BREAKING NEWS

২৩ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

ফের বিয়ে ভাঙছে শ্রাবন্তীর! জল্পনায় তোলপাড় টলিউড

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 21, 2017 5:37 am|    Updated: July 11, 2018 4:06 pm

Tolly actress Srabanti Chatterjee may part way with husband Krishan

ইন্দ্রনীল রায়: গত এক মাস ধরে গোটা টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রশ্ন, অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে তাঁর স্বামী কৃষেণ ব্রজের সম্পর্ক কি ডেঞ্জার জোনে? কখনও ফিল্মের পার্টি, কখনও ঘরোয়া আড্ডায় বারবার এই নিয়েই কথা চলছে। প্রশ্নের সঙ্গে অবশ্যই থাকছে একরাশ বিষন্নতা। ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রাবন্তীর মিষ্টি ব্যবহার, জুনিয়র-সিনিয়র সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলা, টেকনিশিয়ানদের ভাল-মন্দ জিজ্ঞাসা করা, সাতে-পাঁচে না থাকার জন্য শ্রাবন্তী প্রায় অজাতশত্রু। তাঁর সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনা গেলে কেউ আনন্দিত হন না।

তবে শ্রাবন্তী সম্পর্কে তাঁর ঘনিষ্ঠদের অনুযোগ, তিনি কোনও সম্পর্কে জড়ালে নিজের দিকটা একেবারেই দেখেন না। তাঁরা মনে করেন, যে কোনও সম্পর্কে শ্রাবন্তী নিজেকে বড় বেশি উজাড় করে দেন। পরিচালক রাজীবের সঙ্গে বিয়ের পর পাঁচ বছর আর সিনেমা করেননি তিনি। কৃষেণের সঙ্গে বিয়ের পর কীভাবে তাঁকে নিয়ে ছবি বানানো যায় সেই জন্যে প্রচুর খেটেছেন তিনি, নিজের স্টার স্ট্যাটাস অগ্রাহ্য করে। বারবার চেষ্টা করেছেন সুপার মডেল স্বামীকে কীভাবে লঞ্চ করানো যায় বাংলা সিনেমায়।

এমনকী শোনা যায়, গত বছর জুলাই মাসে কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে যখন তাঁর আর কৃষেণের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়, সেই অনুষ্ঠান তারপর ডিনার সব কিছুর আর্থিক দায়িত্ব নিয়েছিলেন নায়িকা নিজে। খবর ছিল, গত বছর রেজিস্ট্রি হলেও এবছর ঘটা করে কোনও পাঁচতারা হোটেলে দম্পতি অফিশিয়াল রিসেপশন দেবেন। তা হলে এখন ভাঙনের প্রশ্ন উঠছে কেন? শুধু ভাঙন না। শ্রাবন্তী নাকি ডিভোর্স ফাইল করেছেন এমন খবরও টালিগঞ্জের বাতাসে উড়ছে। এটা কি রটাচ্ছে নিন্দুকেরা? উত্তর, না। এর মধ্যে কিছু সত্যতাও রয়েছে। আমাদের কানে খবর আসে প্রায় দেড় মাস আগে। কিন্তু খবরের সূত্রপাত কী?

[বলিউডে অভিনেতাদের পারিশ্রমিকে সবার উপরে নওয়াজউদ্দিন!]

সূত্রপাত ফেসবুক। প্রায় দু’মাস আগে থেকেই শ্রাবন্তীর বর, সুপারমডেল কৃষেণ, শ্রাবন্তী বা শ্রাবন্তীর ছেলে ঝিনুকের সঙ্গে ছবি আপলোড না করে নিজের লোকজনের সঙ্গে ছবি আপলোড করা শুরু করেন। প্রথম দিকে কেউ গা করেনি। কিন্তু যখন ব্যাপারটা প্রায় রোজকার ঘটনাতে গিয়ে পরিণত হয়, তখন প্রথম ভ্রু কুঁচকোনো শুরু হয় ইন্ডাস্ট্রিতে। এর মধ্যে অবশ্যই আরও একটা তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। বিয়ের পরেই শ্রাবন্তী নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রযোজক অশোক এবং হিমাংশু ধানুকার সঙ্গে একটা মিটিং করে একটা ছবিও অ্যানাউন্স করেন যেখানে হিরো-হিরোইন হিসেবে অভিনয় করার কথা ছিল ওঁদের দু’জনের। তার পরেই ‘কফি হাউস’—এ যুগ্মভাবে তাঁরা ইন্টারভিউ দেন। ছবির প্রিপারেশনের জন্য ফ্ল্যাটের গোটা ড্রয়িংরুমটাই জিমে পরিণত করেছিলেন কৃষেণ। সেখানে বসেই তাঁদের প্রেম কাহিনির কথা বলেন ওঁরা দু’জন। দুর্দান্ত হ্যাপি কাপল মনে হয়েছিল তাঁদের।

তারপর? শোনা যায়, যে ছবিটা তাঁরা একসঙ্গে করবেন বলে ঠিক করেছেন সেই ছবির অর্ধেক ফান্ডিং জোগাড় করার কথা ছিল কৃষেণের। তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা গিয়েছে, সেই টাকা জোগাড় করতে অক্ষম হন কৃষেণ। তখন শ্রাবন্তী নিজে চেষ্টা করেন। তারপর ওঁদের দু’জনের মধ্যে কী হয়েছে সেটা ধোঁয়াশা। এর কিছুদিন পর থেকে তাঁরা আলাদা আলাদা থাকতে শুরু করেন। শ্রাবন্তী থাকছেন তাঁর বাবা মা ও ছেলের সঙ্গে। কৃষেণ নিজের পরিবারের সঙ্গে। ওঁদের দু’জনের মধ্যে, সব কিছু যে ঠিকঠাক নেই তা আরও পরিষ্কার হয়ে যায় শ্রাবন্তীর জন্মদিনের দিন। ১৩ আগস্ট। যাঁরা জানতেন ঝামেলা চলছে তাঁরা ভেবেছিলেন স্বামী-স্ত্রীতে এগুলো হয় আবার কেটে যায়। অথচ তাঁর জন্মদিনেও কৃষেণকে না দেখে এঁরা যথেষ্ট আশ্চর্য হন। শ্রাবন্তীও নাকি কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের কাছে দুঃখ করেছেন, বারবার সম্পর্ক সংক্রান্ত তাঁর এই দুর্ভোগে পড়া নিয়ে।

[ভবিষ্যতে বলিপাড়া শাসন করবে এই তারকা কন্যাই!]

‘কফিহাউস’-এর তরফে কৃষেণকে ফোন করা হলে তিনি ডিভোর্সের কথাটা একেবারে উড়িয়ে দিলেন। “দেখুন কিছু ডিফারেন্সেস হয়েছিল হুইচ উই হ্যাভ সর্টেড। আমরা ঠিক করে নিয়েছি কথা বলে। ফেসবুকে কেন আমি আমার পরিবারের সঙ্গে ছবি দিচ্ছি, শ্রাবন্তীর সঙ্গে নয়, এই নিয়ে যদি কিছু মানুষ দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ করেন সেটা তাঁদের প্রবলেম। আমাদের নয়। আমরা ডিভোর্স করছি খবরটা সর্বৈব মিথ্যে,” সাফ বলেন কৃষেণ।

অন্য দিকে শ্রাবন্তীকে ফোন করা হলে তিনি যথেষ্ট বিরক্তির সঙ্গে জানান, এই প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতেই চান না। “আমাকে এর আগেও ফোন করেছিলেন, আমি তখনও এই বিষয়ে কথা বলতে চাইনি। আমি বুঝতে পারছি না কে বা কারা আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতটা ইন্টারেস্টেড?” প্রশ্ন করেন শ্রাবন্তী। তাঁকে যখন বলা হয়, তিনি একজন নামী হিরোইন এবং তাঁর জীবন নিয়ে মানুষের একটা কৌতূহল থাকবেই। তখন তিনি বলেন, “আমরা সেলিব্রিটি বলে কি আমাদের কোনও ব্যক্তিগত জীবন নেই? প্রেস তো শুধু খবর করেই খালাস। তারপর আমাদের ফ্যামিলি আছে, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে। সেগুলো যখন অ্যাফেক্টেড হবে, তখন কি প্রেস কিছু করবে আমাদের জন্য? আমি এই ব্যাপারে কিছু বলতেই চাই না। এখন মন দিয়ে কাজ করছি, তার মধ্যেও এই নতুন একটা ঝামেলা ইচ্ছাকৃত শুরু করা হচ্ছে আমাকে নিয়ে,” এই বলে ফোন কেটে দেন শ্রাবন্তী।

পুরো ব্যাপারটাই যে এখনও যথেষ্ট স্পর্শকাতর অবস্থায় সেটার আভাস শ্রাবন্তী এবং কৃষেণ, দু’জনের গলার আওয়াজেই পরিষ্কার। এরকম সংকটজনক অবস্থা থেকে ইন্ডাস্ট্রির অনেক বিবাহিত জীবন ফেরত এসেছে। আমাদের আশা, শ্রাবন্তী এবং কৃষেণ খুব শিগগিরই সেই হাসিখুশি পুরনো দিনগুলোয় ফেরত যাবেন। আর আগের মতোই একসঙ্গে পোজ দেবেন ফোটোগ্রাফারদের। হবে কি? এর উত্তর দিতে পারে একমাত্র অপেক্ষা।

[অ্যাডভেঞ্চারের ভরপুর রসদ নিয়ে ট্রেলারে হাজির ‘ইয়েতি অভিযান’]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে