BREAKING NEWS

২৮ আষাঢ়  ১৪২৭  বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

পাখিদের তৃষ্ণা মেটাতে বিনামূল্যে মাটির ভাঁড় বিতরণ পরিবেশপ্রেমীর

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: April 20, 2019 7:09 pm|    Updated: April 20, 2019 7:09 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনী মরশুমে কমিশনের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞার বজ্র আঁটুনি ভেঙে তলে তলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা কম চালাচ্ছেন না রাজনৈতিক নেতারা৷ দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি জায়গায় উদ্ধার হয়েছে লক্ষ, কোটি টাকা৷ যার ফলে তামিলনাডুর ভেলোরে স্থগিত হয়ে গিয়েছে নির্বাচন৷ কিন্তু এসব নেতিবাচক খবরের মাঝে সেই দক্ষিণ ভারতেরই এক নিতান্ত সাদামাটা ব্যক্তি উঠে এসেছেন খবরের শিরোনামে৷ না, কোনও দুষ্কর্মের জন্য নয়৷ তিনি যা করছেন, সেটাই খাঁটি নাগরিকের কাজ৷ কেরলের শ্রীমন নারায়ণন সকলকে বিনে পয়সায় বিলি করছেন মাটির ভাঁড়৷ কোনও নির্বাচনী চমক নয়৷ শ্রীমনের এই কাজ একেবারেই পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে৷

[ আরও পড়ুন: বন্দির পিঠে গরম লোহার শিক দিয়ে লেখা ‘ওম’, কাঠগড়ায় জেল কর্তৃপক্ষ]

এরনাকুলামের মুপ্পাথাড়ম নামে একটি ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দা বছর সত্তরের শ্রীমন নারায়ণন৷ তিনি মূলত লেখক, পুরস্কারও পেয়েছেন৷ এছাড়া তাঁর লটারির ব্যবসাও আছে৷ এসব বললে যদিও শ্রীমন সম্পর্কে বিশেষ ধারণা করা যায় না৷ শ্রীমনের আসল পরিচয়, তিনি একজন পরিবেশপ্রেমী এবং এরনাকুলামে দূষিত হতে থাকা বিস্তীর্ণ পরিবেশ রক্ষায় একাই নেমেছেন এক অসম লড়াইয়ে৷ সেই সংগ্রামের কথায় পরে আসছি৷ ঠিক যে কারণে এই মুহূর্তে শ্রীমন প্রায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, সেই কাজটি বলা যাক৷ এরনাকুলামবাসীকে তিনি বিনামূল্যে দিচ্ছেন বড় মাটির ভাঁড়৷ ১০ হাজার এরকম ভাঁড় বিতরণ করা হয়েছে৷ নিজেদের বাড়ির সামনে সেই পাত্রে জল রেখে পাখিদের বাঁচানোর আরজি তিনি জানিয়েছেন নগরবাসীর কাছে৷

birds

কেরলের এরনাকুলামে ইল্লুর-ইড়ায়া একটি শিল্পাঞ্চল৷ পেরিয়ার নদীর ধারে শিল্পাঞ্চলগুলি থাকায়, তাতে দূষণের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে৷ পাখিরা নদীতে জল খেতে এলে, দূষণের চোটে তাদের মৃত্যু হচ্ছে৷ শ্রীমন চান তাদের বাঁচাতে৷ তাই মাটির পাত্রে জল রেখে পাখিদের বাঁচানোর প্রয়াস তিনি ছড়িয়ে দিতে চান৷ তাঁর কথায়, ‘গরম পড়েছে৷ জলের উৎস সব শুকিয়ে যাচ্ছে৷ শুধু মানুষই জলের অভাবে ভুগছেন তা নয়৷ পশুপাখিদের উপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে৷ তারাও জলকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়ছে,মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে৷ এই ভাঁড়ে জল রাখলে অন্তত ১০০টি পাখি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পারে৷’

[আরও পড়ুন: ‘আমার সঙ্গে জঙ্গিদের মতো ব্যবহার করা হত’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন আজম খান]

ইতিমধ্যে আশেপাশের বাড়ি, ক্লাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দুয়ারে দুয়ারে ৯ হাজার মাটির ভাঁড় শ্রীমন পৌঁছে দিয়েছেন৷ সকলকে বলেছেন একই কথা৷ এই ভাঁড়ে জল রেখে পাখিগুলোকে বাঁচান৷ পুরস্কার বিজয়ী লেখকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মুপ্পাথাড়মের গ্রামবাসীরা এর নাম দিয়েছেন ‘জিভা জলতিনু ওরু মানু পথরম’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় – ‘জীবনদায়ী মাটির পাত্র’৷ নিঃশব্দে এই কাজ করে শ্রীমন নারায়ণন কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় এক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেললেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement