চারুবাক: পরিচালকের প্রথম ছবি এটি, কিন্তু একটি মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না৷ ঘটনা-সময়-গল্পের বাঁধুনিতে মুরারীমোহন রক্ষিত ‘রিইউনিয়ন’-কে এত সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন যে নব্বই দশকের রাজনীতির প্রেক্ষাপটকে মনে করাতে যেন স্মৃতির কাজ করে৷ ‘সত্তা’ হয়ে উপস্থিত হয়৷ আদর্শে স্থিতধী পার্টি থেকে বিতাড়িত রুদ্র চরিত্রটি৷ আর ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করে অভি-শুভ-অর্কর দল৷ যাঁরা এই সময়ের প্রতিনিধি হয়েও নবজীবনের স্বপ্ন দেখতে চায়৷ ফিরিয়ে আনতে চায় হারানো অতীত৷
[‘কেদারনাথ’-এ সারা-সুশান্তের প্রেম কতটা মন ছুঁল দর্শকদের?]
প্রায় ২৫ বছর আগে বামপন্থী রাজনীতির দুটো দিকই তাঁর চিত্রনাট্যে জায়গা পেয়েছে৷ একদিকে রয়েছে অভূত জনসমর্থন পাওয়া দলের গ্রাসরুট লেভেলের কাজকর্ম, আদর্শ ও তত্ত্বের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আবার একই সময়ে দলের মধ্যেই গজিয়ে ওঠা প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ক্ষমতা ধরে রাখার ঘৃণ্য কৌশলটাও বাদ দেননি৷ যার শীর্ষে নিট ফল এই মুহূর্তে দলটি ভয়ংকর বিপন্ন৷ এই সত্য কথন আজকের কটি বাংলা ছবিতে আমরা দেখতে পাই? পাই না বলাই ভাল৷ সুতরাং এই ‘রিইউনিয়ন’ এক অন্য ভাবনার ছবি হিসেবে জনসমর্থন দাবি করে৷
গল্পের মূল কাঠামো রুদ্র এবং মনিদীপাকে ঘিরে৷ একজন ছাত্রনেতা, অন্যজন এমএলএ-র মেয়ে৷ তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক৷ আর দলের চাইতে গভীরে আছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহানুভূতির সঙ্গে প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শও৷ রুদ্র কোনওভাবেই আদর্শ নীতিচ্যুত হতে রাজি নয়৷ কিন্তু স্বার্থন্বেষী নেতা দলের একনিষ্ঠ ও তাঁর শাগরেদরা যে ক্ষমতালোভী৷ এমন পরিবেশে কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে ঘটে দু’পক্ষের সংঘাত৷ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জয় ছিনিয়ে নেয় হিংসা দিয়ে৷ আর সেই হিংসার বলি হয় রুদ্র৷ সেই পরিস্থিতিতে পালিয়ে গিয়ে সে আশ্রয় নেয় পাহাড়ি এক গ্রামে৷ যেখানে সীমিত ক্ষমতা ও সামর্থ্যে চলতে থাকে নতুন সমাজ গড়ার একক লড়াই৷ মনিদীপা হারিয়ে যায় রাজনীতির চোরা আবর্তে৷ এই দুই চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়েছিল অর্ক-শুভ-জয়ী-রোমিরাও৷
[আজকের যুগের ছেলেমেয়েদের সাদামাটা গল্প? নাকি অন্যরকম ছবি ‘জেনারেশন আমি’?]
‘রিইউনিয়ন’ শুরু হওয়ার কুড়ি বছর পর আজকের সময়ে চরিত্রগুলি আবার মিলিত হয়৷ পুরো কাহিনিতে উঠে আসে ছেঁড়া ছেঁড়া ফ্ল্যাশব্যাক৷ সঙ্গে থাকে জয় সরকারের সুরে পুরনো মেজাজে রূপংকর-নচিকেতার গাওয়া দু-তিনটি গান৷ সত্যিই যেন পর্দায় ফিরে আসে সেই নব্বই দশকের উত্তেজনাময় উন্মাদনায় ভরপুর ছাত্রজীবন৷ পরিচালককে ধন্যবাদ জানাতেই হবে৷ ছোটখাট ত্রুটি সত্ত্বেও মুহূর্তগুলোকে আনন্দ ও বেদনায় মুড়ে দিয়েছেন তিনি৷ পর্দায় পরমব্রত-রাইমার রসায়ন একইরকম মুচমুচে ও সুন্দর৷ ইন্দ্রাশিস, সৌরভ, সমদর্শী, সায়নী, শুভ্রজিৎ, অনিন্দ্য, পুলক, অনিন্দিতা প্রত্যেকেই চিত্রনাট্যের দাবি মিটিয়ে সপ্রাণ-সজীব৷ এই ছবির কাস্টই ইউএসপি৷
সর্বশেষ খবর
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
-
ভাঙছে আরও একটি পুর বোর্ড! ইস্তফা দিলেন দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান