১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অবস্থান অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ গানটির প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া উচিত। সম্প্রতি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সেই অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ফলস্বরুপ দানা বেঁধেছে বিতর্ক। গানটির প্রথম দুটি স্তবকে মূলত মাতৃভূমির সৌন্দর্যায়নকেই তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবদেবীর প্রতীকী উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণে গানটি সকল ধর্মের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর সহমত পোষণ করতেই ফুঁসে উঠলেন বলিউডের ‘ক্যুইন’ কঙ্গনা রানাউত।
এই ঘটনা যে বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহুতির মতো কাজ করল, তা বলাই বাহুল্য। শর্মিলা ঠাকুর ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখেছেন। আর কঙ্গনা রানাউতের মতে, গানের শব্দ রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ‘বন্দে মাতরম’কে ব্যাখ্যা করেছেন। দুই তারকার মত বিনিময়ের উৎসস্থল কোথায়? সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে শর্মিলা ঠাকুর ‘বন্দে মাতরম’ গানটি নিয়ে নিজের মত ব্যক্ত করেন। তাঁর কথায়, “ভারতে এমন অনেক ধর্মের মানুষ রয়েছেন যাঁরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। তাই ‘বন্দে মাতরম’-এর পরের অংশে একাধিক দেবতার উল্লেখ তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে।”
আরও পড়ুন:
শর্মিলার মতে, “প্রথম দুটি স্তবক তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য। কারণ সেখানে মূলত মাতৃভূমির বন্দনা করা হয়েছে। কিন্তু পরের অংশে দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। একেশ্বরবাদী ধর্মাবলম্বীদের জন্য তা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।” কঙ্গনা রানাউত প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক ‘বন্দে মাতরম’ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শর্মিলার সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর মতকে সম্মান জানিয়েই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

কঙ্গনা লিখেছেন, ‘বন্দে মাতরম নিয়ে শর্মিলা জি তাঁর আপত্তির কথা বলেছেন, আমি সেটার প্রশংসা করছি। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে শিল্প ও কবিতা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এত সীমাবদ্ধ ও কৃত্রিম কীভাবে হতে পারে, তা দেখে আমি অবাক। কবিতা বা গানে শব্দ অনেক সময় রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শিল্পীরা কাঙ্ক্ষিত আবেগ ও প্রভাব তৈরি করতে নানা ধরনের কল্পনা ও তুলনা ব্যবহার করেন। কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচনা করলে ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক তাৎপর্যকে খাটো করা হয়।’

কঙ্গনার বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমগ্র জাতির অন্তরের শক্তিকে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমন একটি মহান শিল্পকর্মকে কীভাবে শুধু ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায়? শক্তিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় অর্থে দেখার প্রয়োজন নেই। শক্তি বা ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়।স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন তাঁর এমন যুবসমাজ দরকার, যাঁদের শরীর লোহার মতো শক্ত, হাড় ইস্পাতের মতো এবং শিরায় বজ্রের মতো শক্তি প্রবাহিত হবে। তিনি তো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেননি। শক্তির জাগরণ চেয়েছিলেন। তাই হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে আসুন। আসুন, একে অপরকে আপনজনের মতো আলিঙ্গন করি। আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি এবং আপনি যেমন সবসময় আমাকে জড়িয়ে ধরেন, তেমনই জোরালো আলিঙ্গন চাই।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
যেন হিন্দি ছবির স্ক্রিপ্ট! এক তরুণীর প্রেমে দুই গ্যাংস্টারের লড়াই, নাগপুরে ভিড় রাস্তায় ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড
-
ভারতের কাছে হেরে ভয় পেয়ে গিয়েছে! দ্বিতীয় টেস্টে স্পিন পিচের ‘মোহ’ থেকে সরছে শ্রীলঙ্কা
-
কুমোরটুলিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের রূপরেখা! ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরির উদ্যোগ রাজ্যের
-
জাতীয় পশুর শিকার জাতীয় পাখি! মহারাষ্ট্রের জঙ্গলে লেন্সবন্দি বিরল দৃশ্য
-
‘ব্ল্যাক হোল তারকা’ রহস্যভেদে ভারতীয় তরুণ! কী এই মহাজাগতিক বস্তু?