Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৬ জুলাই ২০২৬

এই ৪টি কারণেই ভেঙেছে লালু-নীতীশ জুটি, পাটনায় তুলকালাম

৬ মাস আগেই লেখা হয় নীতীশের 'ঘর ওয়াপসি'-র চিত্রনাট্য, মাহেন্দ্রক্ষণ এল ২৬ জুলাই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০১৭, ১৭:৩৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০১৭, ১৭:৩৪

options
link
এই ৪টি কারণেই ভেঙেছে লালু-নীতীশ জুটি, পাটনায় তুলকালাম zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার রাতে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপর্ব তো ছিল নাটকের শেষ অংক। পর্দার আড়ালে চিত্রনাট্য সাজানো হয়ে গিয়েছিল ছ’মাস আগেই। পাটনার ইতি-উতি এখন এমনই কানাঘুষো চলছে। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমার শপথ নেওয়ার আগে বিজেপিতে তাঁর ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। কেউ কেউ তো বলছেন, ‘তেজস্বী তো বহানা থা, এনডিএ মে জানা থা’! কিন্তু আসল রহস্যটা কী? রাজনৈতিক মহলের মতে, বছরের শুরুতেই নাকি বিজেপিতে নীতীশের ‘ঘর ওয়াপসি’ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দিনটা ছিল ৫ জানুয়ারি, গুরু গোবিন্দ সিংয়ের ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার ঠিক পাঁচদিন পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পাটনা গিয়েছিলেন। সম্রাট-সেনাপতি জুটি নীতীশের মানভঞ্জন করেন ওই সময়ই। তারপর পাটনা থেক দিল্লি পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে নীতীশের সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করে। তারপর জেডি (ইউ) মহাসচিব কেসি ত্যাগী সংঘের বহু নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে শোনা যায়। তখনই নীতীশের ‘ঘর ওয়াপসি’-র চিত্রনাট্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। মাহেন্দ্রক্ষণ এল ২৬ জুলাই।

[বিজেপির সমর্থনে বিহারের গদিতে ফের নীতীশ, ডেপুটি সুশীল মোদি]

লালুর দল এবং মহাজোটের অন্যতম শরিক আরজেডির সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় ধীরে ধীরে। আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে ভাঙন ধরে রক্সৌলে পানীয় জলের একটি প্রকল্পকে ঘিরে। লালুর ছেলে তথা বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এই প্রকল্পে খুবই উৎসাহ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু বাদ সাধেন নীতীশ ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং লল্লন। ব্যস, তখনই ঠোকাঠুকি লেগে যায়। এরপরই লালুর পরিবারে আছড়ে পড়ে বেনামী সম্পত্তির মামলা। সেই সময় মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি অন্যতম বিরোধী বিজেপির সুশীল মোদির হাতে এসে যায়। যাকে বলে গোদের উপর বিষফোড়া। জেডি (ইউ)-র অন্দরের খবর, নীতীশের ইস্তফা দেওয়ার তিনদিন আগে অর্থাৎ রবিবারই বিজেপিতে যাওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়ে যায়। মিডিয়াকে ব্যবহার করে নীতীশই নাকি লালুর পরিবারকে কোণঠাসা করার কাজ শুরু করেন। নীতীশের ইস্তফা দেওয়ার তিনদিন আগে অমিত শাহ দলের রণনীতিকারদের সঙ্গে বৈঠক করে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া, সরকারে যাওয়া এবং পুনরায় নির্বাচনের দরজা খোলা রাখার রণনীতি তৈরি করে ফেলেন। শেষপর্যন্ত সরকারে শামিল হওয়ার বিকল্পেই সিলমোহর দেয় গেরুয়া শিবির। তাই বুধবার রাতারাতি নীতীশকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে বিজেপি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এবার আসা যাক প্রধানত যে কারণগুলির জন্য নীতীশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল সেগুলিতে। এই চারটি কারণের জন্য মহাজোট ভাঙতে বাধ্য হন নীতীশ।

পেট্রল পাম্প ঘোটালা- লালুর ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবের উপর প্রতারণা করে একটি পেট্রল পাম্প হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মালিক না হয়েও ওই পাম্পের জমির মালিকানা দাবি করেন তেজপ্রতাপ।

লালুর মেয়েদের নামে ভুয়ো সংস্থা- লালুর তিন মেয়ের উপর বেনামী ভুয়ো সংস্থার কর্ণধার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তেজস্বীর বিরুদ্ধেও একইধরনের অভিযোগে সরব হয় বিরোধীরা।

আর্থিক প্রতারণার মামলা- লালুর মেয়ে মিশা ভারতীর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অ্যাকাউন্ট্যান্টকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তার উপর ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ইডি মিশা এবং লালুর জামাইকে লাগাতার জেরা করে তার জন্য।

বেনামী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত- ২০ জুন আয়কর দপ্তর লালুর পরিবারের ১২টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। সবকটি সম্পত্তি লালুর মেয়ে মিশা এবং তাঁর স্বামী শৈলেশ কুমারের নামে ছিল। কিছু তেজস্বী, লালুর স্ত্রী রাবড়ি, মেয়ে রাগিনী এবং চন্দনা যাদবের নামে ছিল। সবকটি সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

[খুনের মামলা তুলে ধরে নীতীশকে পালটা আক্রমণ লালুর]

এই কারণগুলির জন্যই নীতীশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে লালু এবং তাঁর দুই ছেলে তেজস্বী ও তেজপ্রতাপের। তার চেয়েও উল্লেখযোগ্য বিষয়, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি বিহারের রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সেইদিন ২৩তম পাটনা বইমেলার উদ্বোধনে যান নীতীশ। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পদ্মশ্রী বউয়া দেবীর একটি ছবিতে তুলি দিয়ে রং ভরেছিলেন নীতীশ। সাদা ক্যানভাসে আঁকা পদ্মফুলের মধ্যে অপটু হাতে তুলির টানে গেরুয়া রং ভরেছিলেন নীতীশ। সেই ছবিই তাঁর ‘ঘর ওয়াপসি’-র ইঙ্গিত আরও জোড়াল করে দেয়। বাকিটা সবারই জানা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.