নৈনিতাল জেলার মুক্তেশ্বর-রামগড় এলাকা থেকে বরফ-ঢাকা হিমালয়ের অপূর্ব রূপ দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে দীর্ঘকাল ছিলেন। ‘আধুনিক কালের মীরা’ কবি মহাদেবী বর্মা ১৯৩৩ সালে যখন শান্তিনিকেতন গিয়েছিলেন, রবি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। রামগড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা মহাদেবীকে বলেন তিনি। পরের বছর মহাদেবী বর্মা বদ্রীনাথ ভ্রমণ করেন। রবীন্দ্রনাথের পরামর্শ মনে রেখেছিলেন। তাই তিনি রামগড়ের ঠিক সামনের দিকে অবস্থিত উমাগড় নামক একটি ছোট্ট গ্রামে এক রাত কাটিয়েছিলেন। জায়গাটি এতটাই তাঁর মনে ধরে গিয়েছিল যে, ১৯৩৬ সালে গ্রীষ্মকালে থাকার জন্য তিনি এখানে একটি বাড়ি কিনেছিলেন, যার নাম ‘মীরা কুটির’। রবীন্দ্রনাথের পাহাড় প্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় উদাহরণটি তুলে ধরলে।
এই নিবন্ধে মীরা কুটির নয়, তুলে ধরব পাহাড়ি গ্রাম মংপুর ‘মৈত্রেয়ী কুটির’-এর কথা। এখানে রবিঠাকুরের ৮০তম জন্মদিন কেটেছিল। তার বছরখানেক আগে কালিম্পং এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টেলিগ্রামে মৈত্রেয়ী দেবীকে লিখলেন, ‘হ্যাভ জাস্ট অ্যারাইভড, উইল বি প্লিজড টু সি ইউ।’ কিন্তু ছোট্ট গ্রাম মংপুর দরিদ্র ব্যবস্থাপনায় খুব বিশেষ ভরসা ছিল না মৈত্রেয়ী দেবীর। সে-কথা বুঝে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘‘না না, তোমাদের পাহাড়ের বাংলো তো খুব সুন্দর হয় আমি জানি। তবে কিনা আমারই কল বিগড়েছে, নড়াচড়া কষ্টসাধ্য হয়েছে।’’ রবীন্দ্রনাথের রসিকতা বোধ যে প্রবল ছিল, তা তাঁর এই কথা থেকেই স্পষ্ট। বয়সের ভারে তিনি তখন শারীরিকভাবে জীর্ণ। কিন্তু মন সবুজ থাকলেই ‘আমারই কল বিগড়েছে’ এমন উপমায় নিজেকে অলংকৃত করা যায়।
আরও পড়ুন:

কালিম্পংয়ে সে-বার পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথের জন্মোৎসব টেলিফোনে ব্রডকাস্ট করার ব্যবস্থা হয়েছিল। কবি পড়েছিলেন দীর্ঘ কবিতা, ‘জন্মদিন’। কবিতাটি মৈত্রেয়ী দেবীদেরও সে-দিন শুনিয়েছিলেন কবি। সঙ্গে ছিলেন মৈত্রেয়ীর ছোট বোন চিত্রিতা। কবিতাটির একটি লাইন ‘এঁকেছে পেলব শেফালিকা’; তার সঙ্গে এর পরিবর্তে যেতে পারে এমন একটি লাইন ছিল ‘এঁকেছিল তন্বী শেফালিকা’। রবীন্দ্রনাথ একটু দ্বিধায় মৈত্রেয়ী দেবীকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘কোনটা রাখি বলো তো?’’ এই ‘জটিল জিজ্ঞাসা’ কবি মৈত্রেয়ী দেবীকে করেছিলেন বলে আশ্চর্য হয়ে বলেছিলেন, ‘‘কিন্তু উত্তর দেওয়াটা যে আমার পক্ষে ভয়ানক দোষের হবে!’’
এমন সময় ডাক আসে। সে এক প্রকাণ্ড বোঝা। সবই জন্মদিন-সংখ্যার পত্রিকা, জন্মদিনের প্রণামের চিঠি, কবিতা, কাগজ ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথ সে-সবে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, ‘‘তুমি একটা কবিতা লিখলে না যে? কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছি তোমার ভক্তি অসম্ভব অদ্ভুত কমে যাচ্ছে। ওই তো কাগজ কলম রয়েছে, চট্ ক’রে, ‘হে রবীন্দ্র কবীন্দ্র’ ব’লে একটা লিখে ফেল না। আমার নামটা ভারি সুবিধের, কবিদের খুব সুবিধে হ’য়ে গেছে। মিলের জন্যে হাহাকার ক’রে বেড়াতে হয় না। রবীন্দ্রের পর কবীন্দ্র লাগিয়ে দিলেই হোলো।’’ অজস্র ফুল এসেছিল সেদিন। কালিম্পংয়ের অধিবাসীরা মালা পরিয়ে গিয়েছিল রবীন্দ্রনাথকে। মৈত্রেয়ী দেবীর বোন চিত্রিতা এবং নন্দিনী তাঁর খাট ফুল দিয়ে সাজিয়েছিল। আর যা দেখে রসিকতা করে কবি বলেছিলেন, ‘‘এই দ্যাখ কাণ্ড! এসব দেখলে যে মন খারাপ হ’য়ে যায়, সঙ্গিনীহীন ফুলশয্যা।’’
এভাবেই কাটে রবি ঠাকুরের ৮০তম জন্মবার্ষিকী। মৈত্রেয়ী দেবীর পীড়াপীড়িতে লেখা নতুন কবিতা ‘জন্মদিন’ তিনি আবৃত্তি করেছিলেন, তা আগেই বলেছি। যে-কথা বলব, অল ইন্ডিয়া রেডিও কলকাতা তা সমগ্র ভারতে সরাসরি সম্প্রচার করে। এই ঐতিহাসিক সম্প্রচার সম্পর্কে একটি আকর্ষণীয় উপাখ্যানও রয়েছে। মিঃ লিওনেল ফিল্ডিং সেই সময়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা স্টেশনের পরিচালক ছিলেন। তিনি কবির স্বয়ং আবৃত্তি করা কবিতা কালিম্পং থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে চেয়েছিলেন। এ-কথা মাথায় রেখে তিনি রবি ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এবং সম্প্রচারের আয়োজন করতে মংপুতে বেশ কয়েকবার যান। কিন্তু কবি ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। ফিল্ডিং অবশেষে মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী ড. মনমোহন সেনকে তাঁর দুর্দশার কথা জানান।
রবি ঠাকুরের সঙ্গে ফিল্ডিং সাহেবের দেখা করিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতিও দেন ড. সেন। তিনি কবিকে জিজ্ঞেস করেন ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে দেখা না করতে চাওয়ার কারণ। রবীন্দ্রনাথের উত্তর ছিল, ‘‘আমি তাদের পছন্দ করি না। তারা হারমোনিয়াম বাজায়।’’ রবিঠাকুর এই বিশেষ যন্ত্রটিকে পছন্দ করতেন না। কারণ এটি ভারতীয় সঙ্গীতের একটি অপরিহার্য অংশ মীরের সঙ্গে ঠিকমতো খাপ খেত না। ড. সেন ফিল্ডিংয়ের কাছে কবির অনুভূতির কথা জানান। ফিল্ডিং সাহেব জিজ্ঞেস করেন, ‘‘এটাই কি একমাত্র সমস্যা?’’ ড. সেন ‘হ্যাঁ’ বলতেই ফিল্ডিং সাহেবের উত্তর ছিল, ‘‘আজ থেকে আমি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে হারমোনিয়াম নিষিদ্ধ করছি।’’ সেই দিন থেকে ১৯৭০-এর সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর স্টুডিওয় হারমোনিয়াম নিষিদ্ধ ছিল। হারমোনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন আকাশবাণীর ম্যানেজমেন্টের উপর প্রবল চাপ তৈরি করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ফের চালু করতে হবে হারমোনিয়াম। তুলে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা। কার্যত এই চাপের ফলেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

রোগজীর্ণ জীবনের শেষ জন্মদিনে কবি লিখেছিলেন, ‘‘আমার এ জন্মদিন মাঝে আমি হারা/ নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ,/ নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।’’ ওই সময়ই তিনি মিস রাথবোনকে খোলা চিঠির জবাবে খোলা চিঠি লিখেছিলেন। এটা তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিবাদও। রাথবোনকে আক্রমণের তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, জওহরলাল নেহরু তখন জেলে। তাই প্রতিবাদীর লেখনী নিয়ে অশক্ত শরীরেও তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ভারত নিন্দুক বিদেশিনীর বিরুদ্ধে। একই সময় রবি ঠাকুর লিখেছেন গল্পসল্পের ভূমিকা, ছোটগল্প ‘তিনসঙ্গী’ ও একাধিক ছড়া। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা।
সরকারি মালিকানাধীন সিঙ্কোনা বাগানের মধ্যে ছোট্ট মংপু গড়ে উঠেছে। চিরহরিৎ এই বনপথের ভিতর মংপু। রাম্বি গ্রাম থেকে যার দূরত্ব ১০ কিমি। সপ্ততিপরবৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ পুরো পথটি পালকিতে পাড়ি দিয়েছিলেন। ১৯৪০-এ রবিঠাকুরের জন্মদিন পালিত হয় এখানে। পঁচিশে বৈশাখের দু-তিন দিন আগে একটা রবিবার, ২২ বৈশাখ বন্দোবস্ত হয় উৎসবের। সকাল দশটায় স্নান করে কালো জামা, কালো রঙের জুতো পরে বাইরে এসে বসেন। কাঠের বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে একজন বৌদ্ধ স্তোত্র পাঠ করেন। কবি ঈশোপনিষদ থেকে অনেকটা পড়েন। সে-দিন দুপুরবেলা ‘জন্মদিন’ বলে তিনটে কবিতা লিখেছিলেন, তার মধ্যে বৌদ্ধবৃদ্ধের কথা ছিল। বিকেলবেলা দলে দলে আসতে শুরু করেন পাহাড়ি দরিদ্র প্রতিবেশীরা। সানাই বাজতে লাগে। ঠেলা চেয়ারে বসে বাড়ির পথ দিয়ে ধীরে ধীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল রবিঠাকুরকে। দলে দলে পাহাড়িরা প্রণত হয়ে ফুল দিতে থাকেন। প্রত্যেকটি মানুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলেই কিছু না কিছু ফুল এনেছিল।

স্থানীয় সিঙ্কোনা বাগান এবং কুইনাইন কারখানার শ্রমিকরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। তাঁরা লোকগান গেয়ে, নৃত্য পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করেছিলেন। তিব্বতি নিমন্ত্রিতরা এসে রবীন্দ্রনাথকে খর্দা গাছের সুতোয় বোনা স্কার্ফ পরিয়ে দিয়েছিলেন। এমন ধরনের স্কার্ফ পরতেন লামারা। রবীন্দ্রনাথ যখন জন্মদিনের মুহূর্তে পর্বত-ঘেরা শিলাতলে এসে বসেছিলেন, শঙ্খ বেজে ওঠে। তখনও উদযাপন চলছে। এরপর ধীরে ধীরে পাতার ঠোঙা নিয়ে নেমন্তন্ন খেতে বসেন সকলে। তাঁদের খাওয়া-দাওয়ায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয় সে-বিষয়ে বসে বসে তদারক করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এত খুশির মাঝেও দুঃসংবাদ এল। অনন্তলোক যাত্রা করেছেন রবি ঠাকুরের ভাইপো সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আবেগকে শৃঙ্খলায় বেঁধেছিলেন কবি। পাহাড়ি গ্রামের মানুষগুলোর আনন্দে যাতে কোনও ভাটা না পড়ে। মনে মনে নির্জন হলেন তিনি। ‘জন্মদিন’-এর সঙ্গে লিখলেন প্রিয়মৃত্যুবিচ্ছেদের পঙ্ক্তিমালা; ‘‘আজি জন্মবাসরের বক্ষ ভেদ করি/ প্রিয়মৃত্যুবিচ্ছেদের এসেছে সংবাদ;/ আপন আগুনে শোক দগ্ধ করি দিল আপনারে,/ উঠিল প্রদীপ্ত হয়ে।’’ অখণ্ড এই জীবন। জন্ম-মৃত্যু যেখানে এক হয়ে আছে। উজ্জ্বল অমরতার পথে হাঁটা রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, ‘‘নিজেকে খুশি করা নিজের হাতে। যা পেয়েছি তাই ভালো; হাসিমুখে আনন্দিত মনে পার হয়ে যেতে হবে পথ। মন খুঁতখুঁত করে উঠলেই মনকে দিয়ে বলিয়ে নিও; আনন্দং পরমানন্দং পরম সুখং পরমাতৃপ্তি।’’
লেখার শুরুতে বলেছিলাম ‘মীরা কুটিরে’র কথা। বন্ধু মানস ভট্টাচার্য জানালেন, বর্তমানে এখানে এক বিশাল কর্মকাণ্ড চলছে। যেন ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’। রামগড় থেকে আরও একটু উঁচুতে ‘টেগোর টপ’ বলে একটা জায়গা আছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে সমগ্র অঞ্চলকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, মংপুর রবীন্দ্রভবনও সৌন্দর্যে কম যায় না। রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত বাড়িখানি আজ সংগ্রহশালা। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, সংগ্রহশালাটিতে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের পরিমাণ ইদানীং খানিক কম। মংপুবাসের সময়কার পাণ্ডুলিপি, চেয়ার-টেবিল, ছবি আঁকার সরঞ্জাম সযত্নে সেখানে রক্ষিত রয়েছে বটে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। গোটা রবীন্দ্রভবনকে একটা আর্ট গ্যালারির মতো মনে হয়। রবীন্দ্রনাথের আঁকা চিত্রগুলি ফ্রেমবন্দি হয়ে দেওয়ালের শোভা বাড়াচ্ছে বটে, কিন্তু ছবিগুলি কি আসল? রবীন্দ্রস্মৃতিধন্য নৈনিতালের রামগড় এলাকায় যখন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে, হিমালয়ের আরেক প্রান্ত মংপুতে সেখানে অদ্ভুত এক নির্জনতা।
এমনকী বছরখানেক আগেও সেখানে ‘ভবন’ নিয়ে টানাপোড়েন চলেছিল। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর তিন বছর পর সিঙ্কোনা বাগানের ভিতরে থাকা এই বাংলোয় যে রবীন্দ্র সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছিল, তা কোন দফতরের অধীনে থাকবে, এটা নিয়েই ছিল এই টানাপোড়েন। ২০০৯ সালের আগে শ্রম দফতরের অধীনে ছিল রবীন্দ্রভবন। তবে সংগ্রহশালাটি সিঙ্কোনা বাগানের ভিতরে থাকায় সিঙ্কোনা কর্তৃপক্ষও রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কাজ করে বলে জানা যায়। তাছাড়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাতেও সমস্যা মেটেনি। একদলের দাবি ছিল, রবীন্দ্রভবনের দায়িত্ব জিটিএ অর্থাৎ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে থাকুক, কারণ জিটিএ-রও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর রয়েছে। অন্যদিকে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের অভিযোগ ছিল, রবীন্দ্রভবনের দায়িত্ব তাদের হাতে সরাসরি তুলে দেওয়া হয়নি।

মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর রচনায় রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লিখছেন, ‘‘কতদিন দেখেছি লিখতে লিখতে কলম বন্ধ করে ঐ বিশাল ছায়াময় বনস্পতির দিকে চেয়ে বসে আছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুল ভালোবাসতেন সে কথা সবারই জানা রয়েছে; কিন্তু অরণ্যের ফুলেদের প্রতি তার কেমন বিচার, কেমন মনোভাব, কতোখানি মেখে নিয়েছিলেন নয়নের পাতায় অরণ্য পুষ্পরাগ!’’ ফুলেদের প্রতি কবির এমন বিচারের পর হয়তো লেখা হয়েছিল, ‘‘অপরাহ্নে, এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে/ পাহাড়িয়া যত।/ একে একে দিল মোরে পুষ্পের মঞ্জরী/ নমস্কার সহ।’’ সত্যিই এ কেমন বিচার? কিন্তু আজ, কবির আরও এক জন্মদিনে তাঁর প্রতি বিচারের কথাই ভাবি। রবীন্দ্রস্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে কুয়াশামাখা মংপুর এই সুরেল বাংলো। তবে এ কুয়াশা কি নিছকই সুন্দরী পাহাড়ের?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আপাতত বন্ধ নির্মাণ, স্ক্যানারে তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যান, তারাতলা বিপর্যয়ে ‘অ্যাকশন’ শুভেন্দুর
-
মেট্রোর কাজের জন্য চলতি ও জুলাই মাসে বন্ধ থাকবে চিংড়িহাটা ফ্লাইওভার, কোন পথে যান চলাচল?
-
সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে চান? এই ৬ ভুলে ভাঙছেন মনোবল!
-
র্যাঙ্কিংয়ে কোহলিকে টপকালেন শুভমান, বুমরাহর সিংহাসন ছুঁয়ে ফেললেন কিউয়ি তারকা
-
পনির খেলেই পেট ফেঁপে যায়? এই ৫ ভুল না করলে কোনও অসুবিধাই হবে না