×

৩ চৈত্র  ১৪২৫  মঙ্গলবার ১৯ মার্চ ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার
নিউজলেটার

৩ চৈত্র  ১৪২৫  মঙ্গলবার ১৯ মার্চ ২০১৯ 

BREAKING NEWS

কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখলে পোষ্যের সঙ্গে চুটিয়ে উপভোগ করতে পারবেন শীতকাল। লিখছেন মহাশ্বেতা ভট্টাচার্য

ছোটবেলায় মনে আছে, শীত পড়ার টের প্রথম পেতাম মায়ের পাখার গতি নিয়ন্ত্রণ দিয়ে। ভোরের দিকে অদ্ভুত একটা অস্বস্তিতে ঘুমের মৌতাত কেটে যেত। বহু অনিচ্ছায় চোখ খুলে দেখতাম মাথার উপরে পাখার ব্লেডগুলো স্লো মোশনে গুনে ফেলা যাচ্ছে। মেজাজের সঙ্গে শরীরও গরম হয়ে শুরু হয়ে যেত দিন। ঠিক সেই ছোটবেলার মতোই গত কয়েক দিন ধরে শীতের আগমনি টের পাচ্ছি। স্রেফ আজকাল পাখাটা নিজেই কমাই বা সুইচ অফ করি। তবে বেলা দশটার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত এখনও বেশ গরম। আর এই ঠান্ডা-গরমটাই ডেকে আনছে নানা জ্বরজারি, অসুস্থতা।

মরশুম পরিবর্তন বা সিজন চেঞ্জের এই সময়টা আমাদের মতোই আমাদের পোষ্যদের জন্যও কিন্তু বেশ অস্বস্তির। শীত পড়ার মুখে আপনার চামড়ায় টান ধরার অনুভূতি হলে জানবেন আপনার পোষ্যেরও তেমনই হচ্ছে। নাক দিয়ে কাঁচা জল, গা ম্যাজ ম্যাজ, বাতের ব্যথা চাগাড় দেওয়া- আমাদের মতো ওদেরও হয়। তবে পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন কলকাতার ঠান্ডায় মোটের ওপর ভালই থাকে পোষ্যকুল, যদিও কয়েকটা বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে পোষ্যদের প্রধান দুই শত্রু গ্যাসট্রো এনটেরাইটিস বা পেটের গোলমাল এবং ঠান্ডা লেগে চেস্ট ও আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। কলকাতায় শীতকালে পেটের গোলমালের পেশেন্ট নাকি সবচেয়ে বেশি পায় ক্লিনিকগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে পোষ্যদের, বিশেষ করে কুকুরদের পেটের গোলমাল কেন বাড়ে তার কারণটা স্পষ্ট নয়। তবে আপনার পোষ্য হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। ডায়রিয়া, বমি সঙ্গে রক্তের ছিটে থাকা অসম্ভব নয়। কোনও কোনও কুকুরের জ্বর আসে। নাকের ডগা শুকনো এবং কান অস্বাভাবিক গরম হলে সেটা জ্বরের লক্ষণ। এমন হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। কারণ চিকিৎসা ঠিকমতো না হলে পরিস্থিতি আপনার পোষ্যের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠে পারে। বিশেষ করে ছোট এবং বয়স্ক কুকুরদের শরীর খারাপের প্রথম চিহ্ন দেখলেই ভেটের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

মোবাইলের মোহ কাটাতে বন্ধু তৈরি করুন  ]

কলকাতার ঠান্ডায় আপনার পোষ্যের ঠান্ডা লাগতে পারে না, এমন ধারণা কিন্তু ভুল। এখানেও বিশেষ যত্ন নেওয়া চাই কচিদের এবং বয়স্কদের। বয়সের সঙ্গে ইমিউনিটি কমে, ঠান্ডা লাগে তাড়াতাড়ি। ইদানীং ইমিউনিটি বাড়ানোর নানা ওষুধ এসেছে। ঠান্ডা পড়ার আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। শীতে কোল্ড অ্যালার্জি বা রেসপিরেটরি ফ্লু থেকেও চেস্ট ইনফেকশন সম্ভব। কুকুর, বেড়াল সবারই। আমাদের মতোই ওদেরও নাক দিয়ে জল পড়া ঠান্ডা লাগার প্রথম লক্ষণ। তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হচ্ছে মানেও সমস্যা থাকতে পারে। তবে যদি দেখেন পোষ্য পেট টেনে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছে বা নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে, তা হলে চিকিৎসায় এতটুকু বিলম্ব করবেন না। আর একটা সমস্যা কেনেল কাফ বা টানা কাশি। এবং এটা সংক্রামক। বাড়িতে একাধিক কুকুর থাকলে তাই সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। কাশি হলে ডাক্তার দেখান।

তবে সমস্যা শুরুর আগেই সতর্ক হতে ক্ষতি কী? ঠান্ডা যাতে না লাগে সেটা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা যে সব পরামর্শ দিচ্ছেন সেগুলো জানিয়ে রাখছি। প্রথমেই দেখবেন পোষ্য যেন সরাসরি ঠান্ডা মেঝেয় না শোয়। পোষ্যের আপনার খাট এবং ঢাকা ভাগ করে নেওয়ার অনুমতি থাকলে তো কথাই নেই। কিন্তু যদি খাটে ওঠায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা হলে ওর জন্য মাটিতে মোটা গদি পেতে দিন। সঙ্গে সূর্যাস্তের পর থেকে সকালে রোদ না ওঠা পর্যন্ত পরিয়ে রাখুন শীতবস্ত্র। বিশেষ করে আপনার ছানার গায়ের লোম ছোট হলে। শীতবস্ত্র ডিজাইনার হতে পারে, কুকুরদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি হতে পারে, আবার পাড়ার দোকান থেকে কেনা বাচ্চাদের বুক খোলা হাফ স্লিভ সোয়েটারও হতে পারে। সামনের দুই পা হাতায় গলিয়ে পিঠের দিকে বোতাম লাগাবেন। কোমরটা আঁটসাঁট। যা-ই পরান, দেখবেন যেন পেট থেকে গলা পর্যন্ত বুক-পিঠ ঢাকা থাকে। পোষ্যের লোম কখনও ভিজে থাকতে দেবেন না। রাতে হিম পড়ার সময়টায় বাইরে বা ছাদে বেশিক্ষণ যেন না ঘোরাঘুরি করে। বাড়ির ভিতর ঢোকার পর গা-মাথা মুছিয়ে দিলে ভাল। বেড়ালরা ওই সময়টায় সোফা বা চেয়ারে গুটিয়ে শুতে ভালবাসে। তবে বেড়ালকে রাতে বাইরে রাখলে তার জন্য একটা ঠান্ডা হাওয়া আটকানোর মতো ঢাকা বাক্স করে দিন। সঙ্গে দিন গুটিয়ে শোওয়ার কোনও তোয়ালে বা চাদর।   

পোষ্য অভিভাবকের কাছে শীতের সেরা বার্তা হল, এই সময় টিক, ফ্লি-দের বাজারটা মন্দা যায়। তবে শুষ্ক আবহাওয়ায় আপনার পোষ্যের ত্বকে টান ধরে। স্কিন সেনসিটিভ হলে ত্বকের নানা সমস্যায় ভুগতে পারে সে। সিজন চেঞ্জের মুখে অনেক কুকুরের লোম ওঠে। এটা কিন্তু কিছু দিনেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই শীতের মুখে কখনও লোম কেটে দেবেন না, বলছেন পেট কেয়ার স্পেশ্যালিস্টরা।

এঁদের মতে বছরের এই সময়টায় একটা উভয় সংকট তৈরি হবেই। একদিকে ঠান্ডায় লোমে ধুলো জমে ত্বক ময়লা হবে বেশি। অন্যদিকে, বারবার স্নান করালে ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব কমে গিয়ে চুলকানি, স্কিন অ্যালার্জি দেখা দেবে। তাই একটা মধ্যপন্থা চাই। ওঁদের পরামর্শ, স্নান করান ঠান্ডা-গরম মেশানো জলে, তবে বারবার চান না করিয়ে নিয়মিত ব্রাশিং করুন, মানে ড্রাই ওয়াশে জোর দিন। অনেকে আবার ব্রাশিংয়ের আগে নারকোল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে ত্বক ও লোমের যত্ন নেওয়ার পক্ষে। শীতকালে চিরুনিতে চুল আঁচড়ানোর পর স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটিতে চুল খাড়া হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আছে। একই জিনিস হতে পারে আপনার পোষ্যেরও। বড় লোমের কুকুর বা বেড়ালের ক্ষেত্রে পর্দার সঙ্গে ঘষা লেগে এমন হওয়া সম্ভব। রোমহর্ষক কাণ্ড এড়াতে চান করানোর সময় ব্যবহার করুন ময়শ্চারাইজিং শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। লোমও খাড়া হবে না।

এক চুমুকেই তৃপ্তি, কলকাতার এসব চায়ের দোকানে ঢুঁ মেরেছেন? ]

পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সবচেয়ে জোর দিতে বলছেন বয়স্ক কুকুরদের যত্নে। বিশেষ করে যাদের আর্থারাইটিস রয়েছে, তারা কষ্ট পাবেই। ঠান্ডায় ওদের যতটা সম্ভব গরম রাখেন। ওঁরা বলছেন, এমন সিনিয়র কুকুরদের দিনে অন্তত কুড়ি মিনিটের একটা ওয়াক-এ নিয়ে বেরোবেন। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, মাসল টোনিং হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটা জরুরি কারণ ওজন বাড়লে জয়েন্টগুলোয় চাপ বাড়ে, ব্যথাও বাড়ে। আপনার বয়স্ক পোষ্য বারবার শরীরের কোনও জায়গা চাটছে বা কামড়াচ্ছে, সিঁড়ি ভাঙতে সময় নিচ্ছে, খেতে বেশি সময় লাগাচ্ছে- এগুলো সবই কিন্তু তার শরীরে কষ্ট বাড়ার ইঙ্গিত। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাতের ব্যথার আজকাল নানা চিকিৎসা সম্ভব। চিকিৎসকেরা শীতে সতর্ক থাকতে বলেন পোষ্যের হাইড্রেশন বিষয়েও। ঠান্ডায় ওরা জল কম খায়। তাই শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা ঠিক রাখতে খাবারের সঙ্গে বেশি করে দিন চিকেন, মাংস বা মাছ সেদ্ধ স্টু জাতীয় তরল। প্যাকেটের শুকনো খাবারে অভ্যস্ত যারা, তাদের জন্য এটা আরও জরুরি।

এমনই আরও কয়েকটা টিপস-

  • ঠান্ডার দিনে খাবার সামান্য গরম করে দিলে পোষ্য উৎসাহে খাবে। তবে অতিরিক্ত খেতে দেবেন না। বাসি খাবার একদম নয়। দই-ভাত যতই পছন্দের হোক, রাতে দেবেন না। ঠান্ডা জল একেবারে নয়।
  • সম্ভব হলে মাছ খাওয়ান। মাছের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এই সময়ে উপকারী।
  • বেলা বাড়ার পর রোদে গরম জামা খুলে দিন। এবং লোম আঁচড়ে দিন। না হলে গরম জামার তলায় চেপে থাকা লোমে জট পড়বে। গায়ের গন্ধ ঢাকতে কুকুরদের জন্য তৈরি ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।
  • খেলায় জোর দিন। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। ছাদে উঠে সানবাথও মন্দ নয়।
  • রুম হিটার বা ব্লোয়ার ব্যবহার করলে পোষ্যকে তার বেশি কাছে বসতে দেবেন না।
  • মধু আপনার পোষ্যের শরীরের জন্যও উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, হজমে সাহায্য করা, কাশি কমানোর মতো নানা গুণ। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ না করে খাওয়াবেন না।
  • একটু সতর্ক থাকা, একটু সাবধানতা অবলম্বন। পারলে, শীতকালটা আপনার সঙ্গে চুটিয়ে উপভোগ করবে আপনার পোষ্যও। বর্ষশেষে পার্টির মরসুমটা হুটোপুটি করে নির্ভাবনায় কাটিয়ে দিন জুটিতে।
  • শুধু মনে রাখবেন, ভোরে পাখার রেগুলেটর কমিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু আপনার।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং