৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

মোটামুটি সকলের ধারণা খানদান  ছিল রাজ কাপুরের একার। কাছের লোকেরা কিন্তু জানতেন আর.কে. খানদানের নেপথ্য সম্রাজ্ঞী কে ছিলেন? সেই কৃষ্ণা রাজ কাপুরের  স্মৃতিচারণে ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক জে্যাতি ভেঙ্কটেশ। 

তখন ‘সঙ্গম’-এর শুটিং চলছে। কখনও উটিতে আউটডোর, কখনও সুইজারল্যান্ডে। মুম্বইয়ে খবর এসে পড়ছে, চূড়ান্ত প্রেম চলছে রাজ কাপুর আর বৈজয়ন্তীমালার।  জানেন এমন সময় কী করেছিলেন কৃষ্ণা রাজ কাপুর? প্রকাশ্যে তিনি কখনও স্বামীর বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেননি। কিন্তু তাই বলে ভাববেন না, স্বামীর সব কিছু মেনে নিতেন। স্টিলের তৈরি নার্ভ ছিল তাঁর।
রাজ কাপুর-বৈজয়ন্তীমালা প্রেমপর্ব যখন মধ্যগগনে, বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কৃষ্ণা রাজ কাপুর। একা নন, ছেলেমেয়ে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার ফার্স্ট লেডি।

কোথায় থাকতেন তিনি? মেরিন ড্রাইভের হোটেল নটরাজে। ছেলেমেয়ে নিয়ে ওই হোটেলে বেশ কয়েক দিন থেকেছিলেন কৃষ্ণাজি। যত দিন না রাজ কাপুরের বোধ ফিরেছিল যে নিজের পরিবারের কী ক্ষতিটা তিনি করছেন, তত দিন ওই হোটেল ছেড়ে বাড়িমুখো হননি। ভেবে দেখুন ভদ্রমহিলার কী অসীম সাহস! এর কয়েক বছর আগে নার্গিসেরও মনে হয়েছিল, ত্রিভুজের তৃতীয় কোণ হতে চান না তিনি। তখন ‘মাদার ইন্ডিয়া’-র শুটিং চলছে। সাহস করে একদিন সেটেই নার্গিসকে প্রোপোজ করলেন সুনীল দত্ত। নার্গিসও দেরি না করে হ্যাঁ বলে দিলেন।

[পুজোয় সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টা মিস করেন ইন্দ্রাণী-ইমন-অপরাজিতা?]

কাপুর পরিবারের সময়টা সত্যিই খারাপ যাচ্ছে। এই তো সে দিন ঋষি কাপুরকে চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হল। তাঁর কী অসুখ হয়েছে, এখনও জানা যায়নি। এর মধ্যেই মারা গেলেন তাঁর মা, কৃষ্ণা রাজ কাপুর। সর্বক্ষণ সাদা শাড়ি-সাদা ব্লাউজ পরতেন বলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকে তাঁকে ‘লেডি ইন হোয়াইট’ বলে ডাকত। সেই লেডি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সোমবার ভোরবেলা, সাতাশি বছর বয়সে। বহু বছর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। খেপে খেপে লম্বা সময়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকতেন। কৃষ্ণা রাজ কাপুরের মৃত্যুসংবাদ আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সাংবাদিক হিসেবে আমার প্রথম দিনগুলো। সে সময় যখনই চেম্বুরে ঐতিহাসিক আর.কে. স্টুডিওতে যেতাম, দেখতাম রাজ কাপুরের পাশে কৃষ্ণাজি। তাঁকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম আমি। ডাকতাম কৃষ্ণা আন্টি বলে।

অসামান্য বড় মনের মানুষ ছিলেন কৃষ্ণা আন্টি। আর.কে. স্টুডিওর হোলি উৎসব হোক বা রাজ কাপুরের জন্মদিনের পার্টি, দরাজ হাতে অতিথি আপ্যায়ন করতেন। শুধু স্টুডিওতে নয়,  দেওনারের আর.কে. কটেজ বা পুণের লোনি ফার্মেও তিনি ছিলেন সমান অতিথিবৎসল। ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ আর ‘প্রেম গ্রন্থ’-এর শুটিং কভার করতে গিয়ে আমার নিজের চোখে দেখা।
কৃষ্ণাজি আর রাজ কাপুরের প্রেম কাপুর পরিবারে প্রবাদসম। ঘটনাটা আপনাদের বলি। অভিনেতা প্রেমনাথের বাড়ি গিয়েছিলেন রাজ কাপুর। সেখানে গিয়ে দেখেন, একমনে তানপুরা বাজাচ্ছেন কৃষ্ণাজি। পরনে সাদা শাড়ি। এক দেখাতেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন রাজজি। সেই সাদা শাড়িতে দেখা প্রথম দর্শনের মুগ্ধতার জন্যই বারবার করে রাজ কাপুরের নায়িকাদের সেই সাদা শাড়িতে দেখা গিয়েছে। তা কখনও নার্গিস, কখনও ‘সঙ্গম’-এর বৈজয়ন্তীমালা, কখনও ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এর জিনাত আমন। কৃষ্ণাজির জন্ম রেওয়া-তে। তাঁর বাবা রায়সাহেব কর্তরনাথ মলহোত্র ছিলেন রাজ কাপুরের বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুরের মায়ের দিককার তুতো ভাই। কৃষ্ণাজির তিন ভাই– প্রেমনাথ, রাজেন্দ্রনাথ আর নরেন্দ্রনাথ।

[ ‘প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মনোবিদের সাহায্য চেয়েছিলাম’]

যাই হোক, যেটা বলছিলাম। দু’জনের যখন প্রথম সাক্ষাৎ হল, তখন রাজজির বয়স ২২। কৃষ্ণাজি মাত্র ষোলো। ১৯৪৬ সাল। ওঁদের বিয়েটা লাভ ম্যারেজ, আবার অ্যারেঞ্জডও। কৃষ্ণাজির পাঁচ সন্তান– রণধীর, ঋষি, রাজীব, রিমা আর রিতু। শেষ জীবনে অবশ্য তাঁর নাতি নাতনিদের পরিচয়ে তিনি বেশি খ্যাত ছিলেন। করিনা কাপুর, রণবীর কাপুর আর ঋদ্ধিমা কাপুর। সাতাশি বছর বয়সেও যথেষ্ট অ্যাক্টিভ ছিলেন কৃষ্ণাজি। পারিবারিক পার্টি বা সিনেমার প্রিমিয়ারে প্রায়ই দেখা যেত তাঁকে। এমনকী ঋষি কাপুরের জন্মদিন সেলিব্রেট করতে প্যারিসও গিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে রাজ কাপুর মারা গেলেন। তার পর কিন্তু গোটা কাপুর পরিবারকে একসঙ্গে করে রেখেছিলেন কৃষ্ণাজিই। তাঁর মৃত্যু সঙ্গে তাই একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। বলিউডের সবাই স্বাভাবিক ভাবেই শোকাহত। 

কৃষ্ণা আন্টির সঙ্গে আমার শেষ দেখা শাম্মি কাপুরের শেষকৃত্যে। ওরলির হোটেল ব্লু সি-তে। দেওরের মৃত্যুশোকে মধ্যেও কৃষ্ণা আন্টি আমাকে কাছে ডেকে নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, অতিথিদের জন্য একপাশে স্যান্ডউইচ রাখা আছে। আমি যেন অবশ্যই কিছু খেয়ে যাই। অত বড় কাপুর পরিবার। চারদিকে ডালপালা মেলা। তবু সবার সঙ্গে আলাদা আলাদা করে যোগাযোগ রেখেছিলেন কৃষ্ণা আন্টি। তাঁর সব সময় লক্ষ্য ছিল, যা কিছুই হোক না কেন, পরিবারে যেন কখনও ভাঙন না ধরে। ইন ফ্যাক্ট ওঁর মৃত্যুসংবাদ আমি পাই, ওঁর ভাই প্রেমনাথের বড় ছেলে প্রেম কিষেণের কাছ থেকে। প্রেম কিষেণ খুব ভালবাসতেন তাঁর পিসিকে। আমাকে পরে বলছিলেন, “পাপা আর তার পরপর মায়ের মারা যাওয়াটা আমার কাছে খুব বড় ধাক্কা ছিল। এখন কৃষ্ণাজিও নেই। আজ নিজেকে অনাথ মনে হচ্ছে।”

ঋষি কাপুরকে নিয়ে অসম্ভব পজেসিভ ছিলেন কৃষ্ণাজি। নায়ক হিসেবে তাঁর ছেলে কোন ফিল্মে ডেবিউ করবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট মতামত ছিল কৃষ্ণাজির। ‘ববি’ ফিল্ম নিয়েও তাই উনি অদ্ভুত পজেসিভ ছিলেন। মনে আছে মাদ্রাজে একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেছিলাম, ‘ববি’ বেআইনি ভাবে টেলিকাস্ট হচ্ছে। ফিরে এসে কৃষ্ণা আন্টিকে বলেছিলাম ঘটনাটা। উনি প্রচণ্ড রেগে গেলেন। বললেন, তখনই রাজ কাপুরকে জানাতে। রাজজি শোনামাত্র তাঁর পাবলিসিটি ম্যানেজারকে ফোন করলেন। বললেন, ভারতীয় সরকারের কাছে একটা চিঠি পাঠাতে। আর ফিল্মের স্বত্ব না কিনে তা বেআইনি ভাবে টেলিকাস্ট করার অপরাধে মোটা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে। আদালত পর্যন্ত ব্যাপারটা নিয়ে গিয়েছিলেন রাজজি। তার পর অবশ্য দূরদর্শন ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল।  হ্যাঁ, এতটাই ধারালো ছিল কৃষ্ণা আন্টির ব্যবসায়িক বুদ্ধি। রাজজি ওঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন।
জীবনে কোনও ফিল্মে অভিনয় করেননি কৃষ্ণা রাজ কাপুর। অথচ তাঁর চলে যাওয়ার পরে মনে হচ্ছে,  আর.কে. ফিল্মস তার অন্যতম উজ্জ্বল তারকাকে হারাল!

[ ঋতুপর্ণা, দেবশ্রীর থেকে কী উপহার চান? অকপট প্রসেনজিৎ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং