তনুশ্রী চক্রবর্তীর স্টার সাইন লিও। তাঁর দাবি, তাই তিনি রাজি না হলে বিয়েতে কেউ রাজি করাতে পারবে না। শুনলেন শম্পালী মৌলিক।
এ কী! জ্বরে কাবু?
তনুশ্রী: ওই একটু। ক’দিন ধরেই চলছে। তার উপর এই বিচ্ছিরি গরম।
আপনার বন্ধুরা তো দলে দলে রাজনীতিতে যোগ দিলেন। প্রথমে মিমি-নুসরত। ক’দিন আগে পার্নো। আপনি জয়েন করবেন না?
তনুশ্রী: আমি অভিনয় করতে পারি। অভিনয়টা ভালবাসি। চাই এন্টারটেন করে মানুষকে ভাল রাখতে। যদি কখনও মনে হয় যে, আমি ভাল কাজ করতে পারব এবং মানুষের জন্য পরিকল্পনা করতে সক্ষম, ডেফিনিটলি তখন আমি ভেবে দেখব।
রাজনীতি জয়েন না করলে কি মানুষের জন্য কাজ করা যায় না?
তনুশ্রী: অবশ্যই করা যায়। কেন করা যাবে না? আমরা তো বেশ কিছু মানুষকে নিয়ে কাজ করি। কিছু আন্ডারপ্রিভিলেজড লোকজনকে নিয়ে কাজ করি। এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত থেকেও করি। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়, এটা বিশ্বাস করি।
আপনার কাছে কোনও রাজনৈতিক দল থেকে অফার আসেনি?
তনুশ্রী: না, সেরকম কোনও অফার আসেনি। আমি অভিনয়টাই জানি। ওটাই করতে পারি।
অফার আসেনি বলে কি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন?
তনুশ্রী: (জোরে হাসি) না, ঠিক তা নয়। যদি কেউ অফার করে, তারা আমার বন্ধুস্থানীয় জায়গা থেকেই দেবে আমার মনে হয়। কাজেই তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি যেটা বুঝি, আমি তো সেটাই করব। তাই না? যেটা মনে হয়, যেভাবে মানুষের কাছে থাকতে চাই, মানুষের ভাল করতে চাই, যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, সেভাবেই করব। ছবির মাধ্যমে এন্টারটেন করেও তাদের জন্য কাজ করতে পারি। অন্যভাবে সাহায্য করেও পারি। সব সময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে চেয়েছি, সে জন্যই সিনেমায় আসা।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও আপনাকে দেখা গেল না…
তনুশ্রী: শরীরটা খারাপ ছিল। তবে রাজনৈতিক মঞ্চে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যতবার ডেকেছেন, তাঁকে শ্রদ্ধা করে গিয়েছি। কোনও দলের কথা ভেবে নয়, তাঁর চেয়ারকে সম্মান করেই গিয়েছি।
আপনার একসময়ের বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর একটা স্ট্রং পলিটিকাল মত রয়েছে। তিনি কখনও রাজনীতি বা দলগত বিষয়ে আপনাকে সাজেশন দেননি?
তনুশ্রী: কখনওই নয়। কেউ-ই আমাকে কোনও পার্টিগত বিষয়ে সাজেশন দিতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
এর মধ্যে মিমি, নুসরতের সঙ্গেও পলিটিক্স প্রসঙ্গে কোনও কথা হয়নি?
তনুশ্রী: না, একেবারেই নয়।
রাজনীতিতে আসার পর ওঁদের পোশাক নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছে। এমনকী সংসদ ভবনের সামনে সেলফি তোলা নিয়েও। আপনি নিশ্চয়ই জানেন?
তনুশ্রী: হ্যাঁ, জানি।
[ আরও পড়ুন: তাঁকে পেলে উত্তম হত… ]
ওঁরা প্রচণ্ড ট্রোল্ড-ও হয়েছেন। আপনার কী বক্তব্য?
তনুশ্রী: যে কোনও ট্রোলিংয়ে আমি কখনও মন দিইনি। ওরাও পাত্তা দেয়নি। যারা ট্রোলিং করে তাদের দিকে নজর দেওয়া মানেই নিজের সময় নষ্ট করা। কিন্তু অবশ্যই সমালোচনা থেকে আমরা শিখি। আমি তো ব্যক্তিগতভাবে শিখি-ই, কিন্তু ট্রোলিং থেকে নয়। ওরা যেরকম আউটফিট পরেছিল, সেটা ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি যদি ওদের জায়গায় থাকতাম, আমার ব্যক্তিগতভাবে যেটা মনে হত, সেটাই পরে যেতাম। তবে, আমার ব্যক্তিগত মতামত একরকম। ওদের ব্যক্তিগত মতামত আরেক রকম। ওরা আমার ভীষণ বন্ধু। ওদের জার্নিতে আমি সবসময় শুভেচ্ছা জানাব।
রজত শর্মার শো, যেখানে মিমি, নুসরত গিয়েছিলেন, দেখেছেন নিশ্চয়ই?
তনুশ্রী: হ্যাঁ, দেখেছি। তবে পার্টে, পার্টে।
কেমন লেগেছে?
তনুশ্রী: বললামই তো, বন্ধু হিসেবে ওদের জন্য অামার শুভেচ্ছা সবসময় রয়েছে। যখন থেকে ওরা পলিটিক্স জয়েন করেছে, তখন থেকে ওদের সাজপোশাক নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এবার ওদের কাজ করতে হবে, যে জন্য জনগণ ওদের নির্বাচন করেছে। আসল নিরীক্ষা তখন হবে। আসলে একজন অভিনেত্রী যখন কোথাও যান, তাঁর সাজ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু পলিটিশিয়ান হিসেবে এখন ওদের কাজের শুরু। অভিনেত্রী হিসাবে ওরা তো খুব সফল এবং দু’জনই ভীষণ বন্ধু আমার। এবার ওদের কাজের মূল্যায়ন হবে। যা এখনও শুরু হয়নি।
সাধারণ লোক তো ধরে নিচ্ছেন, হাতে বড় ব্যানারের কাজ না থাকলে পার্টি জয়েন করা বা পার্টি জয়েন না করলে অবিবাহিতা নায়িকার বিয়ের প্ল্যান অবশ্যম্ভাবী। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা তাহলে?
তনুশ্রী: আমার হাতে বড় ব্যানারের ছবি রয়েছে। আবার এরকমও নয় যে, শুধু বড় ব্যানারের কাজ করেছি। ছোট ব্যানারের কাজও করেছি। এই পুজোতেই সৃজিত মুখোপ্যাধ্যায়ের ছবিতে আছি। আমার হাতে অরিন্দম ভট্টাচার্যর ‘অন্তর্ধান’ রয়েছে, আবার ‘সামসারা’-ও রয়েছে। যারা প্রথমবার ছবি প্রযোজনা করছে। রাজা চন্দর ছবি আছে। আবার জি ফাইভ-এর জন্য চন্দ্রাশিসের পরিচালনায় ‘আরশিনগর’ করছি। আমার অপোজিটে চন্দন রায় সান্যাল। আবার রাজর্ষি দে’র ‘শুভ নববর্ষ’-ও রিলিজের অপেক্ষায়। অনেক ছবিই আছে। মনে হয় না, এটা না করলে ওটা করতে হবে, এরকম ব্যাপার। ওভাবে সফল হওয়া যায় না। যে লাইনেই যাই, সাকসেসফুল হওয়াটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। অভিনয় না জেনে যদি অভিনয় করি, একেবারেই সফল হব না। একইভাবে মানুষের কাছাকাছি না গিয়ে যদি পলিটিক্স করি, তাহলে কী করে সাফল্য আসবে? তার জন্য মানুষের কাছাকাছি যেতে হবে।
আপনার অভিনীত নতুন ছবি ‘সামসারা’ ২ আগস্ট মুক্তি পাবে। তার ক’দিন পরেই ৬ তারিখ আপনার জন্মদিন।
তনুশ্রী: কারেক্ট, কারেক্ট (হাসি)।
বয়স তো বাড়ছে। এখনও বিয়ের প্ল্যান নেই?
তনুশ্রী: বিয়ের প্ল্যান কী বয়স দিয়ে হয়? (হাসি)।
বাড়িতে বলছে না?
তনুশ্রী: মা তো কবে থেকে বলতে শুরু করে দিয়েছে। আমার মনে হয়, একটা অন্য উদ্দেশ্যে ভগবান আমাকে এনেছেন। সেই উদ্দেশ্য হল অনেক কাজ করা। মানুষকে সিনেমা দিয়ে যেমন এন্টারটেন করব, সেইরকম আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছাকাছি যেতে চাই। এবং মানুষের ভালর জন্য কাজে লাগাতে চাই নিজেকে।
আপনার তো একজন স্টেডি বয়ফ্রেন্ড আছে। তিনি বিয়ের জন্য বলছেন না?
তনুশ্রী: (হাসি)… আমার স্টার সাইন হল লিও। মানে জানেন তো, সে হল রাজা। রাজা যতক্ষণ না নিজে রাজি হবে, কেউ রাজি করাতে পারবে না।
[ আরও পড়ুন: ২৫ বছর পরেও কি মন ছোঁবে সিম্বার গর্জন? ‘দ্য লায়ন কিং’ মুক্তির আগে তুঙ্গে উন্মাদনা ]
ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন টালমাটাল। একদিকে শ্রীকান্ত মোহতা হাজতে। আরেক নামী প্রযোজককে নিয়েও অনেক প্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে। মানে প্রযোজকদের অবস্থা নড়বড়ে। এছাড়াও টাকাপয়সা ও পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। এরপর কি আপনার বয়ফ্রেন্ডকে সিনেমা প্রযোজনায় দেখা যেতে পারে?
তনুশ্রী: সেটা ওকেই জিজ্ঞেস করুন (হাসি)। হ্যাঁ ওর প্ল্যান আছে। তবে আমি এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। ডেফিনিটলি নতুন কাজ নিয়ে আসার সম্ভাবনা আছে। যাতে আরও মানুষ ইনভলভড হতে পারে। আমার নিজের এই মুহূর্তে প্রযোজনায় আসার প্ল্যান নেই। অনেক সমস্যা আছে। ডিজিটাল মিডিয়া খুব বেড়ে গিয়েছে। আগে মানুষের বেসিক নিড। আগে মাথার ছাদ, জল, খাবার-দাবার, পড়াশোনা, তারপর আসে বিনোদন।
বুঝলাম। এবারে জানতে চাই আপনার অভিনীত নতুন ছবি ‘সামসারা’ নিয়ে আশাবাদী?
তনুশ্রী: (হাসি) আমি যখন ছবিটা করেছি, ডেফিনিটলি আশাবাদী। আমি গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্সে আছি। কিন্তু চরিত্রটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ঋত্বিকের চরিত্রটা বোঝাতে গেলে আমার চরিত্রটা ভীষণ জরুরি। আমি ওর স্ত্রীর রোলে। রানাদা-সুদেষ্ণাদি আমাকে বলেই ছিল, যে কোনও একটা রোল চুজ করতে। আমি দেখেছিলাম সুদীপ্তাদির চরিত্রটা ডেফিনিটলি আমার থেকে একটু ম্যাচিওরড। কিন্তু আমি যেটা চুজ করেছি, সেটা আমার বয়সি। মানানসই। রানাদা-সুদেষ্ণাদির সঙ্গে অনেকদিন কাজ করা হয়নি। তারপর এবার যখন বলল, আমার ভাল লেগেছিল। চরিত্রটা ভালই লেগেছিল, দেন আই ডিড ইট।
আপনি তো ‘ক্রস কানেকশন টু’-তেও অভিজিৎ গুহ-সুদেষ্ণা রায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন? ওই ছবিতেও ঋত্বিক ছিলেন।
তনুশ্রী: ঠিক। তবে আমার বিপরীতে নয়। আমি বরং ‘চলচ্চিত্র সার্কাস’-এ ঋত্বিকের অপোজিটে কাজ করেছি। এই ছবিতে রানাদা-সুদেষ্ণাদির সঙ্গে কাজ করতে গিয়েও দারুণ অভিজ্ঞতা। ভীষণ কমপোজড, আগের থেকেও বেশি। স্ক্রিপ্টের প্রয়োজন যতটুকু ততটুকুই তুলেছে, একদম এডিট পয়েন্ট মাথায় রেখে। খুবই ভাল।
একটা সময় সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এক যে ছিল রাজা’-র একটা চরিত্র ছেড়েছিলেন। সেটা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে মন কষাকষিও হয়েছিল। আবার এখন ওঁর সঙ্গে কাজ করছেন। সব ঠিকঠাক?
তনুশ্রী: হ্যাঁ, সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে আমাদের। আমরা প্রচণ্ড সুন্দর শুট করলাম। এভরিথিং ইজ অলরাইট। যেটা বুঝলাম, সৃজিত একেবারেই রাগ পুষে রাখে না। সৃজিত ভুলে যায়। একদম জল হয়ে গলে যায়। আমি সব সময় সৃজিতের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। হ্যাঁ, ডেফিনিটলি আমরা একটু ঝগড়া করেছিলাম। তারপরে আবার সব ঝগড়া মিটে গিয়েছে।
কোন ম্যাজিকে মিটল?
তনুশ্রী: কোনও ম্যাজিক না (হাসি)। একদিন সৃজিত আমাকে ফোন করে বলল, “তুই এটা করবি?” এই-এই আছে। আমি বললাম, নিশ্চয়ই করব। আগের বার মনে হয়েছিল, আরও বেটার রোল আমাকে অফার করতে পারত। রোল ছোট হতে পারে, কিন্তু গভীরতা বা ইমপ্যাক্ট বেশি থাকতে হবে। সেটা আমি আশা করি। আমার খিদে বেশি। এবারে ‘গুমনামী’-র ক্ষেত্রে সেটা হয়েছে।
‘বুনো হাঁস’, ‘বেডরুম’, ‘খাদ’, ‘সমান্তরাল’, ‘দুর্গা সহায়’-এর মতো ছবি করেছেন। তারপর ২০১৮-এ আপনার একটাই রিলিজ ছিল- ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’। ছবিটা চোখের পলকে বেরিয়ে গেল। কেউ লক্ষ্য করল না। সেটা নিয়ে কি খারাপ লাগা আছে? যে, গত বছরটা তত ভাল যায়নি?
তনুশ্রী: যারা ছবিটা দেখেছে, প্রত্যেকে আমার অভিনয়ের খুব প্রশংসা করেছে। ডেফিনিটলি, এটা আমার অন্যতম ফেভারিট পারফরম্যান্স। লোকজন পছন্দও করেছে। ছবিটা যে জায়গায় যেতে পারত, সে জায়গায় যায়নি ঠিকই। আরেকটু বেটার রিলিজ হতে পারত। প্রোমোশনটা আরেকটু ভাল হতে পারত। তাও ছবিটা কিন্তু খারাপ হয়নি।
সেই তুলনায় আপনার ২০১৯ তো উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।
তনুশ্রী: ‘সামসারা’, ‘অন্তর্ধান’, ‘গুমনামী’ আর রাজা চন্দর ছবি আছে। দেখা যাক (হাসি)।
আচ্ছা, আপনাদের গার্ল গ্যাং যেটা ছিল-আপনি, মিমি, নুসরত, সায়ন্তিকা, শ্রাবন্তীকে নিয়ে, সেটা তো আর নেই। মিমি, নুসরত রাজনীতিতে। নুসরত বিয়ে করেছেন। শ্রাবন্তীও তাই। সায়ন্তিকার সঙ্গে যোগাযোগটা খুব ক্ষীণ। আপনি কি একা হয়ে গিয়েছেন?
তনুশ্রী: আমি বলব আমার সঙ্গে কখনও কারও দূরত্ব বাড়েনি। এখনও না। আমি একাও হইনি। কারণ আমি কাজের দিক থেকে একেবারে স্বতন্ত্র। প্রত্যেকের কাজই তার মতো করে স্বতন্ত্র। আমি আমার কাজ নিয়ে পরিপূর্ণ।
সর্বশেষ খবর
-
ফেরার সুশান্ত ঘোষ! গাড়ি নিয়ে ওড়িশা সীমানায় কাউন্সিলরের পরিবার, আটকাল পুলিশ
-
ইয়ামালের গতি, পেদ্রির ম্যাজিকের সঙ্গে রক্ষণ-কাঁটাও! নতুন ‘তিকিতাকা’য় বিশ্বসেরা হবে স্পেন?
-
কোভিড থেকে আমফান, মহাসংকট মোকাবিলার খতিয়ান দিয়ে কোথায় আক্ষেপ রয়ে গেল প্রাক্তন মহানাগরিকের?
-
বিদেশি লিগে খেলতে অবসরের হিড়িক! এবার কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই
-
নাগপুরে ৬ লক্ষ টাকার কল চুরি! ‘প্রেমিকার জন্য আইফোন কিনব’, পুলিশ ধরতেই জানাল দুই যুবক