Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

কম খরচে বেশি লাভে আজও তুলসীর তুলনা মেলা ভার

বর্ষাতেই শুরু করুন তুলসী চাষ৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০১৮, ২০:৩৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০১৮, ২০:৩৩

options
link
কম খরচে বেশি লাভে আজও তুলসীর তুলনা মেলা ভার zoom

শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: বিরুৎ বা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ তুলসী প্রাচীনকাল থেকে রকমারি ওষধি গুণের ক্ষমতাসম্পন্ন। মহার্ঘ তুলসীর উপকারিতা নিয়ে সারা দেশ জুড়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। তবে ছয় প্রজাতির মধ্যে নয় ধরনের তুলসী গাছ সাধারণত নজরে পড়ে।  তুলসী চাষ করলে যে অনায়াসে আর্থিক অপচয় থেকে রেহাই মেলে, তার দিশা দেখাচ্ছে উত্তর দিনাজপুর।

[বেশি লাভের মুখ দেখতে হলে, বর্ষার মরশুমেই শুরু করুন আমের চাষ]

উত্তর দিনাজপুর জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় মূলত লেবু তুলসী, মারোয়া তুলসী, বাবু তুলসী, বন তুলসী, জোয়ান তুলসী,  রাম তুলসী, রাধা তুলসী ও কৃষ্ণ তুলসী দেখা যায়। বর্ষার মরশুমে অর্থাৎ জুন থেকে জুলাই মাস তুলসী চাষের আর্দশ সময়। বেলে বা দোঁয়াশ মাটি সাধারণত তুলসী চাষের ক্ষেত্রে আর্দশ। সামান্য গোবর সারে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে তুলসীর বীজ জমিতে বুনতে হয়। নতুন চারাগাছ লাগিয়ে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তুলসী উৎপাদন সম্ভব। কাটিং করে বছরভর তুলসী চাষ করা হয়। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে বহু আবাদি জমিতে বর্তমানে লেবু তুলসীর চাষ হচ্ছে। এছাড়া, সম্প্রতি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে পাঁচ ধরনের তুলসীর চাষ শুরু হয়েছে। এই তুলসী সংরক্ষণ করা হচ্ছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এএএসএম (ভেষজ উদ্যান) বিভাগে। উৎসাহীরা এই সব তুলসী গাছ নিজেরা উৎপাদন করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিনা মূল্যে বীজ সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, গাছ বড় হওয়ার পর প্রথম প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক গিয়ে হাতেকলমে কাটিং শিখিয়ে দেবেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তন্ময় চৌধুরি বলেন, ‘‘তুলসীর চাষ ক্রমে কমে যাচ্ছে। এই চাষকে ফিরিয়ে আনতে তাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তুলসীর গুণাগুণ জানার পর চাষ করলে আর্থিক ভাবে উপকৃত হবেন সকলেই। কারণ বাজারে তুলসী পাতার যথেষ্ট চহিদা রয়েছে।’’

Advertisement

[স্বনির্ভরতার দিশা দেখাতে কন্যাশ্রীদের রঙিন মাছ চাষের প্রশিক্ষণ শিবির]

 

লেবু তুলসী: ডিম্বাকৃত এই তুলসীর পাতা ৪৫ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার লম্বা। পাতার আকার ৩.৯ থেকে ৫.২ সেন্টিমিটার। এক বর্ষজীবী। যার উপকারিতা অপরিসীম।  রান্নায় লেবু তুলসী পাতা ব্যবহারে সুগন্ধ ছড়ায়। বিষাক্ত পোকামাকড়ে শরীরের যন্ত্রণা উপশম হয় এই পাতা।

[চা চাষের জমি ফেলে না রেখে তেজপাতা গাছ লাগান]

মারোয়া তুলসী: লম্বায় ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। মিথাইল ইউজিনল থাকে। মাথা ব্যথা যা সাইনাসের ক্ষেত্রে এই তুলসী পাতা নিংড়ে ব্যবহার করলে উপশম মেলে। ক্ষতিকারক মাছি তাড়াতে মারোয়া তুলসীর পাতা বেটে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ফসলের পোকা মারার জন্য কীটনাশক হিসাবে যথেষ্ট কার্যকরী। বিশেষ করে শসা , কুমড়ো, পেঁপে এবং আম জাতীয় ফলে শত্রু পোকা ধ্বংস করে । ফেরোমেন হিসাবে কাজ করে। তবে মারোয়া তুলসী পাতা থেঁতলে ছড়িয়ে রাখলে গন্ধের আকর্ষণে ছুটে আসে, তারপর মারা যায়।

[বর্ষায় মাছের রোগ সারাতে ব্যবহার করুন প্রচুর পরিমাণ চুন]

 

বন তুলসী: লম্বা ২০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার। পাতার দৈর্ঘ্য ২.৩ থেকে ৪.৭ সেন্টিমিটার। এই তুলসীর বীজ খালি পেটে খেলে চটজলদি পেট ফাঁপা নিবারণ হয়। বন তুলসীর শুকনো পাতা আগুনে পুড়িয়ে রাখলে মশা তাড়ানো সম্ভব।

বাবু তুলসী: ৪৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া যায়। 

[বর্ষায় দক্ষিণ দিনাজপুরে জোরকদমে চলছে আমন ধানের চারা রোপণ]

 রাম তুলসী: ১৪০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার । পাতা ৪.১ থেকে ১০.৬ সেন্টিমিটার। উপকারিতা সকাল বেলায় খালি পেটে মধুর সঙ্গে খেলে শুকনো কফ এবং পেটের ব্যথা নিবারণ হয়।

আযোয়ান তুলসী: ১২৫ থেকে ২৬০ সেন্টিমিটার। পাতা লম্বা ৬.৮ থেকে ১৯ সেন্টিমিটার। বিষাক্ত পোকা কামড়ের জ্বালা থেকে এই পাতার রস যথেষ্ট কার্যকরী।

[একশো দিনের প্রকল্পের অধীনেই বর্ষাকালীন টমেটো চাষে লাভের মুখ দেখছে কাঁকসা]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.