৮ অগাস্ট, ২০২৪ সেই ‘অভিশপ্ত’ রাত! কালিমালিপ্ত হয়েছিল প্রাণের শহর তিলোত্তমা। আরজিকর হাসপাতাল থেকে ধর্ষিতা তরুণী চিকিৎসকের নিথর দেহ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল সমগ্র ভূ-ভারত। অভয়ার বিচারের দাবিতে রাতের পর রাত দখলের সাক্ষী থেকেছে আবালবৃদ্ধবনিতা। ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনতে মোমবাতি মিছিল থেকে শুরু করে অবস্থান বিক্ষোভ বাদ যায়নি কোনও কিছুই। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল জনজীবন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’ স্লোগানে পায়ে পা মিলিয়ে রাজপথে জনজোয়ার এর আগে বোধহয় কখনও দেখা যায়নি।
অভয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলেছে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও। মৃত চিকিসকের পরিবার এই ঘটনায় কাঠগোড়ায় তুলেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে। অভিযোগ, শাসকদলের প্রশ্রয়েই অভয়ার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন হয়নি। সঞ্জয় রাইকে একমাত্র দোষী সাব্যস্ত করায় স্বস্তি পায়নি অভয়ার পরিবার। সন্তানহারা এক মায়ের যন্ত্রণার সঠিক বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মোদি সরকার। কর্মরত ওই চিকিৎসক তরুণীর মা রত্না দেবনাথ পদ্মের প্রতি আশ্বাস রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনে পানিহাটি থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছেন।
আরও পড়ুন:

ভোট ময়দানে অভয়ার মায়ের একটাই আর্তনাদ, তিনি জিতলে পানিহাটি জিতবে আর একজন মা নতুন করে মৃত মেয়ের বিচারের আশার আলো দেখবে। প্রায় একুশ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনতেই তাঁকে অর্ধেক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। শুভেচ্ছা, তাও আবার অর্ধেক কেন?
সমাজমাধ্যমে সেই কারণ ব্যাখ্যা করে অরিত্র লেখেন, ‘রত্না দেবনাথ, বিপুল ভোটে জয়ী হলেন। আমি আজকে তাকে অর্ধেক শুভেচ্ছা জানালাম, বাকিটা তোলা রইল। আর জি কর মামলায় বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারের দিন আমি বাকি আনন্দটাকে সঙ্গে নিয়ে উৎসবে সামিল হব।’ পানিহাটির মানুষ তাঁকে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন তিনি যেন সেই ক্ষমতার সৎ ব্যবহার করেন মেয়ের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করেন।

অভিনেতার সংযোজন, ‘সমস্ত অপরাধীদের হাজতে ভরার বন্দোবস্ত করুন এবং নারীসুরক্ষার নীতি নির্ধারনে বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুন।’ পরিবর্তনের ঢেউয়ে প্রথমবার রাজ্যে ফুটল পদ্ম। আগামী ২৫ বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে রাজভবনে। তার আগে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে মোদির ভাসন।

প্রধানমন্ত্রীর দীপ্ত কণ্ঠে বলেছেন, ‘প্রথমবার ভয় নয়, গণতন্ত্র জিতেছে’। এখন শুধু দেখার অভয়ার মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখবে তো বিজেপি? মোদি সরকার পারবে তো এক সন্তানহারা মাকে তাঁর লড়াইয়ে জিতিয়ে দিতে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অ্যান্টেনা-ঝিরঝির-মারাদোনা, ‘সাদাকালো’ যুগের বিশ্বকাপ শেখাত আরও বেঁধে বেঁধে থাকা
-
১০০ দিনের কাজে জব কার্ড নিয়ে দুর্নীতি! সুপারভাইজারকে আটকে রেখে বিক্ষোভ নন্দীগ্রামে
-
সমাজ, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও পরিবর্তন
-
ভরাডুবিতে সতর্ক মমতা! ‘বাজেট না দেখে অন্ধ বিরোধিতা নয়’, স্পষ্ট বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
-
আচমকাই আলিমুদ্দিনে প্রসেনজিৎ, বিমান বসুর সঙ্গে সিনেআড্ডায় কী কথা হল?