২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

ছোটদের হাত থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে গল্পের বই, পরিবর্তে জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল, এজন্য কি অভিভাবকরাই দায়ী! উঠছে প্রশ্ন। নবপ্রজন্ম এনিয়ে কী ভাবছে? শুনলেন সোমনাথ লাহা

ঋদ্ধি সেন
(অভিনেতা)

আমার যখন পাঁচ বছর বয়স তখন বাজারে প্রথম পেজার আসতে শুরু করেছে। ভিডিও গেমস আসছে। অর্থাৎ বলা যায় সেই সময় থেকে প্রযুক্তি বা টেকনোলজি আস্তে আস্তে আমাদের জীবনে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আমাদের প্রজন্মের মধ্যে আমরাই গল্পের বই পড়া, মাঠে খেলা এগুলোর মধ্যে দিয়ে বড় হয়ে উঠেছি। ছোটবেলায় গল্পের বই পড়ার থেকেও গল্প শোনার প্রতি একটা অদ্ভুত রকমের আগ্রহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মনে আছে প্রতি শনি/রবিবার করে দিম্মার কাছে গল্প শোনার জন্য ছুটে চলে যেতাম। না গেলে মনটা ভালই লাগত না। একটা অভ্যেসের মতো হয়ে গিয়েছিল। এখনকার জীবনযাত্রায় বাবা-মা দুজনেই ব্যস্ত থাকায় তারা ছেলে-মেয়েদের মোবাইল গেমস, ইউটিউবের কার্টুনের মধ্যে দিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। বলা ভাল তাদের মনটাকে ওই জগতে আটকে দিয়েছেন। কারণ গল্পের বই থেকে গল্প পড়ে শোনানোর মতো ধৈর্যটুকুও আর তাদের মধ্যে নেই। অপরদিকে ছোটরাও বাড়ির পারিপার্শ্বিক পরিবেশটা যেভাবে দেখছে সেভাবেই তারা বড় হয়ে উঠছে। ফলস্বরূপ ওই ভার্চুয়াল দুনিয়ার মধ্যেই তারা নিজেদের ভাল লাগাটুকুকে খুঁজে নিচ্ছে। আমি মনে করি না ইন্টারনেট খারাপ বা এ জন্য নেট ব্যবহার থেকে সরে আসা উচিত। কিন্তু বাবা-মায়েরও এক্ষেত্রে ভূমিকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টারনেট সম্পর্কে আপনার সন্তানকে অবশ্যই পরিচিত করান কিন্তু ইন্টারনেটে সে কী দেখবে, কেন দেখবে, বা কতটা দেখবে তার একটা ব্যালান্স করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ ইন্টারনেটের সব কিছু সমস্ত বয়সিদের জন্য নয়। বাড়িতে পড়ার একটা অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সব সময় বাচ্চার হাতে মোবাইল তুলে না দিয়ে তাকে গল্পের বই থেকে গল্প পড়ে শোনান, প্রয়োজনে মাঠে খেলতে পাঠানো উচিত। যেখানে সে তার মনের মতো বন্ধু পাবে। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বন্ধু গড়ে ওঠার থেকে বাইরে সঠিকভাবে বন্ধু হওয়াটা ভীষণ জরুরি বলে আমার মনে হয়। বাবা-মায়ের উচিত ব্যস্ততার মধ্যে থেকে ছেলে-মেয়ের সঙ্গে গল্প পড়ে, আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো। তার মনোজগতের খবর রাখা। আমি এখনও মা-বাবার সাথে সময় করে গল্প করি, বাড়ির পরিবেশে বই পড়ার চর্চা, গল্প শোনানোর মতো বিষয়গুলো থাকলে ছোটরাও গল্পের বইয়ের দুনিয়াতে ফিরে আসবে। আর সেটা তাদের মনোজগৎকেই সমৃদ্ধ করবে।

শিবরাত্রিতে উন্মোচিত পর্দা, রহস্যভেদ ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির গল্প ও চরিত্রের ]

দর্শনা বণিক
(অভিনেত্রী)

ছোটদের হাত থেকে গল্পের বই চলে গিয়ে মোবাইল আসার জন্য দায়ী বাবা-মা। অনেক বাড়িতে দেখেছি ছোট বাচ্চা কাঁদলে তাকে ভোলানোর জন্য গল্প না শুনিয়ে মোবাইল চালিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী বাচ্চাকে খাওয়াতেও তার সামনে মোবাইলে কার্টুন চালিয়ে দেওয়া হয়। এখনকার বাবা-মারা এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যে মনে করেন মোবাইলের মধ্যে আসক্ত থাকলে বাচ্চা আর দৌরাত্ম্য করবে না। শান্ত হয়ে বসে থাকবে, ফলে মাঠে-ময়দানেও আর ছোটদের দেখা যায় না। চারিপাশে পার্ক রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেখানে ছোটরা নেই, নিউক্লিয়ার পরিবারে কর্মরত বাবা-মা বাড়ির কাজের মাসির কাছে বাচ্চাকে রেখে যান। তিনি ও বাবা-মার কথামতো ছোট বাচ্চাটিকে শান্ত করতে তাকে ওই মোবাইলের আঙিনার দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন। আমার মনে হয় কোথাও গিয়ে এখনকার অভিভাবকরা তাঁদের যথার্থ দায়িত্ববোধ পালন করছেন না। আমরা ছোটবেলায় ভূতের গল্পের বই, টিনটিন, অ্যাসটেরিক্সের কমিকসের বই পড়ে যে আনন্দ, অনুভূতি পেয়েছিলাম সেগুলো এখনকার ছোটরা পায় না। এমনকী তারা টিনটিনকে চেনে না। ঈশপের গল্পের নাম শোনেনি। আমরা ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে বইমেলায় গিয়ে বই কেনা ছাড়াও বাবার কাছে গল্পের বই কেনার আবদার করলে বাবা কলেজস্ট্রিটে নিয়ে গিয়ে বই কিনে দিতেন। সেসবও এখন হারিয়ে গেছে। এখন ছেলেমেয়েরা বাবা-মার সঙ্গে কলেজস্ট্রিট বা বইপাড়ায় যায় ঠিকই তবে পড়ার বই/সিলেবাসের বই কেনার জন্য। আর তার প্রভাব আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় মাধ্যমিক পাস করলে তবেই বাবা-মার উচিত মোবাইল দেওয়া। তার আগে তাদের হাতে বইটাই তুলে দেওয়া উচিত। তবেই ছোটদের মধ্যে নিজস্ব চিন্তা-চেতনার বিকাশ হবে। সঠিকভাবে পূর্ণতার সঙ্গে বড় হয়ে উঠবে তারা।

পর্দায় ফের সন্ত্রাস দমনে অক্ষয়, দেখুন ‘সূর্যবংশী’র প্রথম ঝলক ]

ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়
(অভিনেতা)

ছোটদের হাতে বইয়ের বদলে স্মার্টফোন জায়গা করে নেওয়ায় বাবা-মা দায়ী বলে আমার মনে হয় না। কারণ এটা এই সময়ের ফল বা এফেক্ট বলা যায়। আজকের গ্লোবালাইজেশন/টেকনোলজিক্যাল এফেক্ট। তার ফলেই এই সমস্যা হয়েছে। কারণ মোবাইল গেমসের টেকনোলজি, ভিসু্যয়াল এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে ছোট বাচ্চারা তাতে আকর্ষিত হবেই। গল্পের বই, সাহিত্যর মধ্যে দিয়ে চিন্তা ভাবনা, মনোজগতে প্রবেশ করার উৎসাহটাই তাই কমতে বসেছে। বই পড়ে ফেলুদা, ব্যোমকেশের যে আনন্দটা আমরা অনুভব করেছি সেটা থেকেও তারা বিচু্যত। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমি ‘চাঁদের পাহাড়’ গল্পের বইটা পড়ে শঙ্করকে চিনেছি। আর এখন কোনও ছোট বাচ্চাকে ‘চাঁদের পাহাড়’ বললে সে বলে দেবের চাঁদের পাহাড়। আমি তো দেখেছি সিনেমাটা। তফাতটা এখানেই, আমাদের বাড়িতে ছোট থেকে দেখেছি বই পড়ার একটা অভ্যাস ছিল। এখনও রয়েছে। ঠাম্মা বই পড়ত। বাবা বই পড়ে, সেটা দেখে আমার ও বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। এমনকী আমি যে স্কুলে পড়তাম সেই ফিউচার ফাউন্ডেশনে সেখানে শিক্ষকরা সবসময় আমাদের পড়ার বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়ার জন্য নিরন্তর উৎসাহ দিতেন। কিন্তু এখন পড়া মানেই সিলেবাস সর্বস্ব। নম্বরভিত্তিক পড়া। অভিভাবকরা সেটাতেই উৎসাহ দেন। তার বাইরেও যে অনেক কিছু পড়ার জানার রয়েছে সেটা তারা মনে করেন না। আর অনেক বোর্ড আবার বিভিন্ন লেখকের গল্পকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করায় সেই গল্প ছোটরা পড়ঠে ঠিকই, কিন্তু নম্বরের কথা মাথায় রেখে। আমার মনে হয় গল্পের বইয়ের গল্প গল্পের জায়গাতেই নম্বরের জায়গায় সেটা চলে আসায় ছোটরা সেই বই পড়ার প্রতি উৎসাহ ও হারিয়ে ফেলছে। কারণ সেটা তাদের পরীক্ষার নম্বরের প্রাপ্তির অংশ হয়ে থাকার ফলে সেটার প্রতি অনীহা দেখা দিয়েছে তাদের মধে্য। অদ্ভুত একটা নো-এক্সিট পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা। আমি এখন যাদবপুরে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে পড়ি। সেখানে সমস্ত ধরনের সাহিত্য ছোটদের ফেয়ারি টেল, উপন্যাস সব কিছু সম্পর্কে জানাটা খুব প্রয়োজন। আর পড়ার বইয়ের বাইরে গল্পের বই আমাদের ভাল লেখা, পড়া এমনকী সঠিক শব্দচয়নেও সাহায্য করে। আমার মনে হয় বাবা-মায়ের উচিত বাড়িতে বই পড়ার অভ্যাসটা রাখা। যাতে ছোটরা বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং