BREAKING NEWS

১৯ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২ জুন ২০২০ 

Advertisement

কেমন হল ঋত্বিক ও পাওলির ‘শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’?

Published by: Bishakha Pal |    Posted: August 15, 2019 8:17 pm|    Updated: August 15, 2019 8:17 pm

An Images

চারুবাক: এই হয়েছে এক মুশকিল। বাজারে দু-চারটে থ্রিলার ‘খেলো’ বলে এখন টালিগঞ্জের প্রায় সবাই থ্রিলার খেলায় মজে গেলেন। কিন্তু সিরিয়াস চিত্র সমালোচক থেকে ফিল্ম পরিচালক হওয়ায় প্রতীম ডি গুপ্ত সেই একই ঘরানায় পা রাখবেন কেন? আগের ছবিগুলোয় তো তিনি নিজস্ব ভাবনার পরিচয় দিয়েছিলেন। যেমন বিষয় ও বক্তব্যে, তেমনি ঝরঝরে ও স্বাদু ছিল তাঁর পরিচালনার কৌশলও। কিন্তু এই ‘শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’ তাঁর কাজকে আর একটু এগিয়ে তো দিলই না, বরং বলতে পারি যেন পিছিয়েই পড়লেন জনচাহিদার ভাবনায়।

প্রতীম বলছেন এটি মার্ডার মিস্ট্রি, ‘মার্ডার’ বলতে তিনি যদি শান্তিলালের অন্তর্দন্দ্বের ‘খুন হওয়া’ বা ফিল্মের জনপ্রিয় নায়িকা নন্দিতার প্রতি স্বপ্নিল দুর্বলতার মৃত্যুর ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন, সেটা ‘মাছের ঝোল’-এর দর্শকের ক’জন বুঝতে পারবেন- সন্দেহ আছে। থ্রিলার অর্থাৎ রহস্য গল্পের অন্তিমটা বলা বারণ। প্রতীম নিজেও তেমনটি অনুরোধ করেছেন। তাই করছি না। তবুও একটা প্রশ্ন করতেই হচ্ছে। পরিচালকের কথা অনুযায়ী ছবির পশ্চাদপট আটের দশকের থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। এখনকার বাংলা সিনেমার নায়িকা নন্দিতা জনপ্রিয়তার চূড়ায় দাঁড়িয়েই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করার সময়ে সুন্দর সুন্দর বুলি আউড়েছেন। কিন্তু এই নন্দিতাই আটের দশকের একটা সময়ে পানু ছবির ‘বডি ডাবল’ হয়ে কাজ করেছেন ফিল্ম জগতে ঠাঁই পাওয়ার জন্য। প্রায় ৩০ বছরের ফারাকেও তাঁর স্বাস্থ্য, ঔজ্জ্বল্য ও গ্ল্যামার কিন্তু বেড়েইছে। কমেনি। সাংবাদিক শান্তিলাল নন্দিতার অতীত জানতে মুম্বই থেকে সিঙ্গাপুর চষে বেড়িয়েছে। কিন্তু তাঁর সেই স্টোরি নিজের কাগজের সম্পাদক (গৌতম ঘোষ) নিতে পারল না। নিল নতুন এক পত্রিকা। যদিও প্রতিবেদনটির হেডলাইনে কোথাও নন্দিতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর গুণমুগ্ধরা কি সেটা বুঝতে পারবেন না?

shantilal

[ আরও পড়ুন: রিয়েলের মতোই রিল লাইফেও সাফল্য পেল ‘মিশন মঙ্গল’ ]

প্রতীমের সিনেমা ভাষায় তেমন কোনও বদল চোখে পড়ল না। তরতরিয়ে সাবলীল ভাষায় ঘটনা পরম্পরায় সাজিয়ে গল্পটা বলেছেন। যেমন বলেন। রহস্যের উন্মোচন না করে দর্শকের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে উপসংহার ভেবে নেওয়ার দায়। সংবাদপত্রের আদিমের পরিবেশ শান্তিলালের মধ্যবিত্ত বাড়ির পরিমণ্ডল সুন্দর ও বাস্তবভাবেই সাজিয়েছেন। একটু অস্বস্তি লাগে সুন্দর সিঙ্গাপুরে রকেটরঞ্জন নামের বাঙালি (অম্বরীশ) চরিত্রের মুখে তামিল-সিঙ্গাপুরী ভাষা, বাংলা-ইংরেজি কমেডির কাজ করেছে ঠিকই। কিন্তু ছবির বিষয়ের সঙ্গে জোলো করেনি। শুভঙ্কর ভড়ের ক্যামেরা পিকচার অনেকসময় পোস্টকার্ডের মতো। আবার প্রয়োজনীয় মুহূর্তে নীরব সহস্র কথা বলার মতো কম্পোজিশন সিনেমাটোগ্রাফি। সেজন্য অবশ্য প্রতীমেরও ক্রেডিট কম নয়।

এই ছবির চিত্রনাট্য ঋত্বিক চরিত্র শান্তিলাল ভিত্তিক। তাঁর অভিনয়ে অন্তর্দন্দ্বকারী সাংবাদিকের চাইতে নায়িকা মুগ্ধতাই বেশি ক্রিয়াশীল। প্রজাপতির অদৃশ্য নির্বন্ধে বাঁধা পড়েছিলেন সেইই। যে কারণে সমাপ্তি অন্যরকম হল না। খুবই স্বাভাবিক ও বাস্তবতার নিরিখে চিত্রনাট্যে যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছে শান্তিলালের মতো মুখ্য চরিত্র। পাওলি দাম জনপ্রিয় নায়িকার গ্ল্যামার ও ভাবভঙ্গি সুন্দর রপ্ত করেছেন। অভিনয়ে তিনি অবশ্যই চিত্রনাট্য ডিঙিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছবেন। কিন্তু তাঁর কাছে একটা ছোট্ট জিজ্ঞাসা। ‘মহানায়ক’ ধারাবাহিকে সুচিত্রা সেনের অভিনয়ের পর থেকেই তাঁর লুকে, হেয়ার স্টাইলে, শরীরী বিভঙ্গে ‘ম্যাডামের’ ছাপটা একটু বেশিই প্রতিফলিত। এটি কি পরিকল্পিত? নাকি…? অম্বরীশ ভট্টাচার্য, অলকানন্দা রায়, শংকর চক্রবর্তী, গৌতম ঘোষ একবারেই সঠিক নির্বাচন। ‘যত কাছে যাই তত দূর’ গানটির প্রয়োগ ভাল। দ্বিতীয় গানটির প্রয়োজনই ছিল না। প্রথম প্রদর্শনীর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হল এই শান্তিলাল ষাঁড়ের চোখ বিঁধতে পারবে তো?

[ আরও পড়ুন: অ্যাকশনে ভরপুর ‘প্যান্থার’, জিৎময় ছবিতে ম্লান বাকি অভিনেতারা ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement