২৪ চৈত্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

প্রেম আর রহস্যের মেলবন্ধনে জমজমাট ‘লাভ আজ কাল পরশু’

Published by: Bishakha Pal |    Posted: February 14, 2020 6:37 pm|    Updated: February 14, 2020 6:37 pm

An Images

চারুবাক: আজকের দিনটা ভ্যালেন্টাইনস ডে। বাংলায় প্রেমদিবস। বছরের বাকি ৩৬৪ দিন (এ বছর আবার ৩৬৫ দিন) কি তাহলে প্রেমহীন? পিরিত থাকবে না? ছেলে-মেয়ে গোমড়া মুখে আকাশে শকুন দেখবে? চাঁদ নয়? প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া আজকের ছেলেমেয়েরা অত সহজে দেবদাস হয় না। বরং সলমন-শাহরুখ হয়। আর পিরিতকে সারাক্ষণ জিওল মাছের মতো জিইয়ে রাখার রেসিপি তাদের অজানাও নয়। পরিচালক প্রতীম ডি গুপ্ত তাঁর চার নম্বর ছবি ‘লাভ আজ কাল পরশু’তে সেই চিরদিনের চিরকালীন প্রেমের এক অন্যরকম কাহিনি দিয়ে গেঁথেছেন।

শুরুতেই দুর্দান্ত চমক। ঝিনচ্যাক হোটেলের (আসলে গঙ্গাকুটির) ব্রেকফাস্ট লাউঞ্জে গায়ক রূপ রে আর ক্রিকেটার তৃপ্তির প্রথম মোলাকাতটাই যাকে বলে ঝক্কাস। রূপ লাইন মারতে গিয়ে নিজেই লাইনে আটকে যায়। বাঘা তেঁতুল হয়ে তৃপ্তি কুপোকাত করে দেয় বুনো ওল সাজা রূপ রে-কে। সপাট সংলাপ এমন যে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই দু’জনেই বিছানায়। কন্ডোম খুঁজতে গিয়ে সে কী হ্যাপা রূপের! তবে সেটা কিন্তু এক রাত্রির প্রেম হল না শেষ অবধি। মস্তিষ্কের দরজা বন্ধ থাকলেও হৃদয়ের দরজা খুলে যায় মাখনের মতো। দু’জনেরই। সুতরাং ‘প্রথম দেখা’ ধারাবাহিকের টিআরপি আর কে আটকাবে? হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। রূপ আর তৃপ্তির প্রেম নিয়েই কল্কি ম্যাডাম (পাওলি দাম) ধারাবাহিক বানাচ্ছেন কোনও চ্যানেলের জন্য। শুটিং স্থল একটি হোটেল এবং পারিপার্শ্ব। সেখান থেকেই প্রতিদিন শুটিং, এডিটিং ইত্যাদি শেষ করে পুরো এপিসোড চলে যাচ্ছে চ্যানেলের ঘরে। এঁরাই কোনও গল্প হচ্ছে তাপসী অভিষেক, কোনওটায় অভীক-তিস্তা, আবার অভিরূপ-তৃপ্তিও। অথচ এরা টালিগঞ্জের অর্থে কোনওভাবেই পেশাদার অভিনেতা নয়। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে তাঁদের চরিত্র বদলাচ্ছে। চরিত্র, পেশা, চেহারা, মাথা, মনও যাচ্ছে বদলে। সেটা করেছেন বটুক মাথুর নামে বাংলাভাষী হাতুড়ে হিপনোথেরাপিস্ট। কেন, কার পরামর্শে এমনটি করা হচ্ছে, সেটা উহ্য থাক। পিরিতের মানুষটিকে পাশে বসিয়ে না হয় সেটা দেখলেন।

[ আরও পড়ুন: চিত্রনাট্যে নতুনত্বের অভাব, কার্তিক-সারার কেমিস্ট্রিও বাঁচাতে পারল না ‘লাভ আজ কাল’কে ]

পরিচালক-চিত্রনাট্যকার প্রতীম ছবির অর্ধেক সময়টায় রহস্য বজায় রেখেছেন বেশ সুপরিকল্পিতভাবেই। দর্শক উপভোগ করেছেন অর্জুন-মধুমিতার সুন্দর রোম্যান্টিক রসায়ন, চটকদার ও হিউমার মেশানো সংলাপই এই পর্বের ইউএসপি। একটা পরিচিত প্রশ্নের জম্পেশ উত্তর রয়েছে চিত্রনাট্যে। চিকেন না ডিম, কে আগে? রূপ বলেছেন ‘লাভ কামস ফার্স্ট’। সত্যিই মুরগি আর ডিমের মধ্যে ‘প্রেম’ না থাকলে ফলটা হবে কীভাবে? এমনই ছোট্ট ছোট্ট অ্যাপ-টুইটার প্রজন্মের অতি আধুনিক সংলাপ এবং প্রতিসংলাপে মুরগি চাষি কন্ট্রাক্ট কিলার বা মডের তরুণী সাংবাদিকের প্রথম দেখা থেকে প্রথম প্রেম হয়েই চলেছে।

শেষ পর্যায়ে এসে এই ধারাবাহিক তৈরির রহস্য ফাঁস করে ফেলায় ছবিটি ‘সিরিয়াস’ হয়ে ওঠে। সমাপ্তিটা ফুলটুস মস্তির কৌশলে করতে পারলে আরও জমাটি হতো। এই বেপথু পর্বটি ছাড়া ছবির সারা শরীরে নিখাদ কমেডির মোড়কে প্রেমের বিচিত্রগতি পথটি সুন্দর ধরেছেন। ব্যাঙ্গের খোঁচা রয়েছে চ্যানেল কর্তা এবং সিরিয়াল নির্মাতাদের নিয়েও। প্রতীমের পরিচালনার হাতটি বেশ মুচমুচে ও স্বাদু। রান্নাটিও তিনি বেশ ভালভাবেই করেছেন। অরিন্দমের সুরে ‘শোন রে আমার গল্প বলা’ বা ‘আ দেখে যা আমাদের লুকনো অতীত’ গান দু’টি সুব্যবহৃত। অর্জুন চক্রবর্তীই এখানে অভি। সত্যিই বেশ স্মার্টলি লেটার পাওয়ার মতো কাজ করেছেন। প্লেবয় ইমেজের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাজেও সুন্দর অভিনয় তাঁর। তিস্তার চরিত্রে মধুমিতাও কিন্তু সমান পাল্লা দিয়েছেন। ফুটফুটে সুন্দরী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ সপ্রতিভ এবং সজীব। পাওলি দাম হোটেল ম্যানেজার কল্কি ম্যাডাম হিসেবে বেশ দাপুটে মেজাজ দিয়েই অভিনয় করেছেন। ওজনদার ব্যক্তি এবং খলনায়িকাপনা দুটো রূপেই পাওলি বেশ চোখ কাড়েন। অনিন্দিতা বসু (লীনা) অনির্বাণ (গণেশ), অভিজিৎ গুহ (বটুক) কমেডির ছোঁয়া দিতে ভুল করেননি। মজাদার মশলায় মাখা মজারু ছবি ‘লাভ আজ কাল পরশু’ আজকালের প্রজন্মের কাছে সাময়িক আবেদন রাখবে। কিন্তু পরশুর প্রজন্ম কী করবে বলা মুশকিল। কারণ এখনকার লাইফস্টাইল তো বটেই, জীবনদর্শনটাই না বদলে যায়। যদিও পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন প্রকৃত প্রেম চিরন্তন, ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড এক রাত্রির উল্লাস।

[ আরও পড়ুন: হৃদয় ছোঁয়া ছবি অভিজিৎ-সুদেষ্ণার ‘শ্রাবণের ধারা’ ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement