BREAKING NEWS

৩ মাঘ  ১৪২৭  রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

যৌনতা-সমকামিতার চোরাবালিতেই কি হারিয়ে গেল ‘পৌরষপুর’ সিরিজ? পড়ুন রিভিউ

Published by: Suparna Majumder |    Posted: December 31, 2020 5:05 pm|    Updated: December 31, 2020 5:05 pm

An Images

সুপর্ণা মজুমদার: সিংহাসনের খেলায় ষড়যন্ত্র, যৌনতা, সমকামিতা, লিঙ্গবৈষম্য, বিপ্লব, স্বার্থ— মানুষের স্বভাব কত দোষেই না দুষ্ট। অথচ তা নাকি উন্নত প্রজাতি। গুণের প্রকারভেদও রয়েছে। এমনই দোষ-গুণের OTT দলিল ‘পৌরষপুর’। Zee5 ও অল্ট বালাজির (Alt Balaji) যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ওয়েব সিরিজের আড়ম্বর প্রচুর।

‘পৌরষপুর’ (Paurashpur) নামেই পুরুষ প্রধান কল্পসাম্রাজ্যের আভাস পাওয়া যায়। এই রাজ্যের রাজা ভদ্র প্রতাপ (অন্নু কাপুর) নারীকে পায়ের জুতো কিংবা শয্যার খেলনা মনে করে। রাজার যৌনক্ষুধা মেটাতে নিত্যনতুন রানির জোগান দেন বড় রানি মীরাবতী (শিল্পা শিণ্ডে)। কিন্তু রাজপ্রাসাদ থেকে একের পর এক নতুন রানি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। এই রহস্যের পরতেই এসেছে বরিস (মিলিন্দ সোমন), কলা (পৌলমী দাস), ভানু (সাহিল সালাথিয়া), রণবীর (লাল আদিত্য) এবং আদিত্য (অনন্ত জোশী)।

[আরও পড়ুন: ফের ‘দেবদূত’ সোনু সুদ! শীতে কষ্ট পাওয়া অসহায় বৃদ্ধাদের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা]

কিছুটা ‘গেম অফ থ্রোনস’, কিছুটা ‘প্রিন্স অফ পার্শিয়া’, আর কিছুটা একতা কাপুরের (Ekta Kapoor) ‘নাগিন’ ধারাবাহিক মিলিয়ে তাতে যৌনতা, সমকামিতার ফোড়ন দিয়ে তৈরি এই সিরিজ। রাজকীয়তায় কমতি রাখেননি পরিচালক শচীন্দ্র ভাটস। তবে সিরিজের এপিসোডের সংখ্যা আরও কম হতেই পারত। তাহলে গল্পটি আরও মুচমুচে হত। সিনেম্যাটোগ্রাফি ও পোশকাসজ্জা মন্দ নয়। তবে অন্নু কাপুর যেন রাজার চরিত্রে একটি বেমানান। যদিও নিজের অভিনয়ে তা বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছেন প্রবীণ অভিনেতা। প্রয়োজন ছাড়া যৌন দৃশ্য জোর করে যেন ঢোকানো হয়েছে। মীরাবতি ও তাঁর ছেলে আদিত্যর সঙ্গে সমানতালে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখে গিয়েছে ভানু। আবার তৃতীয় লিঙ্গের বরিসের সঙ্গে তাঁর ভালবাসার কাহিনি দেখানো হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করেননি মিলিন্দ সোমন (Milind Soman)। দুঃখিত প্রচেষ্টা তিনি পুরো করেছেন, কিন্তু আখেরে পৌরষের উষ্ণতাই বেশি প্রতিভাত হয়েছে।

ট্রেলারে বীরের চরিত্রে হিন্দি টেলিভিশন অভিনেতা শাহির শেখকে (Shaheer Sheikh) দেখা গিয়েছিল। প্রায় সেইটুকু উপস্থিতিই তাঁর এই প্রথম মরশুমে রয়েছে। যদিও শেষে দ্বিতীয় মরশুমের ইঙ্গিতে তাঁর কাহিনি দেখার আশা জাগানো হয়েছে। তবে অনেক প্রশ্ন ‘পৌরষপুর’ সিরিজের এই প্রথম অধ্যায় দেখার পর মনে রয়ে গেল। রাজা ভদ্র প্রতাপের সঙ্গে বরিসের শত্রুতার কারণ কী? মীরাবতি কি সত্যিই নতুন রানিদের বাঁচাতে চেয়েছিল? তাহলে ছেলের প্রেমিকা কলাকে কেন মিথ্যে কথা বলে বিকৃতকাম স্বামীর বিছানায় ঠেলে দিল? বরিসের সঙ্গে যদি গোপনে হাতই মেলাল তাহলে তার প্রেমিক ভানুকে খুন করল কেন? উমঙ্গলতা (অস্মিতা বক্সী) এবং তার দাসীর সমকামী যৌনতা দেখানোর কি খুব প্রয়োজন ছিল? শেষে বরিসকে খুনই বা করল কে? প্রশ্নগুলির উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের খাতায় ঝুলে রইল। 

[আরও পড়ুন: ‘বিশের বিষ’ নিয়ে তৈরি রুদ্রনীলের বিশেষ কবিতা, ছন্দে ফেরালেন গোটা বছরের স্মৃতি]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement