সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে বেআইনি গো-হত্যা রুখতে মোদি সরকারের উদ্যোগের অভাব নেই। পশুহাট বা পশুবাজারে গবাদি পশু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর স্বঘোষিত গোরক্ষকবাহিনীর তাণ্ডবও বেড়েছে। গো-গুজবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণ-পিটুনিতে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষদের। এমনকী, গো-মাংস বহনের অভিযোগে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এই প্রেক্ষাপটে এবার বিজেপিশাসিত ছত্তিশগড়ে শাসকদলের এক নেতার গোশালাতেই অনাহারে ও ওষুধের অভাবে ২০০টি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল! অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
[বাংলা, অসম, বিহারের বন্যা পরিস্থতির জন্য দায়ী চিন?]
ধৃত বিজেপি নেতা হরিশ বর্মা স্থানীয় জামুলনগর পুরসভার ভাইস প্রেসিডেন্ট। ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলার রাজপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে প্রায় সাত বছর ধরে একটি গোশালা চালাচ্ছেন তিনি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই গোশালাতেই গত কয়েকদিনে ২০০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বেশিরভাগ গরুর মৃতদেহ গোশালার কাছেই একটি জায়গায় পুঁতে দিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। রাজপুর গ্রামের সরপঞ্চের স্বামী সেবারাম শাহু বলেন, ‘দু’দিন আগে আমার দেখি, গোশালার কাছে একটি মেশিন আনা হযেছে। আমরা সংবাদমাধ্যমে খবর দিই। ঘটনাস্থলে গিযে দেখা যায়, মৃত গরুগুলিকে কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। কমপক্ষে ২০০টি গরুর মৃতদেহ পড়েছিল।’
[ভারতের সঙ্গে আকাশপথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হল আন্দামানের]
ঘটনার কথা জানতে পেরেই বিজেপি নেতা হরিশ বর্মার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে ছত্তিশগড়ের রাজ্য গৌ সেবা আয়োগ। ঘটনাস্থলে যান পশু চিকিৎসকরা। পশুচিকিৎসদের অনুমান, অনাহার ও ওষুধের অভাবেই মৃত্যু হয়েছে গরুগুলির। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা হরিশ বর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পশুদের সঙ্গে নৃশংস আচরণের অভিযোগে মামলা রুজু হযেছে। ছত্তিশগড়ের পশুচিকিৎসা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর এম কে চাওয়ালা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মৃত ২৭টি গরুর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ওই গোশালার আরও ৫০টি গরুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় মহকুমাশাসক রাজেশ রাতরে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অনাহারে গরুর মৃত্যুর অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। এই নিয়ে জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে।
[কেরলে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আরএসএস নেতা]
যদিও গোশালাতে অনাহারে গরুর মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা হরিশ বর্মা। তাঁর দাবি, গোশালাতে ২২০টি গরু রাখার ব্যবস্থা থাকলেও, গরু রয়েছে ৬৫০টি। সমস্যার কথা বহু বার রাজ্য সরকারকেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এমনকী, গোশালার অনুদান বাবদ ১০ লক্ষ টাকাও সরকারের কাছে বকেয়া আছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা হরিশ বর্মা।
[হিন্দু না হলে ‘গরবা’য় অংশগ্রহণ নয়, ভোপালে ফতোয়া হিন্দু সংগঠনের]
সর্বশেষ খবর
-
দলে আর জায়গা নেই, জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড! রবিবারই শেষ ওয়ানডে খেলবেন রোহিত?
-
দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা
-
ঋত-তৃণমূলে এবার ব্রাত্যও? ঘাসফুল শিবিরে ভাঙনের মরশুমে তুঙ্গে জল্পনা
-
ফুলবাগানের মন্দির তহবিল থেকে ‘চুরি’ ৪৪ লক্ষ, অভিযোগ দায়ের কমিটির
-
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করতে গিয়ে মৃত্যু! বাংলাদেশে মর্মান্তিক পরিণতি তরুণের