বছর পর আসছে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। আপনার ছবির সংখ্যা এত কম কেন?
এটা ভাগ্যের খেলা। ভাগ্যক্রমে হয়েছে। আমি তো চাই বছরে দু’-তিনটে করে আমার সিনেমা আসুক। এই গ্যাপটা হয়ে গেল। ব্যক্তিগতভাবে চাই না এটা হোক। আমি চাই মানুষের সঙ্গে আমার সিনেমার মাধ্যমে যে মধুর সম্পর্ক সেটা বছরে অন্তত দু’-তিনবার করে দেখা হোক। এতদিন হয়ে ওঠেনি, আশা করি আগামী দিনে ঘন ঘন দেখা হবে, ফ্রিকোয়েন্টলি সিনেমা করব।
আরও পড়ুন:
তা হলে কি জিৎ বছরে একটা ছবি করার সিদ্ধান্ত বদল করলেন?
না, আমি সেটা কখনওই চাইনি। বিভিন্ন কারণে হয়ে ওঠেনি। কখনও গল্প পছন্দ হয় না বা অন্য কোনও কারণ চলে আসে। এক-একবার এরকম হয়েছে যে, ছবি ঘোষণা করার পর ছবি হয়নি।
জিৎ নিজের লুকস নিয়ে প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে আপনার ন’টা লুক কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
আমার কাছে এটা চ্যালেঞ্জের থেকে বেশি অপরচুনিটি মনে হয়েছিল। আমাদের অভিনেতাদের কাছে একটা জীবনকালের মধ্যে অনেকগুলো জীবন বেঁচে নেওয়াটা একটা প্রাপ্তি। সেখানে একটা সিনেমার মধ্যেই আমি ন’টা জীবন বাঁচার সুযোগ পেয়েছি। এটা বাড়তি পাওনা। ন’টা লুকের জন্য আমার মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু এবং কসটিউম ডিজাইনার সঞ্চিতার অবদান অনস্বীকার্য।
অনন্ত সিংহর বায়োপিক করতে রাজি হলেন কেন?
আমার কাছে এই বায়োপিকের গল্প নিয়ে আগেও কয়েকজন এসেছিল। কিন্তু পথিকৃতের মতো করে কেউ বলেনি। গল্প শুনে আমার মনে হয়েছিল অনন্ত থেকে যাবে। অভিনেতা হিসেবেই আমি অনন্তকাল থেকে যেতে চাই।
অভিনেতা না হলে কোন পেশা বাছতেন?
আমি অভিনয় ছাড়া কিছু পারি না। কিছু বুঝি না। এখন পিছন ফিরে তাকালে মনে হয়, আমি হয়তো অভিনয় ছাড়া কিছুই করতে পারতাম না।
কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে আপনি ছিলেন। বিশেষ কোনও সমীকরণ?
আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর আগে ২০১১-তে তৃণমূল সরকারের শপথ গ্রহণেও আমি গিয়েছিলাম। তখনও ছিলাম। এবারেও গিয়েছি। সরকার বা কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেই রাজনীতিতে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষুদ রানিংয়ের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে দেখা তো করতেই হবে। এখন একটা টিডিং ইস্যু চলছে। সরকার এখনও সিনেমা বিভাগে ঠিক মানুষকে অ্যাপয়েন্ট করতে পারেনি। যাকে ধরলে আমাদের ওয়ানস্টপ সলিউশন হবে। ততদিন তো দেখা-সাক্ষাৎ
চলতেই থাকবে।
সরাসরি রাজনীতিতে যোগদান বা রাজ্যসভার প্রস্তাব পেলে গ্রহণ করবেন?
আমার কাছে এর আগে এরকম অফার যে আসেনি তা নয়। আমি রাজনীতি বুঝি না। তাই এখনও অবধি এই ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। তবে ভবিষ্যতের কথা আমরা কেউ জানি না।
জিৎ কী প্রচার বিমুখ?
প্রচারের ভিন্ন ধরন থাকে। আমার সিনেমা এলে আমি চাই, ‘সবাই জানুক আমার কাজের ব্যাপারে’। আমি ঠিক জানি না স্টারদের নিজেদের সম্পর্কে মানুষকে জানাতে গেলে ঠিক কী করতে হয়। আমাকে সংবাদমাধ্যমকে ধরে বলতে হবে, আমার ইন্টারভিউ নিন। না, এটা পারব না। আমি অধিক কথা বলতে চাই না। পাবলিক ফিগার হওয়া সত্ত্বেও আমি ভীষণ প্রাইভেট পার্সন। আমি খুব ছোট থেকে শুনে এসেছি যে জিনিস সহজলভ্য তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। তাই আমি সেই আকর্ষণটা জিইয়ে রাখতে চাই।
ফেডারেশনের প্রেট কালচার, ব্যান কালচার নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। বেশ কিছু প্রযোজকও ব্যবসার ক্ষতির বিষয়ে সরব হয়েছেন। অভিনেতা-প্রযোজক জিতেরও কি ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে?
যা হয়ে গেছে তা অতীত। এখন আর বলে কী হবে? তবে পুরো ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে আমিও ছিলাম। তাই ইন্ডাস্ট্রির অ্যাফেক্টেড হওয়ার মধ্যে আমরা সবাই পড়ি। এখন সময় বদলেছে। এই পরিবর্তন যেন সু-পরিবর্তন হয়। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে আর কোনও সমস্যা যেন ফেস করতে না হয়।

‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। ডেট পিছিয়েছে। দেবের ছবি আসার কথা ছিল। সেই ছবি সরে গিয়ে আপনার ছবি আসছে। কী বলবেন, হেলদি কমপিটিশন?
এখানে কমপিটিশনের কোনও প্রশ্নই আসছে না। ‘নন্দী মুভিজ’-এর সঙ্গে যখন আমরা প্রথম কথা বলেছিলাম, তখন এই ছবিটি স্বাধীনতা দিবসে মুক্তির কথা বলা হয়েছিল। কারণ, এটি সবদিক থেকে স্বাধীনতা দিবসের জন্য প্রাসঙ্গিক। দেবের ছবি কেন পিছিয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সে বিষয়ে প্রযোজনা সংস্থা বলতে পারবে। একদিক থেকে ভালো, একটাই বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে। বাকি হিন্দি ছবির সঙ্গে লড়াই করতে হবে।
দেব এবং আপনার ফ্যানেদের মধ্যে সব সময় একটা লড়াই দেখা যায়। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
আমি সবাইকে বলব কোনও লড়াই কোরো না। প্রথম দিকে প্রসেনজিৎ বনাম জিৎ বলা হত। এখন দেব বনাম জিৎ বলা হয়। এরপর হয়তো জিৎ বনাম অন্য কাউকে বলা হবে। মাঝখানে মিঠুনদা ভার্সেস জিৎ-ও বলা হয়েছে। আমার কাছে বাংলা সিনেমার মানই শেষ কথা। ভালো সিনেমা হলে কে কার ফ্যান তার ঊর্ধ্বে উঠে সিনেমা হল-এ গিয়ে সিনেমা দেখা উচিত। সেটা দেব-জিৎ যারই ছবি হোক না কেন।

সম্প্রতি অনেক ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্লক বুকিংয়ের বিষয়টা। এবং প্রভাব খাটিয়ে ফেক বক্স অফিস কালেকশনও দেখানো হয়। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আমি কখনও এর অংশ হতে পারিনি। তাই মন্তব্য করতে পারব না। তবে আমিও এ বিষয়ে অনেক শুনেছি। এটুকু বলব, একটু ট্রান্সপ্যারেন্সি বজায় রেখে স্ট্যাটেজি বানানো উচিত।
আপনার একটি সংলাপ, ‘সিংহকে ফিরে আসতে হয়…’ এই ভাবে বাংলা ছবির হাল ফেরানো সম্ভব?
অফকোর্স সম্ভব। ‘সাথী’ প্রচুর মানুষকে হলমুখী করেছিল। একটা ভালো ছবি ইন্ডাস্ট্রির ভাগ্য বদল করে দিতে পারে।
সম্প্রতি মণি রত্নম কলকাতায় শুট করলেন। বেশ কিছু বলিউড বা দক্ষিণের ছবিও কলকাতায় শুট হওয়ার কথা। ইন্ডাস্ট্রির কতটা ভালো হবে বলে আপনি মনে করেন?
যত কাজ আসবে, তত মানুষের রোজগারের জায়গা তৈরি হবে। সেই কারণে এই বিষয়টা সুন্দরভাবে মেনটেন করা উচিত। আমাদের রাজ্যের অ্যাপ্রোচ ওয়েলকামিং হওয়া উচিত। বাইরের মানুষ কলকাতায় এসে কাজ করলে কলকাতার সৌন্দর্য, কলকাতার চালচিত্র তাদের চোখে ধরা পড়বে।

বলিউডে কাজের কোনও আপডেট?
এখনও নয়। ‘খাকি’র পর এখনও কিছু আপডেট নেই। যখন হবে নিশ্চয়ই জানাব (হাসি)।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তুমি তো কখনই…’, অমিতাভকে এড়িয়ে যান প্রীতি! অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ বিগ বি’র
-
‘যেখানে খুশি যান, পুলিশকে সময়মতো জানাবেন, নিরাপত্তা পাবেন’, মমতাকে অনুরোধ শুভেন্দুর
-
লাটে সরকারি নির্দেশিকা! তারস্বরে ডিজের তালে তীর্থযাত্রীদের ‘ভোলেবাবা পার করেগা’
-
আইসি ক্লোজ ও আইও সাসপেন্ড, তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে হালিশহরে গিয়ে ‘অ্যাকশন’ শুভেন্দুর
-
‘যৌন হেনস্তার অভিযোগ মিথ্যা ও আরোপিত’, ব্রিজভূষণের ঢাল হয়ে জানাল দিল্লির আদালত