১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 

মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও দীপাবলি ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 

BREAKING NEWS

চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া: ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা সত্যিই আমাদের চিন্তায় ফেলে৷ পরিবারের ঘুম কেড়ে নেয় বইকি৷ সবাই আমরা এমন কঠিন রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে অবশ্যই মুখিয়ে থাকি৷ মুশকিল আসান তো ডাক্তারবাবুরা করবেন ঠিকই৷ কিন্তু তার আগে যদি রোগ ঠেকাতে উদ্যোগী হওয়া যায়, তাহলে তো রোগগুলিকে হেলায় জানানো  যায় ‘আলবিদা’৷ উপায় ড্রাগন ফ্রুট৷ হ্যাঁ, মেক্সিকোর এই ফলটির সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত নই৷ নামই শোনা হয়নি অনেকের৷ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের খোদমবাড়ি গ্রামে এই চাষ চলছে৷

[থাইল্যান্ডের অর্কিড ফুটিয়েও হতে পারে লক্ষ্মীলাভ, জেনে নিন চাষের পদ্ধতি]

গ্রামের কৃষক দীপককুমার মান্না দশ ডেসিমল জমিতে এই ড্রাগন ফ্রুট চাষ করছেন৷ ফলটি দেখতে অনেকটা আনারসের মতো৷ পেকে গেলে লাল রং ধারণ করে৷ ভিতরে কালো বীজ ভর্তি সাঁসালো অংশ, খেতে মিষ্টি৷ ফলটির ওষধি গুণ রয়েছে প্রচুর৷ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইটো-অ্যালবুমিন, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষ তৈরিতে বাধা দেয়৷ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, কালো দাগ বিলীন করে দেয়৷ খনিজ পদার্থ ভিটামিন-বি, সি বেশি পরিমাণ থাকার কারণে হাড় এবং দাঁত শক্ত করতেও সহায়ক৷ রয়েছে ক্যারোটিন এবং ভিটামিন-এ৷ যার ফলে চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে এই ফল৷ খনিজ পদার্থ, ফাইবার ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এই ফলটি হাত, পায়ের যন্ত্রণা, কাটা-ছেঁড়া জায়গা দ্রুত সারাতে সহায়ক৷ বাড়ায় হজম ক্ষমতাও৷ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ-রক্তচাপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় এই ড্রাগন ফ্রুট৷ ভেষজ বিজ্ঞান জগতে ‘হাইলোসিরিয়াস’ নামে পরিচিত ফলটি তিন প্রজাতির হয়ে থাকে৷ ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যারোটিন, থ্যালামিন, আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ফলটির উপকারিতার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়৷

ছবি : রঞ্জন মাইতি

[মাশরুম চাষে নয়া দিশা দেখছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা]

নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা গৌতম মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘‘আমরা ফলটির গুরুত্ব বুঝে চাষের মাত্রা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি৷ ওষধি ফল হিসাবে এই ড্রাগন ফলটি ভীষণ উপকারী৷ একবার এর উপকারী গুণ জানলে মানুষ আর ফেলতে পারবেন না৷’’ নন্দীগ্রামের কৃষক দীপক মান্না জানিয়েছেন, তিনি বছরে তিন কুইন্টাল ড্রাগন ফ্রুট ফলিয়ে থাকেন৷ স্হানীয় এলাকায় বিপণনের সুবিধা নেই৷ সে কারণে কলকাতার ফল বাজারে বিক্রি করেন তিনি৷ প্রতি কিলোগ্রাম ড্রাগন ফ্রুট চারশো থেকে পাঁচশো টাকা দামে বিক্রি হয়৷ তার এই চাষ দেখে এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক এই ফল চাষে আগ্রহী হয়েছেন৷ সুস্বাস্থ্যের সাথী ড্রাগন ফ্রুট ক্যানসারের মত জটিল রোগ তাড়াতে যথার্থ ড্রাগনের ভূমিকা নেবে,  তা জোর দিয়েই বলা যায়৷    

 

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং