Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
LPG crisis

গ্যাস সংকটে ভূরিভোজে রাশ টলি তারকাদেরও! কী বদল এল নায়িকাদের হেঁশেলে?

বাকি পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জ্বালানী সংকটে দুশ্চিন্তায় টলিউডের তারকারাও। কীভাবে দিনযাপন করছেন তাঁরা? হেঁশেল সামলাচ্ছেনই বা কী করে?

Advertisement
অরণী ভট্টাচার্য
অরণী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ২০:০৫

link
অরণী ভট্টাচার্য
অরণী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ২০:০৫

options
link
গ্যাস সংকটে ভূরিভোজে রাশ টলি তারকাদেরও! কী বদল এল নায়িকাদের হেঁশেলে? zoom
ছবি: গ্রাফিক্স দ্বারা নির্মিত।

জ্বালানি সংকটে (LPG Crisis) হেঁশেলে প্রভাব পড়েছে আমজনতার। বাঙালির পঞ্চব্যঞ্জনে ভূরিভোজ সারার রীতিমতো শিকেয় উঠেছে বলা যায়। ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে শহরের একাধক নামী রেস্তরাঁর। গ্যাস সিলিন্ডার বাড়িতে উপলব্ধ না থাকলে কেউ কেউ আবার ভরসা করছেন বিদ্যুতের সাহায্যে চলা ইন্ডাকশন ওভেন বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের উপর। কিন্তু যাঁদের সেই উপায়ও নেই তাঁরা পড়েছেন অথৈ জলে। বাকি পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জ্বালানী সংকটে দুশ্চিন্তায় টলিউডের তারকারাও। কীভাবে দিনযাপন করছেন তাঁরা? হেঁশেল সামলাচ্ছেনই বা কী করে? এই ঘটনার কতটা প্রভাব পড়েছে তারকাদের জীবনে? তারই খোঁজ নিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।

এপ্রসঙ্গে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “আমি যেহেতু একান্নবর্তী পরিবারে থাকি তাই আমাদের বাড়িতে রান্নাবান্নার একটা বড় বিষয় রয়েছেই। অনেক পদ রান্না হয়। আমরা এখন রান্নায় এককথায় রাশ টেনেছি। খাবারের পদ কমিয়ে এনেছি। এই মুহূর্তে আমার শাশুড়িমা বাড়িতে নেই। বাইরে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি হয়তো এতে সহমত হতেন না। উনি রোজ বহু পদ রান্না করেন। একাধিক ভাজাভুজি পদ রান্না করেন। আর ভাজাভুজি রান্না করতে যেহেতু অনেকটা গ্যাস খরচ হয় তাই সেসব এখন বাড়িতে রান্না কমিয়েছি। দুই পদ রান্না করেই সারছি যাতে জ্বালানীটা সঞ্চয় করতে পারি। বাকি আর পাঁচটা মানুষের মতোই আমি উদ্বিগ্ন কারণ আমি নিজেও একজন সাধারণ মানুষ। সংকট দেখা দিলে প্রশাসন যদি অনুমতি দেয় তাহলে কাঠকয়লায় রান্না করতেও হতে পারে। বাড়িতে যদিও ইন্ডাকশন ওভেন আছে কিন্তু সেভাবে আমরা ব্যবহার করি না। প্রয়োজন পড়লে সেটাও ব্যবহার করতে হবে।”

Advertisement
অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য, ফাইল ছবি।

দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালেও। অভিনেত্রী বলেন, “আমার দুই বাড়িতে কোথাও কোনও সিলিন্ডার নেই। আমি লক্ষ্য করিনি প্রথমে। আমি কাল জানতে পারি যে বাড়িতে সিলিন্ডারে গ্যাস নেই। বাড়িতে অনেক সদস্য, বাচ্চাও রয়েছে। তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়াটা সবার আগে জরুরি। একটা জিনিস বুঝে গিয়েছি ম্যানেজ করতে হবে সবটা। উত্তেজিত হলে কিছু হবে না। আমার গৃহ সহায়িকাকেও আমি এই কথা বলে চলেছি একটা রান্না একটা ভাত, এভাবেই ম্যানে করতে হবে সবটা। খাবারটা নিঃসন্দেহে ভীষণ দরকারি, কিন্তু খাবারের নামে আমরা যে বিলাসিতাটা করি সেটা বন্ধ করতে হবে। গ্যাসের অভাবে যদি সবাই মিলে ইন্ডাকশনে রান্না করি তাহলে এতটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে তো? একটা সময় এটাতেও টান পড়বে না তো? এটাও কিন্তু ভাবার বিষয়। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে একটু মাথা ঠান্ডা রেখে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। শুটিং সেটেও এর প্রভাব পড়েছে। আমাদের আগের দিন ‘রান্নাঘর’র শুটিংয়ে কাঠকয়লায় ফ্লোরের সকলের জন্য রান্না হয়েছে।”

অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি: সোশাল মিডিয়া।

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “আমি যেহেতু একান্নবর্তী পরিবারে থাকি তাই আমাদের বাড়িতে রান্নাবান্নার একটা বড় বিষয় রয়েছেই। অনেক পদ রান্না হয়। আমরা এখন রান্নায় এককথায় রাশ টেনেছি। খাবারের পদ কমিয়ে এনেছি।

রূপাঞ্জনা বলেন। “গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না। বুকিং সত্বেও গ্যাস পাইনি। শেষে রাতুল গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এল। এটাই একটা যুদ্ধের প্রভাব বলা যায়। রাইস কুকারে কিছুটা রান্না করার চেষ্টা করার চেষ্টা করছি। করোনাকালে তো এভাবেই সবটা ম্যানেজ করেছি। কাজেই সেটাই মাথায় রেখেই চলছি। ভাবছি যে যাঁদের বাড়িতে একটা করেই সিলিন্ডার তাঁরা কীভাবে কাজ চালাচ্ছেন এটাই ভাবছি। অনেকেরই এখনও একান্নবর্তী পরিবার। সেখানেও খুব সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁর ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। সবটা মিলিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার সময় কাটাচ্ছি। যুদ্ধের প্রভাব আর কী কী ভাবে আমাদের জীবন বিপন্ন করতে পারে সেটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেই মনে হচ্ছে।”

অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র, ছবি: সোশাল মিডিয়া।

অভিনেত্রী স্নেহা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার সৌভাগ্য যে আমার হেঁশেলে এখনও অবধি এর প্রভাব পড়েনি। ডাবল সিলিন্ডার রয়েছে। একটা শেষ হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে বুক করে দিতে হবে। এরসঙ্গে ইন্ডাকশন বাড়িতে রয়েছে। ছোটখাটো রান্না যেমন চা, জল গরমের মতো বিষয়গুলো ইন্ডাকশনে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে জ্বালানী মজুদ থাকলেও যে দুশ্চিন্তা একেবারেই নেই তা নয়। অনেকের জীবিকাও ব্যহত হচ্ছে এই জ্বালানী সংকটে, তাই এই দুঃসময় যাতে তাড়াতাড়ি যাতে কেটে যায় সেটাই প্রার্থনা করছি।”

সঙ্গীতশিল্পী পৌষালি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাকি আর পাঁচ জনের আমিও ভীষণ উদ্বিগ্ন। হেঁশেলে সত্যিই খুব প্রভাব পড়েছে। গ্যাস খুব মেপে ব্যবহার করছি। ইন্ডাকশন ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরতলি বা গ্রামে কাঠকয়লায় রান্না করার সুবিধা থাকলেও শহরে ফ্ল্যাটে সেই সুবিধা নেই একেবারেই। এটা খুবই সমস্যার। শুধু তাই নয়, দীর্ঘক্ষণ শুটিংয়ের পর চা ও খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন চিহ্ন পড়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এই পরিস্থিতি কেটে যাক এই প্রার্থনা করি।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.