কেমন আছেন?
– ভালো। ব্যস্ততার মধ্যে। সামনে ‘নেভারমাইন্ড’ রিলিজ। শুটিং চলছে ‘রেখা’ আর ‘জয়িতা’র। বম্বেতেও কিছু কাজ চলছে। ওখানে ‘মঞ্জিল’ ছবিটার প্রচার শুরু হয়েছে।
মাঝখানে বেশ কিছুদিন কলকাতায় ছিলেন না?
– লন্ডনে প্রোগ্রাম ছিল। কাজের পরিমাণ বেশি থাকলে কলকাতায় থাকা হয়, এ ছাড়া সিঙ্গাপুরেও তো আমার বাড়ি আছে। ওখানে যাই। মা চলে যাওয়ার পরে কলকাতায় ফাঁকা লাগে। শাশুড়িমাও ভুগছেন। নেভারমাইন্ড, ইউ হ্যাভ টু মুভ অন।
আরও পড়ুন:
‘নেভারমাইন্ড’ ছবিটা প্রযোজনা করতে রাজি হলেন কেন? চৈতি ঘোষাল ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে?
– চৈতিদি পরিবারের মতো। একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। এই ছবিতে অভিনয় করার জন্যই আমাকে ফোন করেছিলেন। পার্ক স্ট্রিটের গল্প জেনে আমার ভালো লেগেছিল। পার্ক স্ট্রিট থেকে আমাদের ছোট ছোট পা গুলো বড় হয়ে গিয়েছে কিন্তু পার্ক স্ট্রিট বদলায়নি। কত স্মৃতি। ফ্লুরিজ, মিউজিক ওয়ার্ল্ড, হবি সেন্টার, ভিডিও গেম খেলা। বাবা যখন বলতেন, মোকাম্বোয় খেতে নিয়ে যাব, সেটা সবচেয়ে আনন্দ দিত ওই বয়সে। মা-বাবার বাড়িও পার্ক স্ট্রিটের কাছে রবিনসন স্ট্রিটে। মা প্রয়াত হওয়ার পর ওই জায়গাটা আমাকে খুব টানে। চৈতিদির কাছে গল্প শুনে ভালো লেগেছিল। খুব ইন্টারেস্টিং কিছু নুয়ান্সেস এনেছে চৈতিদি।
কমিটিতে থাকি বা না থাকি আই ডোন্ট কেয়ার। কারণ কমিটিতে থাকলেও আমি কমিটেড টু মাই ওয়ার্ক, না থাকলেও। কমিটির আমাকে প্রয়োজন হলে ডেকে নেবে।
একরাতের গল্প শুনেছি।
– হ্যাঁ, মিউজিক ছবির মেরুদণ্ড বলা যায়। রূপমের এনার্জি সারা ছবিতে। রূপম দারুণ মিউজিক করেছে। তৃণা (ঋতুপর্ণা) আর জুডের (অমর্ত্য) এই গল্প। বলব, সবাই হল-এ গিয়ে দেখুন। অমর্ত্যর অন্যতম সেরা কাজ হতে চলেছে। ভালো লাগছে চৈতিদি অভিজ্ঞ অভিনেত্রী হলেও ছবি পরিচালনায় প্রথমবার। অন্যদিকে অমর্ত্যকেও নবাগত বলা যায়। আমি চিরকালই নতুন মেকারদের পাশে থেকেছি। যেমন শিবপ্রসাদের ‘ইচ্ছে’ প্রেজেন্ট এবং কো-প্রডিউস করেছিলাম। তারপর জিতের ছবি ‘পটাদার কীর্তি’ বা রঞ্জনের ‘আহা রে’-র সঙ্গেও আমি ছিলাম। আর চৈতিদির ক্ষেত্রে বলব আমার দিদির মতন। যখন চৈতিদির প্রযোজক নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল তখন আমরা পরিকল্পনা করি যে সবাই কোলাবরেট করে ছবিটা করব। আমার সঙ্গে আরও দু’জন কোলাবরেট করেছে। আর ছবিটা আমি প্রেজেন্টও করলাম। এই গল্পটার এসেন্সটা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।

মাঝের সময়ে যখন আপনি ছিলেন না, রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। সরকার বদলের পর কতটা আশাবাদী?
– সরকার নিশ্চয়ই সরকারের মতো কাজ করবে। আমি আশাবাদী। আমার পজিটিভিটি আমার স্ট্রেন্থ। সেখান থেকেই ভাবি এই সরকারও পজিটিভলি কাজ করবে। মানুষ এই সরকারকে নিয়ে এসেছে, নিশ্চয়ই সেই আশা থেকে নিয়ে এসেছে।
কি মনে হয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা, রিলিজের সমস্যা মিটবে?
– রিলিজ সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে মনে হয়। এখন সবাই সবার মতো করে ছবি রিলিজ করতে পারছে। আগে একটা অন্য নিয়ম করা হয়েছিল, অন্য পদ্ধতি ছিল। আমার মনে হয় রিলিজ করার স্বতন্ত্রতা থাকা উচিত। কারণ, অনেক সাইজের ছবি হয়। একটা হয়তো পাঁচ কোটি বাজেটের ছবি। অন্যটা হয়তো ৫০ লাখের ছবি। তো সেই ৫০ লাখের ছবিটাকেও আমাদের জায়গা দিতে হবে। তার কাছে হয়তো টাকা নেই, কিন্তু সৃজনশীলতা আছে। অনেক ছবি প্রথমে মনে হয়েছে কিছু না। পরে দেখা গিয়েছে সেই ছবি বড় জায়গা করেছে। যেমন উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, মানস মুকুলের ‘সহজ পাঠের গপ্পো’। বা রঞ্জনের (ঘোষ) ‘অদম্য’র কথা বলব। যেটার আমি ওয়ান অফ দ্য প্রেজেন্টার। ওকে সব সময় সাপোর্ট করি। তার আগে ‘দোস্তজী’ও জায়গা করে নিয়েছিল।
অগ্নির মধ্যে যে প্রতিজ্ঞা, সংকল্প আছে সেটা খুব কম মহিলার আছে। ও যে লম্বা স্ট্রাগল করেছে আমি তার প্রশংসা করি। ওর সঙ্গে বসব একদিন সিনেমা নিয়ে।
সাম্প্রতিক কালে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য একটি কমিটি তৈরি হয়েছে। যেখানে চার বিধায়ক-শিল্পী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ছাড়াও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আরও অনেকে রয়েছেন। সেই কমিটিতে কি আপনি আছেন বা প্রস্তাব গিয়েছে?
– (হাসি) আমি কমিটিতে নেই। ঠিক আছে ইট’স ওকে। কমিটিতে থাকি বা না থাকি আই ডোন্ট কেয়ার। কারণ কমিটিতে থাকলেও আমি কমিটেড টু মাই ওয়ার্ক, না থাকলেও। কমিটির আমাকে প্রয়োজন হলে ডেকে নেবে। আমার কমিটিকে প্রয়োজন হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নেব।
রুদ্রনীল ঘোষ কিংবা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
– খুব ভালো যোগাযোগ। সবাই ওরা বন্ধু। আমি কনগ্র্যাচুলেশন জানানোর পর রূপাদি আমাকে আদর করে মেসেজও করেছিল। সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। কারণ এরা আমার সহ অভিনেতা, বন্ধু, অনেক দিনের সহকর্মী। রুদ্র আর আমি একসঙ্গে অনেক ছবি করেছি। রুদ্রকে শুভেচ্ছা জানানোর পর ও রিং ব্যাক করেছিল। ইনফ্যাক্ট, অনীকদার (দত্ত) ঘটনাটার সময় আমি ছিলাম না এখানে। রুদ্র আমাকে ফোন করে বলেছিল, অনীকদাকে নন্দনে নিয়ে আসা হবে, তুমি অবশ্যই এসো। আমি আসতে পারিনি। ফুল পাঠিয়েছিলাম। পরে ‘নেভারমাইন্ড’-এর পোস্টার লঞ্চ-এর সময় ওঁর স্মৃতিতে নীরবতা পালন করি। পাপিয়াদি, হিরণের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক।

অগ্নিমিত্রা পাল আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু। এই মুহূর্তে তিনি মন্ত্রিত্বে। তাঁর সঙ্গে ভাবনার আদান-প্রদান হয়েছে সিনেমা নিয়ে?
– হয়েছে। ইনফ্যাক্ট কয়েকদিন আগে অগ্নির একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলাম। ও খুব আনন্দ করল। যখন ইন্ডাস্ট্রিতে ওকে কেউ সেভাবে সুযোগ দেয়নি আমিই ওকে ওর ডিজাইনিং নিয়ে প্রথম সুযোগ করে দিয়েছিলাম। সে কথাও সেদিন উল্লেখ করল। ভালো লাগল, যে অগ্নি সেদিন বলল। অগ্নির মধ্যে যে প্রতিজ্ঞা, সংকল্প আছে সেটা খুব কম মহিলার আছে। ও যে লম্বা স্ট্রাগল করেছে আমি তার প্রশংসা করি। ওর সঙ্গে বসব একদিন সিনেমা নিয়ে। এই মুহূর্তে ও এতটা ব্যস্ত হয়ে রয়েছে। দু’জনের মিউচুয়াল সময় বেছে নিয়ে আমি কয়েকটা পয়েন্ট নিয়ে বসব।
নতুন সরকার আসার পর আমরা শুনেছি, ব্যান কালচার, থ্রেট সংস্কৃতি থাকবে না। কী মনে করেন দলীয় রং নির্বিশেষে টলিউডে একসঙ্গে কাজ হবে?
– সেটাই তো হওয়া উচিত। শিল্পীর কোনও রং হয় না। শিল্পেরও না। মা বলতেন, শিল্পীকে সারা পৃথিবী সমাদর করে। সেখানে কোনও সীমানার ব্যাপার থাকে না। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস যে কোনও মানুষের থাকতে পারে। এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আমি চাইব, যেন রাজনৈতিক রং নির্বিশেষে সবাই কাজ করতে পারে।
রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা, আমলারাও থাকেন। আমরা স্টেজ শেয়ার করি, ছবি তুলি। আমি কোনওদিন সরাসরি রাজনীতিতে ছিলাম না, আই উইল ডেফিনিটলি টেক দিস লিবার্টি টু সে, আমি যেটা করেছি সেটা সম্পূর্ণ সৌজন্য বোধ এবং নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে করেছি।
একজন শিল্পীর কি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা উচিত?
– এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। এটা যার যার ব্যক্তিগত মত। একটা অন্য প্রসারের জন্য, মানুষের কাজ করার জন্য, কারও রাজনৈতিক ভাবনা থাকতে পারে। সেখান থেকে শিল্পী হয়তো শিল্প ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যান। সাউথে আমরা দেখেছি অনেক শিল্পী রাজনীতিতে চলে গিয়েছেন। সেখান থেকে তাঁদের পরবর্তী উত্থান। এখানেও অনেককে দেখেছি, তাঁরা হয়তো আরও বেশি মানুষকে সার্ভ করতে চান। আমি আমার শিল্পের মধ্য দিয়ে, কাজের মধ্যে দিয়ে মানুষকে সার্ভ করি। হয়তো অন্যরা মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সার্ভ করতে চান। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি পালাবদলের ফলে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে অনেকে ভাইফোঁটা দিতেন। আপনিও ফোঁটা দিয়েছেন। কিছু অনুষ্ঠানেও গিয়েছেন। যার জন্য আপনি সমালোচিত, ট্রোলডও হয়েছেন। এতে কি ইন্ডাস্ট্রির মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ধাক্কা খাচ্ছে?
– উনি যখন মন্ত্রিত্বে ছিলেন একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। বৃদ্ধাশ্রমের অনেক মহিলাদের ডেকেছিলেন। তাঁরা ভাইফোঁটা দিয়েছিলেন। তেমন আয়োজন উনি প্রত্যেক বছর করেন। সেই বৃদ্ধাশ্রমে আমি শাড়িও বিতরণ করেছিলাম, যেরকম করে থাকি। তেমনই এই অনুষ্ঠানে অরূপদা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অন্যধরনের ইনিশিয়েটিভ, নারীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে, আমি সেভাবেই দেখেছিলাম বিষয়টা। সবসময় মানুষের রাজনৈতিক দিকটা দেখিনি, আমি মানবিকতার দিকটাও দেখেছিলাম। উনিও ওই বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে বহুদিন ধরে কাজ করেছেন। সেই সূত্রে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম। বিভিন্ন সময় ওঁদের পুজোগুলোতেও গিয়েছি। বাচ্চাদেরও দেখাতে নিয়ে গিয়েছি। এর সঙ্গে রাজনীতির মেলবন্ধন নেই। অন্য পার্সপেকটিভ থেকেই গিয়েছিলাম। যখন হোমমিনিস্টার অমিত শাহ এসেছিলেন, আমি রবীন্দ্র জয়ন্তীতে পারফর্ম করেছিলাম। ক্রিয়েটিভিটির জায়গা থেকেই ছিলাম। যাঁরা এই ধরনের মন্তব্য করছেন, জলঘোলা করছেন বা বিষয়টা অন্যদিকে নিয়ে যেতে চাইছেন সেটা তাঁদের সমস্যা। আমাদের বহু অনুষ্ঠানে যেতে হয়। যেখানে অনেক ধরনের মানুষ থাকেন। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা, আমলারাও থাকেন। আমরা স্টেজ শেয়ার করি, ছবি তুলি। আমি কোনওদিন সরাসরি রাজনীতিতে ছিলাম না, আই উইল ডেফিনিটলি টেক দিস লিবার্টি টু সে, আমি যেটা করেছি সেটা সম্পূর্ণ সৌজন্য বোধ এবং নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে করেছি। আবার অনেক সময় তাঁরাও আমার নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে এসেছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক্তন-বর্তমানের ‘ভয়ংকর পুনর্মিলন’ হবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে, সম্পর্কের জটিল ধাঁধায় জয়া-চূর্ণী
-
মেয়ের আবদারে কাজে যাননি, যমদুয়ার থেকে তারাতলার শ্রমিক বাবাকে ফেরাল খুদে
-
‘দিদি’কে ফিরিয়ে ‘দাদা’তে আস্থা! ভবানীপুরে নতুন অফিস খুলে শুভেন্দু বললেন, ‘রোজ পরিষেবা পাবেন’
-
ঢাকা হত সিসিটিভি, শৌচাগারে লুকনো টাকা! রাম মন্দিরে ‘চুরি’র নীল নকশায় তাজ্জব তদন্তকারীরা
-
‘দ্বিতীয়বার আসতে হলে ভালো হবে না’, মাফিয়ারাজ রুখতে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রী শঙ্করের