‘ভেবে দেখেছ কি, তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে, তারও দূরে, তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।…’ এই কঠিন পৃথিবীতে যেখানে ক্রমশ মানুষের বেঁচে থাকাটাই আশ্চর্যের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে প্রকৃত ভালোবাসা কষ্টকল্পনা মাত্র। তবু কি চেষ্টা করলে আর একটু এগিয়ে আসা যায় না? বন্ধ দরজাগুলো খুলে দিলে একটু দখিনা বাতাস তো আসতেও পারে। সেই আশার গল্পই শোনাবে চৈতি ঘোষালের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘নেভার মাইন্ড’ (Nevermind Film Review)।
জীবন সবসময় সরলরেখায় চলে না। না চাইতেও অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, খাদ বাঁচিয়ে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলতে হয়। কেউ সামলে নিতে পারে, কেউ পারে না। কিন্তু হারিয়ে গিয়েও কোথাও যদি একটু আশার আলো দেখা যায় সেই আলো ধরে এগিয়ে চলাই প্রাণের ধর্ম।
আরও পড়ুন:
ইংল্যান্ডের লেস্টার শহর থেকে নিজের শহরে ফিরেছে তৃণা (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত)। মৃত বাবার স্মৃতি, পুরোনো বাড়ির ইতিহাস, কাকিমার স্নেহের আশ্রয়ের মাঝেও কী যেন খুঁজে চলে সে। দিনের বেলায় ঘুরে বেড়ায় পুরোনো অফিসপাড়ায় আর রাতের অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায় স্বপ্নের শহরে। ও দেশে রয়েছে তৃণার স্বামী পুত্র সংসার। কিন্তু এখানে একাই তাকে খুঁজে পেতে হবে অতীতের যোগসূত্র। পার্ক স্ট্রিটের নেভার মাইন্ড নামের বারে এসে তৃণা নতুন করে আবিষ্কার করে জীবনের এক কঠিন সত্যকে। জুড সেবাস্টিয়ানের (অমর্ত্য রায়) গানের মধ্যে দিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় সে। সেই রাতেই শহরের আরও কিছু সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে চলে টানাপোড়েন।

জীবন সবসময় সরলরেখায় চলে না। না চাইতেও অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, খাদ বাঁচিয়ে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলতে হয়। কেউ সামলে নিতে পারে, কেউ পারে না। কিন্তু হারিয়ে গিয়েও কোথাও যদি একটু আশার আলো দেখা যায় সেই আলো ধরে এগিয়ে চলাই প্রাণের ধর্ম। তেমনভাবেই হারিয়ে যেতে যেতে খুঁটি খুঁজে নেয় তৃণা এবং আরও কয়েকজন। কখনও জুড, কখনও রবি ও অভি, কখনও সানিদা আবার কখনও রয়। কঠিনতম সময়ে দাঁড়িয়ে যখন বিশ্বাসের জায়গাগুলো একটু একটু করে নড়ে যায় তখন থেকে যায় সহমর্মিতা আর মূল স্রোতে ফিরে আসার প্রবল ইচ্ছা। ছবির সবকটি চরিত্রই পরিস্থিতির নিরিখে হেরে গিয়েও অনেক বেশি করে আঁকড়ে ধরে আন্তরিকতাকে। আসলে শেষমেশ বোধহয় সবটা ঠিক হয়েই যায়। যদি ঠিক না হয় তাহলে বুঝতে হবে, পিকচার অভি বাকি হ্যায়!
ছবির অন্যতম চালিকাশক্তি রূপম ইসলামের সুরে ও কণ্ঠে তিনটি গান। ‘ভায়োলেট বাড়ি’ গানটির কথা এবং সুর দুইই মুগ্ধ করার মতো। শেষ গানে রূপমের ক্যামিও ছবিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।
দু’ঘণ্টা একুশ মিনিটের দীর্ঘ জার্নি শেষে দর্শকের প্রাপ্তি হবে কিছু অনন্য উপলব্ধি, যাকে সহজে ভোলা যাবে না। পুরোনো কলকাতা এ ছবির এক প্রধান চরিত্র। অস্তমিত সূর্যের আলোয় সারাদিনের ক্লান্তিকে শুষে নিয়ে জেগে ওঠে পার্ক স্ট্রিটের নিয়ন আলোর ঝলমলে সন্ধ্যা। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রের ছবি ভারী সুন্দর ধরা দিয়েছে গোপী ভগতের চিত্রগ্রহণে। কাহিনী, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা সবটা মিলিয়েই চৈতির প্রথম পরিচালনা অনেকটা দক্ষিণের বারান্দার স্বস্তির মতো। তবে সানিদা চরিত্রকে আর একটু বিশদে দেখানো যেতে পারত। অভিনয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত যথার্থভাবে তৃণা হয়ে উঠেছেন। আনকোরা নতুন মুখ না হয়েও অমর্ত্য যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিমান। ছোট ছোট চরিত্রে মণিমুক্তোর মতো উজ্জ্বল শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শুভ্রজিৎ দত্ত, সুদীপা বসু, সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া সেন, কুশল চক্রবর্তী, কৌশিক করেরা। ছবির অন্যতম চালিকাশক্তি রূপম ইসলামের সুরে ও কণ্ঠে তিনটি গান। ‘ভায়োলেট বাড়ি’ গানটির কথা এবং সুর দুইই মুগ্ধ করার মতো। শেষ গানে রূপমের ক্যামিও ছবিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হাওড়া ডিভিশনে আরও ট্রেন! জুলাইতেই নয়া প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন, বড় ঘোষণা পূর্ব রেলের
-
কনে সেজে ছাঁদনাতলায় আস্ত কুমির! বিশ্বকাপের মাঝে মেয়রের ‘আজব’ বিয়ে নিয়ে শোরগোল
-
চাকরির টোপে টাকা! অনুব্রত, জীবনকৃষ্ণর বিরুদ্ধে রিপোর্ট তলব সিউড়ি আদালতের
-
ই-রিকশা হ্যাকে ৩ বছরের জেল, ৫ লক্ষ জরিমানা! চিনা অ্যাপের কারসাজি রুখতে কড়া কেন্দ্র
-
‘ভালোবাসা কখনও…’, আমিরকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে সলমনের জন্য মন কেমন ‘প্রাক্তন’ সোমির!