মায়ানগরীর সিনেপাড়ায় সলমন খান থেকে সইফ আলি খান-সহ বহু মুসলিম তারকা পরিবার গণেশ চতুর্থী উদযাপনে সামিল হয়েছিলেন। বলা ভালো, এটা বলিউডের চেনা ছবি। অন্যদিকে দক্ষিণী সিনেদুনিয়ায় ধর্মীয় গোড়ামি বিদ্যমান। সম্প্রতি পদ্মভূষণপ্রাপ্ত মালায়ালি মামুত্তির কপালে তিলক বিতর্কই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলাম ধর্মাবোলম্বী হয়েও কেন কপালে তিলক এঁকেছেন, এই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ অভিনেতা।
সম্প্রতি গুজরাটে অনুষ্ঠিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘ব্রহ্মযুগ’ ছবির জন্য সম্মানিত হন। মঞ্চে এক মহিলা কপালে তিলক এঁকে স্বাগত জানানোর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড়। এহেন পরিস্থিতিতে মামুত্তির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা হরিশ্রী ইউসুফ। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মামুত্তির পরনে সাদা শার্ট ও ক্রিম রঙা প্যান্ট। পুরস্কার বিরতরণী অনুষ্ঠানে পৌঁছাতেই ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয় অভিনেতাকে।
আরও পড়ুন:
এরপর এক মহিলা তাঁর কপালে তিলক এঁকে দিয়ে গলায় তেরঙা থোর্থু (কাঁধে পরার কাপড়) পরিয়ে দেন। হাসিমুখে এই আপ্যায়ন গ্রহণ করেন মামুত্তি। পুরস্কৃত হওয়ার পর শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন আর শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, নিন্দুকেরা আনন্দ উদযাপনে সামিল না হয়ে মামুত্তিকে ধর্মীয় আক্রমণ শানিয়েছেন। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন তিলক পরানোর অনুমতি দিলেন?
সমালোচকদের প্রশ্নের জবাব দিতে আসরে নেমেছেন হরিশ্রী ইউসুফ। ইনস্টাগ্রামে লেখেন, অধিকাংশ মালয়ালি যখন এই তারকার সাফল্য উদযাপন করছেন, তখন কিছু মানুষ তিলক আঁকার বিষয় নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্ত। এমনকি তিনি একটি নির্দিষ্ট মন্তব্যের উল্লেখ করে সেই মন্তব্যকারীকে ‘কুয়োর ব্যাঙ’ কটাক্ষও করেছেন। সমালোচকদের ধর্মীয় জ্ঞান বিতরণের করে ইউসুফ বলেন, ভারতে একই ঈশ্বরের উপাসনা করার অনেক রকম পদ্ধতি রয়েছে।
View this post on Instagram
আরও বিশদে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনি ক্রস আঁকুন, তিলক লাগান, অথবা মাথা নত করে প্রার্থনা করুন সবকিছুই ঈশ্বরের উদ্দেশেই করা হয়। এটি আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে।’ তাঁর মতে, অতিথিকে স্বাগত জানানোর একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি হিসেবেও তিলক ব্যবহার করা হতে পারে। ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্য নয় বরং একজন মানুষকে আরও ভালো মানুষ হয়ে উঠতে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবহার করা উচিত।
মামুত্তির সমালোচককে ইউসুফের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘এ ধরনের মানসিকতা সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করতে পারে। ভারত একটি মহান দেশ। আপনার মতো মানুষই সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করেন। ভবিষ্যতে আর এমন কিছু করবেন না।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী