Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
পাট

পাট চাষে হতে পারে বিপুল লক্ষ্মীলাভ, জেনে নিন পদ্ধতি

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাট পচানোই শ্রেয়, বলছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৯, ২০:৪৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৯, ২০:৪৯

options
link
পাট চাষে হতে পারে বিপুল লক্ষ্মীলাভ, জেনে নিন পদ্ধতি zoom
Advertisement

শ্রীকান্ত পাত্র, ঘাটাল: বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কীভাবে পাট পচিয়ে আঁশ বের করা হয় তা জানা প্রয়োজন কৃষকদের৷ কৃষিবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এখনও পাট চাষিরা পুরনো পদ্ধতিতে পচিয়ে আঁশ বের করে চলেছেন। এখন জমি থেকে পাট তোলার সময়।

ফসল তোলা: পাট সাধারণত তিন অবস্থায় কাটা হয়। গাছে ফুল ধরার সময়,  ফুল থেকে ফল ধরার সময় এবং ফল পাকার সময়। তবে যখন ফুল থেকে ফল ধরে তখনই পাট কাটার উপযুক্ত সময় বলে জানিয়েছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। আগে পাট কাটলে ফলন অল্প হয়, কিন্তু আঁশের গুণ ভালো হয়। অন্যদিকে দেরিতে কাটলে ফলন বেশি হয় কিন্তু গুণগত মান কমে যায়। পাট কেটে পাতা ঝরা না পর্যন্ত জমিতে বা কোনও খোলা জায়গায় গাদা করে রেখে দিতে হবে। তারপর পাতা ঝেড়ে আঁটি বাঁধতে হবে। কোনও জলাশয়ে বা নদী বা খালে পচানোর জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

Advertisement

[আরও পড়ুন: বৃষ্টির অভাবে শুকোচ্ছে পদ্ম, শারদোৎসবে পর্যাপ্ত ফুল না পাওয়ার আশঙ্কা]

পাট পচানো: পাট পচানোর আগে ভাল করে আঁটি বাঁধতে হবে। আঁটিগুলিকে পাশাপাশি সাজিয়ে জাঁক দিতে হবে। এমনভাবে জাঁক দিতে হবে যেন আঁটিগুলি জলে ডুবে থাকে। তার জন্য ভাসমান জাঁকের উপর কচুরিপানা, খড় প্রভৃতি ঢাকা দিয়ে ভারী কোনও বস্তু যেমন গাছের গুঁড়ি, পাথর ইত্যাদি দিয়ে চাপা দিতে হবে যেন জলে ডুবে থাকে। মনে রাখতে হবে, মাটি বা কলা গাছ চাপা দেওয়া চলবে না, কারণ এর ফলে পাটের রঙ কালো হয়ে যাবে। ফলে পাটের বাজারদর কমে যাবে। অনেকে আবার বাঁশ দিয়ে বেঁধে জাঁক দেন। তা হলেও খড় বা কচুরিপানা চাপা দিতে হবে। তবে কলাগাছ বা কলাপাতা বা মাটি কখনই নয়।

পাটের আঁশ ছাড়ানো: পাট জাঁক দেওয়ার ৮-১০ দিন পর পরীক্ষা করে দেখতে হবে পাট পচেছে কি না। পাট কাঠি থেকে অনায়াসে আঁশ ছাড়লে বুঝতে হবে পাট কাটার উপযুক্ত সময় হয়েছে। এক মুঠো পচা পাটের গোড়ায় কাঠের হাতা দিয়ে পিটিয়ে আঁশ আলগা করতে হবে। দু’ভাবে পাট থেকে আঁশ বের করা হয়। পাটের গোড়ায় এক দেড় ফুট উপরে ভেঙে ঝাঁকুনি দিয়ে বের করা হয় পাট কাঠি বা না ভেঙে একটি একটি করে পাট কাঠি থেকে আঁশ ছাড়ানো হয়। তার জন্য সময় লাগে বেশি। তবে বর্তমানে পাটের আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্র বের হয়েছে। সেই যন্ত্রের সাহায্যেও আঁশ ছাড়ানো যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা পাট থেকে আঁশ বের করে পচিয়ে নেওয়া হয়। তারপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। শুকনো পাট গাঁট বেঁধে নিতে হবে।

[আরও পড়ুন: নেই বৃষ্টি ও সেচের ব্যবস্থা, জোড়া ফলায় বিদ্ধ বিদবিহারের কৃষককুল]

গাঁট বাঁধা: শুকনো পাটকে বেশ ভাল করে গুছিয়ে গাঁট বাঁধতে হবে। পাটের মাঝখানে মুড়ে দু’ভাগ করে সাজানো হয়। এখন অবশ্য পাটের গাঁট বাঁধার জন্য যন্ত্র বেরিয়েছে। যন্ত্রের সাহায্যেও গাঁট বাঁধা হয়। গাঁট বেঁধে পাটকে সুসজ্জিত করা হয়।
পাটের ফলন : মিঠা পাটের ফলন একর প্রতি ১২-১৫ কুইন্টাল ও তিতো পাটের ফলন একর প্রতি ১০ থেকে ১২ কুইন্টাল হয়। পাট আজও আমাদের রাজ্যের একটি লাভজনক ফসল হিসাবে বিবেচিত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.