৩০ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছোট্ট ছোট্ট হাত উপরের দিকে তোলা৷ পা ছোঁড়ার ভঙ্গিমা থমকে গিয়েছে৷ মনে হচ্ছে, হাত-পা ছুঁড়ে খেলা করছে খুদে৷ কিন্তু মুখের দিকে তাকালেই সব ফ্যাকাশে৷ বন্ধ চোখ৷ ঠিক যেন খেলতে খেলতেই পাড়ি জমিয়েছে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের দেশে৷ যেখানে কোনও ভয় নেই, আতঙ্ক নেই৷ যে দেশ সব কিছুর উর্ধ্বে৷ সম্প্রতি বিহারে বন্যার কবলে পড়ে মাত্র মাস তিনেকের শিশুর এই ভাসমান দেহের ছবি ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়৷ যা দেখে চোখের কোণে জল সকলের৷

[ আরও পড়ুন: ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে বিহার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭]

শীতলপট্টি এলাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস রানি দেবী নামে এক মহিলার৷ অর্জুন, রাজা এবং জ্যোতি নামে ওই শিশুরাই তাঁর পৃথিবী৷ এছাড়া আর কেউ নেই৷ বাড়ির সামনে নদী৷ তাই যে কোনও মুহূর্তে জলের তলায় ভিটেমাটি তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তিন সন্তানের মাকে৷ বুধবার তিন সন্তানকে পাশে রেখে নদীতে বাসন মাজা,কাপড় কাচার মতো নিত্যদিনের কাজে গিয়েছিলেন তিনি৷ আচমকাই আসে প্রবল স্রোত৷ করাল গ্রাসে মাসতিনেকের শিশু অর্জুন নদীতে তলিয়ে যায়৷

ছোট সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে বাকি দুই সন্তানকে নিয়ে রানি নিজেও ঝাঁপ দেন বন্যার জলে ফুঁসে ওঠা নদীতে৷  প্রাণপন চেষ্টা করেও দুধের সন্তানকে ফেরাতে পারেননি রানি৷ চোখের সামনে ভেসে যায় অর্জুন৷ প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন৷ রানি এবং তাঁর এক সন্তানকে উদ্ধার করেন তাঁরা৷ বাকিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি৷বৃহস্পতিবার সকালে অর্জুনের নিথর দেহ নদীর তীরে দেখতে পান স্থানীয়রা৷ ঠিক যেন খেলার ভঙ্গিমায় চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়া অর্জুনের ছবি দেখে ডুকরে কেঁদে উঠছেন প্রায় সকলেই৷ বন্যার অসহায়তার এ ছবি ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি৷

এ ছবি যেন উসকে দিল মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বাস্তু সমস্যার এক ঝলক৷ দিনকয়েক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তের রিও গ্রান্দে নদীতে ভেসে ওঠা বাবা-মেয়ের ছবি দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল সকলের৷ শরণার্থী হয়ে নিরাপত্তার খোঁজে যাওয়ার পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁদের৷ তারও আগে সিরিয়ায় সমুদ্রের তীরে বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা আয়লান কুর্দির ছবি এখনও ভুলতে পারেনি কেউ৷ উদ্বাস্তু সমস্যা যে ঠিক কতটা ভয়ংকর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে প্রাণ দিয়ে যেন সেই প্রমাণই রেখে গিয়েছে আয়লান কুর্দি৷ অনেকেই বলছেন, ছোট্ট অর্জুনের ছবিও বিহারের বন্যার সংকটজনক পরিস্থিতির সংকেতবাহী৷ 

[ আরও পড়ুন: ট্রেন থামিয়ে লাইনেই প্রস্রাব মোটরম্যানের, কুকীর্তির ভিডিও ঘিরে অস্বস্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ]

বন্যায় প্রায় প্রতি বছরই কমবেশি ক্ষতি হয় বিহারের৷ প্রাণহানি, বাড়ি ভাঙার মতো ঘটনা লেগেই রয়েছে৷ যে রাজ্যে অর্জুনের মতো একরত্তি নিজের অস্তিত্ব লড়াইয়ে ব্যর্থ, সে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি দুর্গতদের কথা ভুলে দিব্যি ব্যস্ত রয়েছেন সিনেমা নিয়ে৷ হৃতিক রোশনের ‘সুপার ৩০’ তে মজে তিনি৷ প্রশ্ন উঠছেই, বন্যা নাকি সিনেমা কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বন্যাদুর্গত রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর কাছে?

একুশ শতকে আমরা প্রযুক্তিগত দিকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছি৷ আগামী ২২ জুলাই আবারও দ্বিতীয় চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা হবে৷ এই গর্বের মাঝে কেন প্রতি বছর বিহারের বন্যা পরিস্থিতির বদল আনা সম্ভব হচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মাথা হেঁট হয়ে আসে আমাদের৷ অর্জুনের মৃত্যু কি প্রশাসনিক গাফিলতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ নয়? ভয়ংকর পরিস্থিতিতে এই প্রশ্ন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে৷ 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং