সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: প্রকৃতি আর কবিতা যেন অবিচ্ছিন্ন। প্রখর রোদ কিংবা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি অথবা হাড় হিম করা শীত, কবিতার যাত্রা নিরন্তর। ঋতুবৈচিত্র্য নিরপেক্ষভাবে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময়। আর তাই বৈশাখের তীব্র দহন উপেক্ষা করেই কবিতা উৎসব হয়ে গেল পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়। আরও উল্লেখযোগ্য, ভোটের আবহেও সাড়া ফেলল এই উৎসব। পুরুলিয়ার জগন্নাথ কিশোর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ এই গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ কবিতা উৎসবের আয়োজন করে। এই কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকের ছাত্র তথা কবি অংশুমান কর সম্পাদিত ‘গভীর নির্জন পথের গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষের সপ্তম কবিতা উৎসব। সম্প্রতি এই উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি জগন্নাথ দত্ত। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সৈকত রক্ষিত ও বিমল লামা। উদ্বোধনী ভাষণ দেন ওই মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক অশোক আগরওয়াল। রবিবার বাঁকুড়ায় অষ্টম অনুষ্ঠানটি হয় চেম্বার অফ কমার্সের সভাকক্ষে। অনুষ্ঠানের সহযোগী ছিল গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ-র প্রকাশক সপ্তর্ষি প্রকাশন।

পুরুলিয়া-বাঁকুড়া (Purulia and Bankura) দুটি কবিতা উৎসবেরই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের প্রত্যেকের কথাতেই কবিদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভূমিকা আরও তীক্ষ্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ পত্রিকার সম্পাদক তথা কবি অংশুমান কর বলেন, “বাংলা কবিতায় পুরুলিয়ার অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ। পুরুলিয়া শহরে আমার জীবনের অনেকগুলো বছর কেটেছে। আমি জে কে কলেজের ইংরেজির ছাত্র ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, এই প্রখর দাবদাহ সত্বেও এই কবিতা উৎসব পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় সফল হবেই। কবিরা আসলে অপরাজেয়! কবিতাই এখন আমাদের দগ্ধ জীবনের উপশম। তুষার রায় লিখেছিলেন, পুলিশ যেন কবিদের সামনে টুপি খুলে অভিবাদন জানায়। আজ মনে হচ্ছে, কবিদের সামনে পুলিশদের মতোই প্রকৃতিকেও টুপি খুলে কুর্নিশ জানাতে হয়।” পুরুলিয়ার উৎসবে দাবদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অতিথিদের গাছের চারা (Sapple) দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
[আরও পড়ুন: সুপার নিউমেরারি: রাজ্য মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তে ‘সুপ্রিম’ স্থগিতাদেশ]
২০২১ সাল থেকে ফি বছর মুদ্রিত ও অনলাইন এই দুই মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়ে চলেছে ‘গভীর নির্জন পথের গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ।’ ইতিমধ্যেই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের অগ্রগণ্য কয়েকটি পত্রিকার মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ২০২২ সাল থেকে রাজ্য জুড়ে কবিতা উৎসবের (Literature Festival) আয়োজন করে আসছে এই পত্রিকাটি। বিগত দু’বছরে জলপাইগুড়ি থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’বছরই এই কবিতা উৎসবগুলির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ছিল তিনদিনের সর্বভারতীয় বহুভাষিক কবি সম্মেলন। সেগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতার রোটারি সদনে। পুরুলিয়া শহরে ২০২২ সালে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ। প্রায় ২ বছর পরে আবার এই শহরে অনুষ্ঠিত হল পত্রিকার কবিতা উৎসব। যেখানে অংশ নিলেন জেলার বিশিষ্ট কবিরা। এই উৎসবে কবিতা পড়েন দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ সিংহ, অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়, অজয় গঙ্গোপাধ্যায়, সোমেন মুখোপাধ্যায়, রাজীব ঘোষাল, উত্তম মাহাতো, অনাময় কালিন্দী, শ্রীদাম কুমার-সহ ৪০ জন কবি।

[আরও পড়ুন: SSC মামলা: আদালত অবমাননার অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে কৌস্তভ]
তাপপ্রবাহকে উপেক্ষা করেই কেবল কবিতার টানেই পুরুলিয়া শহরে শামিল হন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কবি ও কবিতাপ্রেমীরা। ওই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন পরিযায়ী চট্টোপাধ্যায়। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী পাপিয়া মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানটি নিয়ে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাঁকুড়ায় (Bankura) ‘সপ্তর্ষি’ প্রকাশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের সহযোগী ছিল বাঁকুড়ার আর্ষ সাহিত্যপত্র। বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৪০ জন কবি এই উৎসবে কবিতা পড়েছেন। উৎসবের উদ্বোধন করেন চারণ কবি বৈদ্যনাথের পুত্র বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী বিশ্বরূপ দত্ত ও গল্পকার গৌর কারক। সদ্য প্রয়াত কবি ভূদেব করের কবিকৃতি উপর আলোচনা করেন প্রদীপ কর। সঙ্গীত পরিবেশন করেন আরাত্রিকা সিনহা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী পার্থ কুণ্ডু ও টুম্পা চৌধুরী। উৎসবে যাঁরা কবিতা পড়েছেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন শুভাশিস হালদার, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, হীরালাল ঘোষ, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, ভজন দত্ত, পলাশ গোস্বামী প্রমুখ।
সর্বশেষ খবর
-
‘আপনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ে তুলব’, মোদিকে আবেগঘন চিঠি শুভেন্দুর
-
সর্বকালের সেরা, ‘হ্যান্ড অফ গডে’র দিন বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন GOAT মেসি
-
বাজেটে বরাদ্দ ৫০ কোটি, প্রসার ঘটবে ভাষা-সংস্কৃতির, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ধন্যবাদ মূল মানতার
-
‘আসল’ তৃণমূলে গিয়ে মমতার চেয়ারে টান! ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ কালীঘাটের
-
এবার জেলা হচ্ছে কলকাতাও! বাজেটে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় বিভ্রান্তি, কেন এহেন সিদ্ধান্ত সরকারের?