রমেন দাস: স্বপ্নের আরশিনগর নাকি অন্ধকারেও নিরন্তর জ্বলতে থাকা প্রদীপ! বাঙালির উত্তম-চয়নে বিশেষণের অভাব নেই আজও। বাংলার, বাঙালির এই অভিনেতাকে দশকের পর দশক ধরে যাপন করছে বাঙালি। যাঁকে ঘিরে রয়েছে কথকতা। মুহূর্তের উপজীব্য, বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে বারবার। কিন্তু উত্তম থেকেছেন নিজের হয়েই!
মহানায়কের (Uttam Kumar) বাড়ি-কথায় উঠে আসে একাধিক স্থানের নাম। বারাসত থেকে আহিরিটোলা (Ahiritola) ছাড়িয়ে তাঁর আবাস-যোগ পৌঁছয় ভবানীপুর আবার ময়রা স্ট্রিটেও। কিন্তু এই উত্তমের জন্মলগ্নে ছুঁয়ে আছে উত্তর কলকাতার অলিগলি, একেকটি ঐতিহ্যের ইতিহাস! গঙ্গাপাড়ের কাছের বহু বহু অজানা কথাও।

উত্তর কলকাতার (North Kolkata) বিকে পাল পার্ক ছাড়ালেই আহিরিটোলা স্ট্রিট। সেখানকার ৫১ নম্বর বাড়িটিতেই রয়েছে মহানায়কের জীবনস্মৃতি। মামার বাড়ির ইট-কাঠ-পাথরে ছুঁয়ে ইতিহাস। কারণ এই বাড়ির দোতলার একটি ছোট্ট ঘরেই জন্ম নেন বাংলার, বাঙালির, দেশের সর্বকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা উত্তমকুমার।
আদি-অন্তের সেই বাড়িতেই আজও স্মৃতিকথায় বাঁচেন পরিবারের সদস্যরা। শয্যাশায়ী উত্তমের মামিমা আজ অপারগ! রয়েছেন তাঁর সন্তান, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিরা। তাঁরাই বয়ে বেড়াচ্ছেন স্মৃতি। প্রত্যেক মুহূর্তে প্রত্যেক দিন, তাঁরাই যেন বলে চলেছেন ভালো-মন্দের উপাখ্যান।

উত্তমকুমারের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী সুবর্ণা মুখোপাধ্যায়। আজও ধূসর লালবাড়ির দোতলার এই ঘর আগলে রেখেছেন এই প্রবীণ সদস্যা। সুবর্ণা মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয় সেই বিয়ের সম্বন্ধ করেন, আমার বড় জেঠি শাশুড়ি। অর্থাৎ আমার ভাশুর উত্তমকুমারের বড় মামিমা। তখন সবেমাত্র ছবি দেখছি। অল্পসল্প যা দেখা সম্ভব। উত্তমবাবু আমাদেরও পছন্দের ছিলেন। কিন্তু যখন শুনলাম আমি তাঁর আত্মীয় হচ্ছি, বৌমা হচ্ছি, বিস্মিত হয়েছিলাম। শ্যামবাজারের মেয়ে তখন আনন্দও পেয়েছিল। সে এক অন্য অনুভূতি।’ উত্তমকুমারের মামাবাড়ির এই সদস্যা বলছেন, ‘বিয়ের পরে এই বাড়িতে আসি। তারপর তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোয় গিয়েছি বহুবার। দেখেছি, কথা হয়েছে। একেবারে মাটির মানুষ ছিলেন। বুঝতেই পারতাম না, একজন বিখ্যাত মানুষ এত ভালো হতে পারেন কীভাবে! অল্প কথা বলতেন কিন্তু ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন। একটুও শিকড় ভুলতেন না।’ সুবর্ণাদেবীর কথায়, ‘যেখানে বসে কথা বলছি, শুনেছি এখানে দুর্গাপুজোয় আসতেন উত্তমবাবু। অঞ্জলি দিতেন। আমার শাশুড়ি মা, ওঁর মামিমা বলেন, উনি ভীষণ দুষ্টুমি করতেন ছোটবেলায়। দুরন্ত ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশতেন।’ উত্তমকুমারের আঁতুড়ঘর এখনও গুছিয়ে রাখেন সুবর্ণা। তিনি বলছেন, ‘আমরা গর্বিত। এইরকম একজন মানুষের আত্মীয় তাই। এই ঘরে উনি জন্মেছেন, সেটাও সৌভাগ্যের।’ উত্তমের প্রাক-শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই উঠে আসছে তাঁর মাটির কাছাকাছি থাকাও। সুবর্ণা মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘তাঁর ছেলে গৌতমের বিয়েতে গেছি। উনি কোমরে হাত দিয়ে একেবারে ডেকে, হেঁকে সকলকে যত্ন করে খাওয়ালেন। কথা হল। খোঁজ নিতেন। যত্ন করতেন। নিজেদের মানুষকে এত ব্যস্ততার মধ্যেও কোনও দিন ভুলে যাননি।’
এই বাড়ির কাছেই রয়েছে উত্তমকুমারের আবক্ষ মূর্তি। আজও তাঁর জন্মদিনে, প্রয়াণদিবসে মালা পান তিনি। কিন্তু তাঁর বউমা বলছেন, ‘আমি মনে করি তিনি আজও জীবন্ত, মারা যাননি! নইলে শতবর্ষ হতে চললেও তাঁকে নিয়ে এত আবেগ কেন! এই বিশ্বাস আমাদেরও বাঁচিয়ে রেখেছে হয়তো!’
দেখুন ভিডিও:
সর্বশেষ খবর
-
সর্বকালের সেরা, ‘হ্যান্ড অফ গডে’র দিন বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন GOAT মেসি
-
বাজেটে বরাদ্দ ৫০ কোটি, প্রসার ঘটবে ভাষা-সংস্কৃতির, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ধন্যবাদ মূল মানতার
-
‘আসল’ তৃণমূলে গিয়ে মমতার চেয়ারে টান! ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ কালীঘাটের
-
এবার জেলা হচ্ছে কলকাতাও! বাজেটে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় বিভ্রান্তি, কেন এহেন সিদ্ধান্ত সরকারের?
-
এতদিন টাকা ঢুকত তৃণমূল নেতাদের পকেটে! গঙ্গা ভাঙনে বাজেট বরাদ্দে খুশি জঙ্গিপুর