ধর্ম নিয়ে কোনওদিনই ছুঁৎমার্গে ভোগেন না সলমন খান। কখনও সিনেমার মাধ্যমে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন তো কখনও বা আবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুলে দুস্থদের সাহায্য করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আদতে মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী। সেই সলমন খানকেই দেখা গেল আরএসএসের অনুষ্ঠানে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শততম বর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে দু’দিনের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার ওই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন সলমন। এছাড়া হেমা মালিনী, রণবীর কাপুরকেও ওই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। বলিউডের ‘ভাইজান’কে প্রশংসায় ভরালেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কলেজ পড়ুয়ারা সলমন খানের ফ্যাশন অনুকরণ করেন। কিন্তু কেন তারা তা করে? কলেজ পড়ুয়ারা সাফ জানান,সলমন করেন বলেই তাঁরাও এই ফ্যাশন অনুকরণ করেন। এভাবেই সলমনের উচিত সামাজিক মূল্যবোধকেও ফ্যাশন বা ট্রেন্ডে পরিণত করা।
স্বাভাবিকভাবেই কড়া নিরাপত্তার মাঝে আরএসএসের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন সলমন। তাঁকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেখানে উপস্থিত প্রায় সকলেই। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতও যথেষ্ট খুশি হন। তিনি বলেন, “কলেজ পড়ুয়ারা সলমন খানের ফ্যাশন অনুকরণ করেন। কিন্তু কেন তারা তা করে? কলেজ পড়ুয়ারা সাফ জানান,সলমন করেন বলেই তাঁরাও এই ফ্যাশন অনুকরণ করেন। এভাবেই সলমনের উচিত সামাজিক মূল্যবোধকেও ফ্যাশন বা ট্রেন্ডে পরিণত করা।”
এদিন মোহন ভাগবতের বক্তব্যে আরএসএসের আসল কাজ কী, তা-ও উঠে আসে। তাঁর কথায়, “আরএসএসের কাজে একেবারেই ব্যতিক্রমী। এই ধরনের কাজ বিশ্বের কোথাও আর হয় না। বর্তমানের ভারতের নানা প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অনেকে আরএসএসের কাজ দেখতে আসে। ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকা থেকে আসা অনেকেই আরএসএসের কাজের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন আরএসএসের কাজের পদ্ধতি তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক। গৌতম বুদ্ধের পর সম্ভবত ভারতীয় ইতিহাসে কোনও সর্বভারতীয় প্রচেষ্টা এমন বিপুল সাফল্য পায়নি।” তিনি বারবারই আরএসএস সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আরএসএসের কাজ নিজের জন্য নয়। পুরো ভারত এবং দেশের মানুষের জন্য। কারও সঙ্গে বিরোধিতা না করে কাজ চালিয়ে যাওয়াই আরএসএসের লক্ষ্য। জনপ্রিয়তা বা ক্ষমতা কোনওটাই খোঁজে না আরএসএস।”
এদিকে, সলমন খানের আরএসএসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত আরএসএসকে নিশানা করেছেন। তাঁর মতে, “হয় ভিড় টানতে কিংবা মুসলমানরাও আরএসএসের অনুষ্ঠানে স্বাগত এই বার্তা দিতেই সলমনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” সরাসরি সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতকে শিবসেনা নেতার প্রশ্ন, “এটা কি মুসলমান বিরোধী রাজনীতির অঙ্গ?” যদিও এই বিষয়ে আরএসএস প্রধান কিংবা সলমন খানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।