Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬

মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাষেও লাভের মুখ দেখা সম্ভব

বেঙ্গালুরুতেও শুরু হয়েছে মনোপিয়ার চাষ৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৮, ২১:১৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৮, ২১:১৭

options
link
মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাষেও লাভের মুখ দেখা সম্ভব zoom
Advertisement

রিন্টু প্রধান: তেলাপিয়া মাছের একটি নতুন প্রজাতি মনোপিয়া। সাধারণ তেলাপিয়া মাছের এক থেকে দু’দিনের বাচ্চাকে টেস্টোস্টেরন হরমোন মিশ্রিত খাবার খাইয়ে মনোসেক্স তেলাপিয়া বা মনোপিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়। বাংলাদেশের মাছচাষিদের কাছে এই মাছের চাষ বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তাঁরা মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। তাই বাংলাদেশ থেকেই এই মাছ এদেশে আনা হচ্ছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে এই মাছ চাষ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মনোসেক্স তেলাপিয়া বা মনোপিয়া হাইপ্রোটিন যুক্ত মাছ। বাজারে চাহিদাও বেশি। প্রজননে অক্ষম হওয়ায় অন্য মাছদেরও বৃদ্ধিতে ক্ষতি করে না এই বিশেষ প্রজাতির তেলাপিয়া। পোশাকি নাম মনোসেক্স তেলাপিয়া। আবার স্বল্প সময়েই দ্রুত ওজন বেড়ে যায়। এই বিশেষ প্রজাতির তেলাপিয়া মাছ চাষ করে ভাল লাভের মুখ দেখছেন কালনা মহকুমার মন্তেশ্বর ব্লকের চাষিরা।

[কম খরচে বেশি লাভে আজও তুলসীর তুলনা মেলা ভার]

মাছের চারা- সরকারি সহযোগিতার বাইরে কোনও চাষি যদি নিজ উদ্যোগে মনোপিয়ার চাষে আগ্রহী হন তাহলে তাঁকে বাজার থেকে এই মাছের চারা কিনতে হবে। এই মাছের চারা মূলত বাংলাদেশ থেকে বসিরহাট ও নৈহাটিতে আসে।

Advertisement

মাছের খাদ্য: ফ্লোটিং ফিস ফুড বা ভাসমান হাইপ্রোটিন যুক্ত খাবার সরকারিভাবে দেওয়া হয়। এছাড়া বাজারেও কিনতে পাওয়া যায়। তাছাড়াও যে কোনও ধরনের মাছের উপযুক্ত খাবারই দেওয়া যেতে পারে।

[বেশি লাভের মুখ দেখতে হলে, বর্ষার মরশুমেই শুরু করুন আমের চাষ]

মাছের বৃদ্ধি: ওই খাবার খেয়ে খুব তাড়াতাড়ি মাছগুলির আকৃতি বৃদ্ধি পাবে। তিন থেকে চার মাসেই পাঁচশো গ্রাম মতো ওজন হবে। আর সাত থেকে আট মাসে এর ওজন দাঁড়াবে প্রায় এক কেজি বা তার কাছাকাছি।

[স্বনির্ভরতার দিশা দেখাতে কন্যাশ্রীদের রঙিন মাছ চাষের প্রশিক্ষণ শিবির]

পরীক্ষামূলকভাবে চাষিদের দিয়ে এই মনোসেক্স তেলাপিয়া প্রজাতির মাছ চাষ করানোয় বিশেষ সাড়া পড়েছে। জেলার সব ব্লকেই এই মাছের চারা চাষিদের বিনামূল্যে দেওয়া হলেও মন্তেশ্বর ব্লকের চাষিদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা গিয়েছে। মাছচাষিদের বিকল্প চাষে আগ্রহী করতে গত বছর থেকে বিনামূল্যে মাছের চারা দিচ্ছে মৎস্য দপ্তর। এই মাছ চাষ করে মৎস্যজীবীরা কিছু দিনের মধ্যেই বিশাল অঙ্কের লাভ পাচ্ছেন। যার জন্য এই মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

[সিডার ও প্যাডি ট্রান্সপ্ল্যানটারে চাষ করলে ফলন বাড়বে প্রায় ২০%]

মূলত, পুকুরে ছাড়ার ৩ মাসের মধ্যেই পাঁচশো থেকে আটশো গ্রাম ওজনের হচ্ছে  এই মাছ। মৎস্য দপ্তর থেকে ৫২ জন চাষিকে ১২৫০ টি করে এই মনোসেক্স প্রজাতির তেলাপিয়া মাছ দেওয়া হচ্ছে। যা থেকে তিন মাস পর চাষিরা ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। এই মাছ প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে তাই চাষের খরচও প্রায় নেই বললেই চলে। তিনি আরও জানান,  শুধু পুকুরেই নয়, কিছু বিশেষ প্রজাতির সুগন্ধি ধান চাষের নিচু জমিতেও এই মাছ চাষ করা যেতে পারে। কয়েক মাস আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ব্লকের ছ’জন চাষিকে এই মাছের চারা দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা সেই মাছের চারা বড় করে ভাল লাভ পেয়েছেন।

[বর্ষায় মাছের রোগ সারাতে ব্যবহার করুন প্রচুর পরিমাণ চুন]

এই মনোসেক্স প্রজাতির তেলাপিয়া হাই প্রোটিনযুক্ত হওয়ায় চাহিদা বেশি। বাচ্চাদের ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ উপকারী। বাজারে দাম সাধারণ তেলাপিয়ার থেকে একটু বেশি। প্রজননে অক্ষম হওয়ায় একই পুকুরে এরই সঙ্গে মৃগেল, রুই ও কাতলা চাষ করা যায়। তাই লাভের অঙ্ক বেশি থাকে। এই লাভের স্বাদ পেয়ে মন্তেশ্বরের অন্য চাষিদের মধ্যেও এই মাছ চাষে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.