সদ্য মুক্তি পেয়েছে রামচরণ, জাহ্নবী কাপুর ও শ্রুতি হাসান অভিনীত দক্ষিণী ছবি ‘পেড্ডি’। মুক্তির আগে থেকেই সিনেমার দৃশ্যায়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিগ বাজেটের এই ছবি শুধুই শরীর কেন্দ্রীক! ছবিতে একজন মহিলাকে ‘পণ্য’ হিসেবে প্রতিস্থাপনের অভিযোগে সরগরম নেটভুবন। জাহ্নবীর বক্ষবিভাজিকা থেকে সৌষ্ঠব কোমর এমনভাবে পরিবেশন করা হয়েছে যা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে হলমুখী দর্শক। এবার এই ইস্যুতে নিজের মতামত পেশ করলেন বলিউডের ‘ক্যুইন’ কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)।
এই মুহূর্তে আপকামিং ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’র প্রচারে ব্যস্ত অভিনেত্রী। সেখানেই উঠে এসেছে ‘পেড্ডি’ বিতর্ক। আর কঙ্গনা যে স্বস্তঃস্ফূর্ত বলিষ্ঠ মতামত পেশ করেন সেটা বলাই বাহুল্য। দর্শকের মনোরঞ্জনে যৌনতার মোড়কে অভিনেত্রীদের ব্যবহার প্রসঙ্গে কী বললেন? কঙ্গনার মতে, শুধু সিনেমায় নারীদের ‘পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা এমনটা কিন্তু নয়। এটি সমাজের বৃহত্তর একটি সমস্যা বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন:

সমাজে নারীদের অবস্থান ও তাঁদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে কঙ্গনার যুক্তি, “আপনি যদি লোকাল ট্রেনে যান সেখানেও নারী শরীরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে । তাই শুধু সিনেমায় নারীদের পণ্য হিসেবে দেখানো হয় এমন কথা বলা ভুল। লোকাল ট্রেনে ধাক্কাধাক্কি, অসৌজন্যমূলক আচরণ, বাসে কিংবা রাস্তাঘাটেও মহিলারা এমন ঘটনার শিকার হন। এধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা শুধু সিনেমার পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নয় তা বলাই বাহুল্য।”

একইসঙ্গে কঙ্গনা স্বীকার করেছেন, সিনেমার স্বার্থে অভিনেত্রীদের অনেকবেশি খোলামেলাভাবে পরিবেশন করা হয়। এই মর্মে ‘ক্যুইন’ কঙ্গনার সংযোজন, “সিনেমার সাফল্যের জন্য অনেক সময় নারীদের প্রতি কিছু অন্যায় অবিচার করা হয়। সেক্সি-সেক্সি মুঝে লোগ বোলে বা সরকাইলো খাটিয়ার মতো আইটেম গানগুলোই তার উদাহরণ। অনেক সময় প্রলোভন, অশালীনতা এবং নারীদের প্রতি অবিচারের সীমারেখা পেরিয়ে যায়। সেটা কখনও সচেতনভাবে তো কখনও আবার অচেতনভাবেও। আসলে এটাই বিনোদন জগতের চেনা ছবি।”
আরও বলেন, “আমার মনে হয় বিতর্ক তৈরির চেয়ে প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। অনেকেই গল্পের প্রেক্ষাপট না জেনেই কেবল কিছু দৃশ্যের সমালোচনা শুরু করে দেন। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যৌনতাও কিন্তু, গল্প বলার একটা উপাদন। সিনেমা শিক্ষাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক নয়। মানুষ সিনেমা দেখে বিনোদনের জন্য।”

ট্রোল প্রসঙ্গে কঙ্গনার সপাট জবাব, “সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয়, আজকাল যে কোনও বিষয়ে যে কেউ ট্রোলের শিকার। আমরা আগে জানতে চাই না বিষয়টি আসলে কী, গল্পের প্রেক্ষাপট কী। হয়তো সেই চরিত্র বা পরিস্থিতির সঙ্গে কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেসব না ভেবেই শুধু কটাক্ষ করা হয়। এটা মোটেই কাম্য নয়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রোম্যান্সের টানে ‘টিন্ডারে’ হানিট্র্যাপের খপ্পরে মহিলা বিচারক, ৫২ লাখ খুইয়ে পরিচারিকাকে দিয়ে FIR
-
বিতর্ক পেরিয়ে প্রকাশ্যে ‘কালা হিরণ’-এর টিজার, সলমন-লরেন্স বিষ্ণোই ‘রিল’ চরিত্রের কী নামকরণ?
-
মীনাক্ষীর আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে, রাজ্যসভার কং প্রার্থীর মামলায় হস্তক্ষেপ করল না আদালত
-
তৃণমূল-সহ একাধিক দল ‘গ্রাস করে’ অখণ্ড কংগ্রেস! ২০২৯ ভোটের আগে নতুন ছক রাহুল গান্ধীদের?
-
বালের্ডির বদলি ঘোষণা আর্জেন্টিনার, বিশ্বকাপে হঠাৎ সুযোগ পেয়ে আবেগঘন সেনেসি