১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার
বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ

১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

BREAKING NEWS

বালাসাহেব ঠাকরের চরিত্রে অভিনয় করে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে তিনি। মুখ খুললেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। সামনে অহনা ভট্টাচার্য

এরকম একটা চরিত্রে অভিনয়। একটু এদিক-ওদিক হলেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, এই ভয়টা ছিল?

নওয়াজ: দেখুন, আজকের দিনে অনেক সময় বিনা কারণেই মানুষকে সমালোচনা সহ্য করতে হয়। তাই সমালোচনা নিয়ে আমি আর ভয় পাই না। তা ছাড়া আমি এটাও মনে করি যে একজন মানুষের কোনও বিষয়ে সমালোচনা করা তখনই শোভা পায়, যদি তিনি সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন। আমার অনেক বন্ধু আছেন, যাঁরা অভিনয় নিয়ে অনেক কিছু জানেন। আমার শিক্ষকরা বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা দীর্ঘ দিন কাটিয়েছেন সেই সব মানুষ। তাঁরা কিছু বললে আমি মাথা পেতে গ্রহণ করি। কিন্তু যে কেউ এসে আমার সম্বন্ধে যা খুশি বলে গেলে আমি পাত্তাই দেব না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং সম্বন্ধেও একই কথা বলবেন?

নওয়াজ: আরে সে তো কিছু ভিতু লোকজন বসেই থাকে, যারা এগুলো করে। তাদের আর কোনও কাজ নেই। আমি একটা ছোট জায়গা থেকে উঠে এসে নিজের পরিশ্রমে বলিউডে নিজের জায়গা অর্জন করেছি। আগে সেটা করে দেখান, তার পর আমার সমালোচনা করতে আসুন। আমি নিশ্চয়ই মেনে নেব। কারও ব্যাপারে দুম করে কিছু বলে দেওয়া বা লিখে দেওয়া খুব সহজ। আগে নিজে কিছু অ্যাচিভ করে দেখান। সাফল্য এত সহজে আসে না। অনেক কষ্ট করে তা অর্জন করতে হয়। যে পেশাতেই আপনি থাকুন না কেন।

শুটিং চলাকালীন উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল?

নওয়াজ: একবার দেখা হয়েছিল। উনি সেটে এসেছিলেন। তখনই ওঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হয়।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও দক্ষিণপন্থী রাজনীতির এত বড় মাপের নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

নওয়াজ: দেখুন ম্যাডাম, একজন অভিনেতাকে নিজের অভিনয়-জীবনে বিভিন্ন রকমের চরিত্রে কাজ করতে হয়। আমি সবার আগে একজন অভিনেতা। আমাকে যে চরিত্রে কাজ করতে বলা হবে, আমি সেটাকেই আমার সবটুকু দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব। আর অভিনয়টা কেমন করেছি, সেটা ২৫ তারিখ ছবিটা দেখে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।

বালাসাহেব ঠাকরের মতো একটা চরিত্রে অভিনয় করা কতটা কঠিন ছিল?

নওয়াজ: অসম্ভব চ্যালেঞ্জিং ছিল। বালাসাহেবের ব্যক্তিত্বের অনেকগুলো দিক রয়েছে। সেগুলো ঠিকঠাকভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্যে আমাকে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে কী জানেন, কোনও চরিত্রে কাজ করা যদি সহজ না হয়, তাহলেই আমি বেশি মজা পাই। প্রত্যেক অভিনেতাই নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে এসে কাজ করতে মজা পান।

কতখানি দায়িত্ব থাকে যখন এরকম একটা চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পান?

নওয়াজ: এরকম একটা চরিত্রে কাজ করার সময় দায়িত্বটা অবশ্যই অনেকটা বেড়ে যায়। খেয়াল রাখতে হয় যেন কোনও ভুল ট্র্যাকে চলে না যাই। চরিত্রের বিভিন্ন খুঁটিনাটি ফুটিয়ে তোলার সময়ও খুব সাবধানে পা ফেলতে হয়। যেমন ধরুন, বালাসাহেব যখন কার্টুন আঁকতেন, ওঁর তুলি ধরার একটা বিশেষ কায়দা ছিল। ছবির একটা দৃশ্যে আমি সেটা দেখানোর চেষ্টা করেছি।

রিত্রটা করতে গিয়ে কখনও নার্ভাস লেগেছে?

নওয়াজ: এই ছবির প্রস্তুতির সময় একটা ব্যাপারে একটু নার্ভাস ছিলাম। ওঁর চরিত্র ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারব কি না। ওঁকে সবাই দেখেছে। ইন্টারনেটে ওঁর বিষয়ে প্রায় সব তথ্য রয়েছে। তাই ভয় ছিল, কোথাও যেন ভুল না হয়। তবে পরিচালক অভিজিৎ পানসে আর সঞ্জয় রাউত এ ব্যাপারে আমাকে খুব সাহায্য করেছেন।

কীভাবে এই চরিত্রের জন্যে নির্বাচিত হয়েছিলেন?

নওয়াজ: আমাকে রাউত সাব একদিন ডেকেছিলেন। দেখা করার দু’মিনিটের মধ্যেই উনি আমাকে জানিয়ে দেন যে আমাকেই এই চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ‘ফ্রিকি আলি’ ছবিতে আমার হাঁটার কায়দা ওঁর খুব পছন্দ হয়েছিল। তখন থেকেই আমার কথা ভেবে রেখেছিলেন।

বালাসাহেব ঠাকরের সঙ্গে আপনার কোনও চারিত্রিক মিল আছে?

নওয়াজ: আজ পর্যন্ত যে যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, তার কোনওটার সঙ্গে হয়তো কোথাও আমার মিল খুঁজে পেয়েছি। আবার কোনওটার সঙ্গে একেবারেই মিল নেই। আমি মনে করি একজন মানুষের মধ্যে এক হাজার মানুষ বাস করে। আমার অভিনীত সব চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবে আমার মিল থাকবে, এটা সম্ভব না।

বায়োপিক করতে গিয়ে অনেক অভিনেতা অল্পবিস্তর মিমিক্রি করে ফেলেন। সে ব্যাপারে সচেতন ছিলেন?

নওয়াজ: অবশ্যই! বালাসাহেব খুব ভাল বক্তা ছিলেন। ওঁর বক্তৃতা দেওয়ার কায়দা রপ্ত করতে আমাকে ভালমতো প্র্যাকটিস করতে হয়েছিল। এটাও মাথায় রেখেছিলাম যে আমার অভিনয় যেন ক্যারিকেচার বা মিমিক্রির মতো না দেখায়। আমাকে দেখে যেন দর্শকের ওঁর কথা মনে পড়ে, আবার মিমিক্রি না করে ফেলি– এই দুটো একসঙ্গে মাথায় রেখে কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল।

 এই ছবিটা থেকে কিছু শিখেছেন?

নওয়াজ: জীবনের প্রতি মুহূর্তে আমরা শিখছি। বালাসাহেব খুব সাহসী মানুষ ছিলেন, কোনও ব্যাপারেই চট করে ভয় পেতেন না। সেটা অবশ্যই শেখার মতো। আর কিছু বলব না, সব যদি এখনই বলে দিই তাহলে ছবি দেখার মজাটা কোথায়?

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং