১৯ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

মিঠুন সাহা, সহ-কৃষি আধিকারিক, রানিনগর-২ নম্বর ব্লক:  আচ্ছাদন পদ্ধতিতে চাষাবাদে জনপ্রিয়তা বাড়ছে রাজ্যে। একে ইংরাজিতে বলা হয় মালচিং সিস্টেম। ‘মালচ’ কথার অর্থ মাটি ঢেকে দেওয়া। প্রথাগত ভাবেই মৃত অথবা পুরানো, শুকনো বা কাঁচা পাতা, বিচালি বা খড়, কচুরিপানা ইত্যাদি জৈব সার দিয়ে মাটি ঢেকে দেওয়ার প্রথা বহুদিন আগের থেকেই আমাদের দেশে চালু আছে। কিন্তু চাষে বাণিজ্য ও আধুনিকীকরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক মালচিং-এর ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। এটি আধুনিক চাষাবাদের একটি উন্নত পদ্ধতি। এর ফলে ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি হয়। তাছাড়া, ভাল ফলনের জন্য মাটি ঢেকে দিয়ে আবাদের অনুকুল পরিবেশ তৈরি করা হয়।

[ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে চান? বাড়িতেই রয়েছে সহজ উপায়]

মালচিং পদ্ধতি: সবজি চাষে মালচিং পদ্ধতির ব্যাবহার বেলে ও দোঁয়াশ মাটির ক্ষেত্রে উপযোগী পদ্ধতি। একটি সারির জন্য পাতলা প্লাস্টিকের থান দূরত্ব অনুযায়ী কেটে নিতে হবে। আর এই থানের উপর ফসল অনুযায়ী ফুটো করে নিতে হবে। এর পর ফসল ভিত্তিক প্রয়োজনীয় জৈব সার বেশি পরিমাণে রাখতে হবে, যাতে কোনও নুড়ি, পাথর, ঢেলা না থাকে। এর পর একটি করে থান শিট মাটির উপর বিছিয়ে দিতে হবে। শিটের ধারগুলি চার থেকে ছ’ইঞ্চি মাটির গভীরে ঢুকিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিতে হবে। যা প্লাস্টিকগুলিকে মাটির সঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। এবার ফুটোগুলির ভিতর দিয়ে বীজ বা চারা রোপন করতে হবে। মালচিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত হল ড্রিপ বা বিন্দু সেচ। যদি তার সুযোগ না থাকে তাহলে এক একটি সারির পর ছোট নালা তৈরি করেও সেচ দেওয়া যায়। প্লাস্টিকগুলি একাধিকবার একই ধরনের ফসলের চাষের ক্ষেত্র ব্যাবহার করা সম্ভব।

[ওজন ঝরাতে চান? ডায়েটে রাখতে পারেন এই ফলগুলি]

মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুবিধা:

জল সংরক্ষণ: প্লাস্টিক মালচ ব্যাবহারের ফলে মাটির রসের বাষ্পায়ন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে মাটির উপরিতল থেকে যে পরিমাণ জল বাষ্পীভূত হয়, তা ওই প্লাস্টিকের আবরণে বাধা

পেয়ে ঘনীভূত হয়। যা বিন্দু বিন্দু জলকণায় পরিণত হয়ে আবার মাটিতেই ফিরে আসে। এতে জমিতে দু’টি সেচ পর্বের ব্যাবধান বাড়ানো সম্ভব হয়। ফলে সেচের খরচ কম হয়। সেচ বা বৃষ্টির জল শুধুমাত্র প্লাস্টিকের ফুটো করার অংশ দিয়ে শিকড়ের কাছের অংশের মাটিতে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে জলের যথাযথ ব্যাবহার ও সংরক্ষণ সম্ভব হয়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক মালচিংয়ে যেহেতু ফুটো করা অংশ দিয়ে গাছ বেড়িয়ে আসে।  মাঝের ঢাকা অংশে আগাছা বের হতে পারে না। প্লাস্টিক যদি কালো রঙের হয় তবে সূর্যালোক

ঢুকতে পারে না। ফলে সালোকসংশ্লেষ করতে না পারায় মাঝের অংশের আগাছা মারা যায়। ফলে আগাছা নাশের জন্য শ্রমিকের খরচ বেঁচে যায়।

পোকা নিয়ন্ত্রণ : মালচিংয়ের ফলে পোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিমাটোড বা ফসলে কৃমির আক্রমণ রোধ করে। প্রতিফলক মালচ পতঙ্গদের প্রতিহত করে।

সার ব্যবহার হ্রাস :  এই পদ্ধতি ব্যবহারে শিকড়ের কাছের স্থানে সার প্রয়োগ করার জন্য চাষে সার প্রয়োগের পরিমাণ ও সংখ্যাও অনেক কমে যায়। ফলে খরচে রাশ টানা সম্ভব হয়।

[শচীন রাজি হলেও নারাজ সৌরভ, বিপাকে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ]

দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম:  প্লাস্টিক শিট দিয়ে মাটি ঢেকে রাখার ফলে মাটির ঢাকা অংশের উষ্ণতা রাতে এবং শীতকালে পরিবেশের থেকে বেশি হয়। ফলে বীজ থেকে অঙ্কুরোদ্গম দ্রুত সম্পন্ন হয়।

সীমাবদ্ধতা: কচুরিপানা, জৈবসার, খড় ইত্যাদির অপেক্ষা প্লাস্টিক মালচিং ব্যয়সাপেক্ষ। গ্রীষ্মকালে কালো বা মোটা প্লস্টিক ব্যাবহার করলে উষ্ণতা বেড়ে যায়। ফলে চারা পোড়া বা শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং