মানুষের সঙ্গে তার পোষ্যর সম্পর্কের গভীরতা কতখানি, বাইরে কিছুই আন্দাজ করা যায় না। একটা সময় অবধি মানুষ যে প্রাণীকে লালন করে, পরে দেখা যায় সেই পোষ্যই মানুষকে এমন সম্পর্কে জুড়ে নিয়েছে, যে কোনও স্বার্থের বাইরে সেই বাঁধন। ‘ওহ্ মাই ডগ’ তেমনই ধারার ছবি। পোষা কুকুর আর তার মানুষ সঙ্গীর যে বন্ডিং, তা আশ্চর্য মায়ার। চমৎকার ভেবেছেন পরিচালক অমিত রাই। অতীতের ছোটদের ছবির কথা মনে করিয়ে দেয় এই ছবি। কোথাও সত্যজিৎ রায়ের ভাবনার ছোঁয়াও রয়েছে।
একটা বাচ্চা ছেলে তার প্রিয় পোষ্যর জন্য কী করতে পারে দেখার। অন্যদিকে এক সারমেয় কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে তার ভালোবাসার মানুষের জন্য তাও দেখার। আবেগ, ভালোবাসা, সাসপেন্স মিলেমিশে একাকার।
আরও পড়ুন:

বিহার আর অসমের প্রেক্ষাপটে দুটি সমান্তরাল গল্প দানা বাঁধে ছবিতে। অসমের কিশোর অপু (মাহি রাই) বাড়িতে পড়াশোনার মাঝে হঠাৎ বুঝতে পারে তার প্রিয় পোষ্য ‘মোমো’ (ব্রুনো), নিখোঁজ। মায়ের (গীতা আগরওয়াল শর্মা) সঙ্গে অপু তখন থানায় ছোটে। পুলিশ নিমরাজি হয়েও তদন্তে নামে। অন্যদিকে বিহারে নির্মাণ সংস্থায় কর্মরত কিশোর প্রিন্স নিখোঁজ হয়ে যায় যখন তার প্রিয় ‘অস্কার’ অন্বেষণে নামে। একদিকে অপু তার শিক্ষিকার (সুলক্ষণা বড়ুয়া) সাহায্যে পোষ্যর খোঁজ করছে। আর ভাবছে কী হল মোমোর। কেউ কি তাকে কিডন্যাপ করল! নানা শঙ্কায় তার মন উথাল-পাতাল। গল্পের আরেক দিকে, পথকুকুর অস্কার তন্ন তন্ন করে খুঁজছে প্রিন্সকে। যখন বিহারে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির চোরাই ব্যবসা চলছে। অস্কারের অভিযানে জুড়ে যান একজন মাস্টার (পঙ্কজ ত্রিপাঠী) এবং প্রিন্সের স্বজন-বন্ধুরা। ছবি জুড়ে তোলপাড় চলে মানুষ আর তার পোষ্যর টানাপোড়েনে। এদিকে ঘটনার তদন্তে উদাসীন আর এক পুলিশ (রাজেশ কুমার)। একটা বাচ্চা ছেলে তার প্রিয় পোষ্যর জন্য কী করতে পারে দেখার। অন্যদিকে এক সারমেয় কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে তার ভালোবাসার মানুষের জন্য তাও দেখার। আবেগ, ভালোবাসা, সাসপেন্স মিলেমিশে একাকার। প্রধান চরিত্র অস্কারের পায়ে একটা সমস্যা আছে, কিন্তু তার লয়্যালিটি উদ্যম তাকে অবিকল্প করেছে। এই ছবির আসল হিরো অস্কার।
পোষ্য আর মানুষের নিঃশর্ত ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ছবির প্রাণশক্তি। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ছবি, ব্যবসার কথা না ভেবে ক’জন বানাতে পারেন? ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য ফিল্ম হয়ে থাকবে ‘ওহ্ মাই ডগ’।

আড়াইশোটি কুকুর নিয়ে শুটিং করা সহজ নয়। সম্পূর্ণ কৃতিত্ব পরিচালক অমিত রাইয়ের। খুব ভালো লাগে কিশোর অপু ও তার শিক্ষিকাকে। পঙ্কজ ত্রিপাঠী স্থানীয় ডগ লাভার শিক্ষকের চরিত্রে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য। এ ছাড়া শিক্ষিকার চরিত্রে সুলক্ষণাকেও ভালো লাগে। অভিজ্ঞ পুলিশের ভূমিকায় পবন মালহোত্রা সাবলীল। এই ছবিটির ভাবনা এবং প্রয়াস খুব ভালো। সারমেয়দের প্রতি নির্ভেজাল ভালোবাসা না থাকলে এই ছবি বানানো সম্ভব নয়। ‘ওহ্ মাই গড ২’ পরিচালনা করেছিলেন অমিত রাই, তিনিই এই ছবির পরিচালক। দর্শক স্ক্রিনে আটকে থাকবে। তবুও বলতে হয়, ছবির দৈর্ঘ্য অনেকটা কমানো যেত। চিত্রনাট্যে আরও কাটাছেঁড়া দরকার ছিল। নিশ্চিতভাবেই অতিনাটকীয়তা চোখে লাগে। বড্ড সরলীকরণ মনে হয়েছে কয়েকটা জায়গায়। পোষ্য আর মানুষের নিঃশর্ত ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ছবির প্রাণশক্তি। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ছবি, ব্যবসার কথা না ভেবে ক’জন বানাতে পারেন? ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য ফিল্ম হয়ে থাকবে ‘ওহ্ মাই ডগ’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
শান্তি বহু দূর! ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে হরমুজে মার্কিন রণসজ্জা, প্রণালী ঘিরল ২০ ‘জলদানব’
-
শনির দশায় জেরবার সায়ন্তিকা! প্রেম জীবন নিয়ে নায়িকাকে কোন পরামর্শ জ্যোতিষীর?
-
গোল সেলিব্রেশনে লাফ দিয়ে সোজা টানেলে, চোট পেয়ে জানলেন গোল বাতিল! ভিডিও ভাইরাল
-
কলকাতার রাজপথে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রায় জাতীয় পতাকা হাতে মুখ্যমন্ত্রী, শামিল হাজার হাজার মানুষ
-
বালোচিস্তানে হামলা পাক সেনার! কোয়েত্তায় পুলিশের হাত থেকেই অস্ত্র ছিনিয়ে নিল বিদ্রোহীরা