পাভেলের সঙ্গে আপনার প্রথম কাজ ‘ডাক্তার কাকু’। যখন এই ছবি শুরু হয়েছিল তখন পাভেল নতুন। রাজি হওয়ার মূল কারণ কী?
– এই ছবিটা আমরা শুরু করেছিলাম প্যান্ডেমিকের আগে। আমি ভালো চরিত্র খুঁজে বেড়াই। খুব কম ধরনের চরিত্র আছে যেগুলো আমার কাছে আসেনি। স্ক্রিপ্ট শুনে মনে হয়েছিল এই চরিত্র আমার করা হয়নি। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া আছে। পাভেলের লেখার মধ্যে একটা আধুনিকতার ছোঁয়া আছে। বাবা-ছেলের গল্প। এমন ধরনের চরিত্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দুটো মানুষের বিশ্বাসের ওপর ছবিটা দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমি হ্যাঁ বলেছিলাম।
এখনও বিশ্বাস রাখতে পারেন?
– বিশ্বাস করতেই হবে। বিশ্বাস মূল ভিত্তি। সৃজিত মুখোপাধ্যায় যখন নতুন ছিল তখনও আমি কাজ করেছি। নতুন প্রজন্মের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে ফেলেছি বলে এখনও আমি টিকে আছি।
“আমার বয়স বেড়েছে, পরিণত হয়েছি। তাই ওইগুলো ধরলে আমি কোনও পজিটিভ কাজ করতে পারব না। আমি সোশাল মিডিয়া দেখি না।”
আরও পড়ুন:
আপনি বললেন খুব কম চরিত্র আছে যেগুলো এখনও আপনার করা হয়নি। কোন চরিত্রের জন্য এখনও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ইগারলি ওয়েটিং?
– আমার হাতে এখনও সময় আছে। অফার আসেনি বলব না। এসেছে, আমি হ্যাঁ বলিনি। সেটা ‘গডফাদার’।
আপনাকে টলিউডের অভিভাবক বলা হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু সময় কটাক্ষ আসে, সেগুলো কতটা প্রভাব ফেলে?
– কোনও প্রভাব ফেলে না। কাজের জায়গা হোক বা পারিবারিক ক্ষেত্রে, সবাইকে খুশি করা যায় না। পঁয়তাল্লিশ বছরের কেরিয়ারে এটা আমি বুঝেছি। আমার বয়স বেড়েছে, পরিণত হয়েছি। তাই ওইগুলো ধরলে আমি কোনও পজিটিভ কাজ করতে পারব না। আমি সোশাল মিডিয়া দেখি না। নেগেটিভ জিনিস এড়িয়ে, পজিটিভিটি ছড়িয়ে দেওয়াতে বিশ্বাসী।
সোশাল মিডিয়া এখন প্রচারের একটা বড় অংশ। সোশাল মিডিয়ায় না থাকা অসুবিধা মনে হয় না?
– আমার টিম দেখে। আমি নিয়মিত দেখি না। সোশাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্ত গত কয়েক বছর। আগে কি সোশাল মিডিয়া ছিল? এখনও আমি শহরতলিতে গেলে এক লক্ষ, দেড় লক্ষ লোক আসে। এমন মানুষ আসেন যাঁরা সোশাল মিডিয়া সম্পর্কে অবগত নন। অনেক বয়স্ক মানুষও আসেন। তাঁরা ছুটে আসেন কেন? থেকে যায় শুধু সিনেমাটা। আমি সিনেমাতেই বিশ্বাসী।
“পজিটিভিটি ফেরাতেই হবে। শুধুমাত্র টলিউডে নয়, সারা বিশ্বের ক্ষেত্রে বলছি।…”
সম্প্রতি উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আপনি বলেছেন, ‘যৌথ পরিবারের তরফ থেকে প্রণাম’। টলিউডের যৌথ পরিবারকে বেঁধে বেঁধে রাখা কতটা কঠিন?
– অবশ্যই কঠিন। এখন একান্নবর্তী পরিবার প্রায় দেখা যায় না। যৌথ পরিবারে অনেক সদস্যের মধ্যে মনোমালিন্য হতে পারে। অনেক বাসন একসঙ্গে রাখলে ঠোকাঠুকি হতে পারে। তেমনই আমরা চেষ্টা করি সেগুলো পরিবারের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলতে। পজিটিভিটি ফেরাতেই হবে। শুধুমাত্র টলিউডে নয়, সারা বিশ্বের ক্ষেত্রে বলছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কিন্তু কিছু কেয়ার করে না। তাদের বেড়ে ওঠার জন্য পজিটিভিটি দরকার।
সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ এক ফ্রেমে। উত্তমকুমার মিলিয়ে দিলেন। এই দৃশ্য এর আগে খুব একটা চোখে পড়েনি। এটা কি টলিউডের নতুন সমীকরণ? সুদিন ফিরছে, না কি নেপথ্যে শুধুই বক্স অফিসের হিসেব?
– শুধু আমরা কেন? যিশু, আবির, অঙ্কুশ। অন্যদিকে মিঠুনদা, রঞ্জিতদা, দীপকদা, আমার বাবা– সবাই ছিলেন। সুদিন আমাদের আছেই। একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব এটাই আমাদের রীতি। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলি না। কিন্তু এখন সেটাকে অন্যরকমভাবে পরিবেশন করা হয়। সিনেমার ক্ষেত্রটা আনন্দের জায়গা। সেটা সেরকম ভাবেই যেন রাখা হয়।
“আমরা এ বছর ঠিক করে নিয়েছি, যাদের পুজোয় ছবি নেই তারা সবাই একসঙ্গে পথে নামব। সবাই সবার ছবির পাশে থাকব। ব্যবসা বাড়াতে গেলে আমাদের একজোট হতেই হবে।…”
এবারও দুর্গাপুজোয় একাধিক ছবি রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে পুজো রিলিজে হল পাওয়া নিয়ে অনেক সমস্যা হয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে আসরে ছিলেন আপনি। এই বছর সেই সম্ভাবনা কমবে বলে মনে হচ্ছে?
– পুজোর সময় একাধিক ছবি আসছে। আমার এই বছর পুজোয় ছবি নেই। আমি আশাবাদী সব ছবি মিলিয়ে এবার আমাদের রেকর্ড ব্রেকিং ব্যবসা হবে। আমরা এ বছর ঠিক করে নিয়েছি, যাদের পুজোয় ছবি নেই তারা সবাই একসঙ্গে পথে নামব। সবাই সবার ছবির পাশে থাকব। ব্যবসা বাড়াতে গেলে আমাদের একজোট হতেই হবে। হলের সমস্যা থাকবে। কেউ একটু বেশি হল পাবে, কেউ একটু কম পাবে। হল সমস্যা ব্যালান্স করা যায়। আসলে আমার কতটা খিদে সেটা বুঝতে পারলেই সমস্যার সমাধান হবে। বেশি খেলে তো বদহজম হয়ে যাবে।
মিশুকের বাবা এবং বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ, কে আপনার কাছে সেরা?
– আমার কাছে আগে অবশ্যই মিশুকের বাবা। তবে আমি আমার বাবাকে নিয়ে সেন্সেটিভ। আমি চাই আমার ছেলের জন্য আমি একদিন গর্ববোধ করি। কুড়ি বছর পরে কেউ বলুক তৃষাণজিতের বাবা ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মিশুককেও ওই ভাবে কাজ করতে হবে।
উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আপনি আগলে রেখেছিলেন। আপনার বাবার সঙ্গে এখন সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে?
– আমি আগলাইনি। আমার বন্ধুরাই পুরো দেখভাল করছিল। শুধু আমার বন্ধুরাই নয়, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী থেকে সবাই বর্ষীয়ান অভিনেতাদের অসম্ভব সম্মান দিয়েছেন। বাবার সঙ্গে এখন সম্পর্ক পুরোটাই ভালো।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার দেখা করা রাজনীতির জল্পনা উসকে দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
– আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অরাজনৈতিক সাক্ষাৎ করেছি। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ নিয়ে কথা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা যেটা করতে চান আমরা পাশে আছি। আর অন্য কোনও অ্যাজেন্ডা ছিল না। সরকার বা মুখ্যমন্ত্রী কিছু মানুষকে জানেন যারা পরম্পরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সেই জায়গা থেকে যে যে দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হচ্ছে আমরা চেষ্টা করছি। অভিনেতা, টেকনিশিয়ান, প্রযোজক সবার মধ্যে মেলবন্ধন রাখাটাই উদ্দেশ্য।
“বাইশ-তেইশ বছরের ছেলেমেয়েরা আমার ওই সময়ের গানে রিলস বানাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার চোখে জল এসে যায়।…”
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় আটের দশকের ট্রেন্ড ভীষণভাবে ভাইরাল। যদি সুযোগ থাকত ২০২৬-এর প্রসেনজিৎ আটের দশকের প্রসেনজিৎকে কী পরামর্শ বা উপদেশ দিতেন?
– আটের দশকের আমার ছবির গানগুলো এখনও তুমুল জনপ্রিয়। বাইশ-তেইশ বছরের ছেলেমেয়েরা আমার ওই সময়ের গানে রিলস বানাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার চোখে জল এসে যায়। আমাদের আটের দশকের ম্যানারিজম নিয়ে অনেক মজা করা হত। কিন্তু জেন জি-রা আমাদের ছুড়ে ফেলেনি। এটা আমাদের কাছে পাওনা। ২০২৬-এ এসে আটের দশকের প্রসেনজিৎকে বলব, ‘তোমরা বেঁচে গেছ, কারণ তখন সোশাল মিডিয়া ছিল না। সোশাল মিডিয়ায় তোমরা নিজেদের এক্সপোজ করোনি।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নজরে উপনির্বাচন! রেজিনগর-নন্দীগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি
-
পার্টিতে মদ্যপানের প্ল্যান? আগে খেয়ে নিন এই খাবারগুলি, হ্যাংওভার সামলানো হবে সহজ
-
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেরুয়া ছোঁয়া, দায়িত্বে মিঠুন-প্রসেনজিৎ, কবে উদ্বোধন?