৯ ফাল্গুন  ১৪২৬  শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

বাবুল হক, মালদহ: ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে অন্যবার মুকুলে ভরে যেত মালদহের আমবাগান। কিন্তু এখনও আমগাছে মুকুলের দেখা নেই। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় আমের মুকুল গজানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেও রয়েছে ঠান্ডা। সঙ্গে ঘন কুয়াশাও। আর এই আবহাওয়াই আমের মুকুল গজানোর ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে বলে চাষিরা মনে করছেন। গাছে মুকুল না ভরে ওঠায় মার খেতে পারে আম চাষ। এমন আশঙ্কায় হতাশ মালদহের আমচাষিরা। জেলার উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তাদের পরামর্শ নিয়ে এখন গাছে গাছে জল স্প্রে শুরু করেছেন মালদহের আমচাষিরা।

প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এবার মালদহে আমের মুকুল ফোটা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে জেলার আম ব‍্যবসায়ীদেরও। গত বছর আমের রেকর্ড ফলন চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। কিন্তু এবার তাঁদের মুখ শুকিয়েছে। মালদহের আমচাষিদের দাবি, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে প্রতিকূল আবহাওয়া। কুয়াশার প্রভাবে আমগাছের ডগায় বা কুঁড়িতে এক ধরনের ক্ষতিকারক ছত্রাক বাসা বাঁধে। তার মোকাবিলায় স্প্রে করে গাছ ধোয়ার কাজ শুরু করেছেন চাষিরা। মালদহের অমৃতি, কাজিগ্রাম ও কোতোয়ালির আমবাগানগুলিতে চাষিরা ব্যস্ত স্প্রে করার কাজে। সেই ফাঁকে নরেন মণ্ডল, বিকাশ মণ্ডলরা জানালেন, শীত দেরিতে আসায় আমের ক্ষতি হতে পারে। আমপাতা কুঁচকে যাচ্ছে। এই ফাঁকেই ছত্রাক আক্রমণ করে। ফলে মুকুল গজাতে পারবে না। আর ভাল মুকুল না এলে এবারের ফলন গতবারের অর্ধেকও হবে না।

[আরও পড়ুন: জমিতেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে গম, ছত্রাকের আতঙ্কে কপালে চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের]

মালদহ ম‍্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উজ্জ্বল চৌধুরি বলেন, “রাজ্যে ৬০-৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। তার প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৩১ হাজার হেক্টর জমি মালদহ জেলায় রয়েছে। রাজ্যের মোট আমের ৫০ শতাংশ উৎপাদন মালদহ জেলা থেকেই হয়। শীত দেরিতে এসে কামড় দেওয়ায় গোটা রাজ্যেই আমের ফলন মার খেতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভীষণ ক্ষতি হতে পারে আম চাষের।” মালদহের উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী অবশ্য তেমন চিন্তিত নন। তাঁর কথায়, “এখনও মুকুল ধরার সময় রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে মুকুল এলেও আমের ফলন হবে। এই মুহূর্তে বাগানের পরিচর্যা করা দরকার। দপ্তর থেকেও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছে মুকুল এলেও আম গজানোর জন্য অন্তত ২২-২৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা দরকার। শীতের পর সেই উষ্ণতা না পেলে আমের ফলন মার খায়। মালদহ জেলায় প্রথম লক্ষ্মণভোগ আমের মুকুল বের হয়। তারপর ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, আম্রপালি, মল্লিকা-সহ অন্যান্য আমের মুকুল বের হতে শুরু করে। ফলে এবার ধাক্কা খাচ্ছে লক্ষ্মণভোগ। জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। জেলার মধ্যে ইংলিশবাজারে ৯ হাজার, মাণিকচকে ৫ হাজার, রতুয়া ১ ও ২ ব্লকে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। গাজোল, বামনগোলা, চাঁচোল, হবিবপুর, কালিয়াচক-সহ বিভিন্ন এলাকায় আমচাষের জমির পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ক্ষতি এড়াতে এখন থেকেই উদ্যোগী হয়েছে মালদহের উদ্যান পালন দপ্তরও। চাষিদেরকে সচেতন করতে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। রাহুলবাবু জানান, এবার শীত একটু দেরিতে এসেছে। শীত পেরিয়ে যখন ধীরে ধীরে গরম পড়বে, তখনই আম গাছে মুকুল বেরোবে। এই সময় আমগাছে জল ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন। চাষিদের সেই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং