২ শ্রাবণ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

স্টার জলসায় তাঁর ‘শ্রীময়ী’ হিট। ছোট পর্দায় হ্যাটট্রিকের মালকিন ইন্দ্রাণী হালদার-এর সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় কোয়েল মুখোপাধ্যায়।

মুম্বই থেকে কলকাতায় কামব্যাকের পর ‘গোয়েন্দা গিন্নি’, ‘সীমারেখা’ আর এখন ‘শ্রীময়ী’। ইন্দ্রাণী হালদার কি ছোটপর্দায় হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন? 

ইন্দ্রাণী: ধারাবাহিক তিনটে। কিন্তু চরিত্রের সংখ্যা চার। পরমা মিত্র, সীমা, রেখা এবং শ্রীময়ী। চার মহিলা চার রকমের। (হাসি)। কিন্তু আমি যে এত ধরনের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারছি, যার সঙ্গে ঘরে ঘরে মহিলারা নিজেদের আইডেন্টিফাই করতে পারছে, সেটাই আমার কাছে বড় কথা। হ্যাটট্রিক করতে পারাটা নয়। টেলিভিশন আজকের দিনে সিনেমার থেকেও দর্শককে বেশি ইনফ্লুয়েন্স করে। যদি হ্যাটট্রিকের কথা বলেন তাহলে বলব আমার অভিনয়ের মাধ্যমে যদি সমাজে সামান্য হলেও অবদান রাখতে পারি, সেটাই আমার কাছে বড় পাওনা। আমি জানি ‘গোয়েন্দা গিন্নি’র গোয়েন্দা পরমা মিত্রকে এখনও দর্শক মনে রেখেছেন। শ্রীময়ী-ও অল্প দিনেই সকলের মনে দাগ কেটেছে।

‘শ্রীময়ী’ করতে রাজি হওয়ার কারণ?

ইন্দ্রাণী: প্রথম কারণ অবশ্যই গল্পকার, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এই প্রথম লীনাদির সঙ্গে কাজ করছি। লীনাদি আমাকে আগেই বলেছিলেন, ধারাবাহিকে কিন্তু তোমার তিনটে বড় বড় ছেলেমেয়ে আছে। তুমি কি করবে? কিন্তু লীনাদির মুখে যখন লার্জার স্টোরিটা শুনলাম, তখন মনে হল ক’টা ছেলেমেয়ে, ডাজ নট ম্যাটার। দ্বিতীয়ত, গল্পটা ভীষণ সুন্দর। যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে একজন গৃহবধূ। আর সবচেয়ে বড় কারণ, ‘শ্রীময়ী’র চরিত্রের মধ্যে আমি আমার মা’কে দেখতে পাচ্ছি, নিজেকে দেখতে পাচ্ছি, আশপাশের আরও অনেক মহিলাকে দেখতে পাচ্ছি। তাই মনে হয়েছিল, এই চরিত্রটা আমার করা উচিত।

ধারাবাহিকের টিআরপি তো দু’সপ্তাহের মধ্যেই হাই! কেমন ফিডব্যাক পাচ্ছেন?

ইন্দ্রাণী: গত কয়েকদিনে এমন বহু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে যাঁরা বলেছেন, এমনিতে তাঁদের টেলিভিশন দেখা হয় না। বাংলা সিরিয়াল দেখেন না। কিন্তু স্টার জলসায় ‘শ্রীময়ী’ দেখছেন। এটা ‘গোয়েন্দা গিন্নি’-র সময়ও ঘটেছিল।

কিন্তু বলা হচ্ছে এই ধারাবাহিকের সঙ্গে শ্রীদেবীর ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির মিল চোখে পড়ার মতো!

ইন্দ্রাণী: লীনাদির গল্পের সঙ্গে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর কোনও মিল নেই।

‘শ্রীময়ী’র সঙ্গে ইন্দ্রাণী হালদারের কোনও মিল আছে?

ইন্দ্রাণী: অনেকটাই। দেখুন, আজ ইন্দ্রাণী হালদার একজন ওয়ার্কিং ওম্যান। সে তার স্বামীর থেকে টাকা বেশি রোজগার করে ঠিকই। কিন্তু আজ আমি যদি সংসারে একটু হেলাফেলা করি, আমার স্বামীও কিন্তু আমায় চারটে কথা শুনিয়ে দেয়। (হাসি) আমার স্বামী যখন বাড়ি আসে, আমিও তটস্থ হয়ে থাকি। ওর ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে সব জিনিস ঠিকঠাক জায়গায় আছে কি না, এগুলো আমাকেও দেখতে হয়। আর আমি খুব ভালবেসেই এগুলো করে আসছি গত কুড়ি বছর ধরে। সব মেয়েই করে। তাই আমার মনে হয়, আমি শ্রীময়ী। আমরা মেয়েরা সকলেই শ্রীময়ী।

আর অমিল?

ইন্দ্রাণী: শ্রীময়ীর মতো মুখ বুজে সব সহ্য করতাম না। আমি শ্রীময়ীর মতো অত ভাল নই। (হাসি) দরকার পড়লে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতাম। তবে শ্রীময়ীও এখন প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। শাশুড়িকে সে দু’চার কথা শুনিয়েও দিচ্ছে। ফরচুনেটলি, আমার জীবনে এ সব কিছুর দরকার পড়েনি। আমার শাশুড়ি অসম্ভব সাপোর্টিভ ছিলেন। যতদিন বেঁচে ছিলেন, আমাকে সাপোর্ট করেছেন। এই জন্য আমার কাজের জগতে কখনও কোনও অসুবিধা হয়নি। আমার শাশুড়ি আমার সব সিরিয়াল দেখতেন। যখন ‘সুজাতা’ হত, তখন আমি মুম্বইয়ে। শাশুড়ি রোজ সিরিয়ালটা দেখতেন আর ফোন করে কাঁদতেন। সব ডায়ালগও মুখস্থ ছিল! আই ওয়াজ ভেরি লাকি টু হ্যাভ সাচ আ গ্রেট মাদার ইন ল’।

তাই নাকি? বাড়িতেই এত বড় ফ্যান?

ইন্দ্রাণী: একদমই তাই। আমার সব সিরিয়াল আমার শাশুড়ি তিনবার করে দেখতেন। সকালে একবার, দুপুরে একবার। রাতে আবার রিপিট টেলিকাস্ট। শাশুড়ি এখন বেঁচে নেই। থাকলে ‘শ্রীময়ী’ও দিনে তিনবার দেখতেন। আমার ছয় ননদও আমার বিরাট সাপোর্ট। ওরাও ‘শ্রীময়ী’ দেখে।

আর ‘গোয়েন্দা গিন্নি’? তিনি কি ফিরবেন?

ইন্দ্রাণী: কে জানে! তবে একটা ভাল গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করার খুব ইচ্ছা আছে। ওয়েব সিরিজে। ‘শ্রীময়ী’ শেষ হলে এটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করব।

[ আরও পড়ুন: পশ্চিমি পোশাকে ভারতীয় ছোঁয়া, আধুনিকাদের মন ভোলাচ্ছে খাদি-ইক্কত ]

ব্যাক টু ব্যাক ছোটপর্দায় কাজ করছেন। বড়পর্দাকে ব্রাত্য করে রেখেছেন কেন?

ইন্দ্রাণী: বড়পর্দাতেও কাজ করেছি। ‘সীমারেখা’ আর ‘শ্রীময়ী’র মধ্যে যতটুকু সময় পেয়েছি, তার মধ্যেই তিনটে ছবি করে ফেলেছি। ‘স্বর্ণভূমি’, ‘রক্তমুখী নীলা’ এবং ‘সার্কাসের ঘোড়া’। এ ছাড়া রয়েছে অতনু ঘোষের ‘৭২ ঘণ্টা’। সবক’টাই রেডি টু রিলিজ।

এই তালিকায় বাংলা ছবির হেভিওয়েটদের নাম নেই কেন? যেমন ধরুন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়—নন্দিতা রায় কিংবা সৃজিত মুখোপাধ্যায়…

ইন্দ্রাণী: (মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে) কেউ কাস্ট করেননি আমাকে। তাই নাম নেই। কাস্ট করলে তঁাদের নামটাও বলব।

কোথাও কি কোনও দূরত্ব তৈরি হয়েছে?

ইন্দ্রাণী: না। দেখা হলে তো কথা হয়! আমার সামনাসামনি যখনই তাঁরা হয়েছেন, ভদ্র ব্যবহার করেছেন। মিষ্টি করে কথা বলেছেন। কিন্তু কাজ কেন করেননি বা করেন না, বলতে পারব না। ভিতরে ভিতরে কারও মনে কোনও বিদ্বেষ থাকলে আমার তো কিছু করার নেই। আমি কারও কাছে গিয়ে বলতে পারব না, আমায় পার্ট দিন। সে বয়সটা প্রথম কথা আমার চলে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমার দরকারও নেই। তাঁরা যদি কখনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমায় ডাকেন, আনন্দের সঙ্গে ডাকেন, আমিও আনন্দের সঙ্গে তাঁদের ছবিতে অভিনয় করব। ছোট চরিত্র হলেও করব।

জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। তাঁর কাছ থেকে আরও একটা ‘অনু’, ‘দহন’, ‘সাঁঝবাতির রূপকথারা’, ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’, ‘অংশুমানের ছবি’, কিংবা ‘তখন ২৩’ এখন কেন পাচ্ছেন না দর্শক?

ইন্দ্রাণী: (একটু থেমে) আট বছর তো এখানে ছিলামও না। মুম্বই চলে গিয়েছিলাম। আরও একটা ‘সাঁঝবাতি’ কেন করলাম না, আমার কাছে সেটা ইম্পর্ট্যান্ট নয়। ভাল কাজ করাটা ইম্পর্ট্যান্ট। সেটা যে কোনও মিডিয়ামেই হোক না কেন! কেউ যদি ‘সাঁঝবাতি’-র মতো ছবিতে আমায় ডাকেন, করব। কিন্তু এই চিন্তাটা আমার নেই যে কেন আরও একটা ‘সাঁঝবাতি’ করলাম না। ‘সাঁঝবাতি’ করছি না। শ্রীময়ী তো করছি। আপনি যেমন মাইনাসগুলো বলছেন, প্লাসগুলোও বলুন! ইন্দ্রাণী হালদারের মতো পরপর হিট সিরিয়াল কোন অভিনেত্রী দিয়েছে? সেটা বলুন!

আপনার কোনও ক্ষোভ নেই?

ইন্দ্রাণী: না নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। আমি পজিটিভ থাকি, পজিটিভ ভাবি।

[ আরও পড়ুন: ‘আই লাভ হিম লাইক ক্রেজি’! বর নিখিলকে নিয়ে মনের দরজা খুললেন নুসরত ]

কখনও মনে হয় না যে ছোটপর্দাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এটা হচ্ছে?

ইন্দ্রাণী: না। শুনুন, একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। আজকে ছোট পর্দার প্রাধান্য এতেই বুঝতে পারা যায় যে বড় পর্দার সব রথী-মহারথী এসে এখানে শো করছেন। ছবির প্রোমোশন করছেন। কাজেই, যদি ছোটপর্দায় আমি এমন অফার পাই, যার মাধ্যমে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারি, তাদের খুশি করতে পারি, হোয়াই নট? কবে বড়পর্দায় একটা ভাল রোল পাব, তার জন্য বাড়িতে বসে না থেকে ছোটপর্দায় ভাল কাজ পেলে অবশ্যই করব।

পিআর স্কিল বাড়ানো, ছবির প্রিমিয়ারে মুখ দেখানো- এগুলো কি এখন খুব দরকার?

ইন্দ্রাণী: গত তিরিশ বছরে আমি অন্তত প্রয়োজন অনুভব করিনি। এখন কেরিয়ারের এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আরওই কিছু মনে হয় না। যতদিন ভাল কাজের সুযোগ পাব, শরীরস্বাস্থ্যে পোষাবে, ততদিন করব। যেদিন আর পারব না, সব ছেড়েছুড়ে জগন্নাথের আশ্রয়ে চলে যাব।

প্রতি বছর বাড়িতে জগন্নাথদেবের পুজো করেন। এবারও করেছেন। এবার জগন্নাথপতির কাছে কী চাইলেন?

ইন্দ্রাণী: এই পৃথিবীতে ভাল থাকা, খারাপ থাকা, চাওয়া-পাওয়া, টাকাপয়সা- সব কিছুই আপেক্ষিক, ক্ষণস্থায়ী। আজ আছে, কাল নেই। তাই আমি আমার মণিমাকে (জগন্নাথদেবকে ওই নামেই ডাকি) বলেছি, যেন এগুলোর প্রতি আমি আকৃষ্ট কখনও না হই। তুমি শুধু তোমার প্রেম থেকে আমাকে কখনও বঞ্চিত কোরো না।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং