Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Ajit Pawar Plane Crash

অজিতের মৃত্যুতে মহাসমীকরণ মহারাষ্ট্রে, ‘উত্তরসূরিহীন’ এনসিপি-র অস্তিত্বই কি মুছে যাবে?

Ajit Pawar’s Death: বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে আবার ডামাডোলের সম্ভাবনা তৈরি হল মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। সেখানে এনসিপি-র ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই খানিক অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট 'মহাজুটি'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৫:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৫:৪৮

options
link
অজিতের মৃত্যুতে মহাসমীকরণ মহারাষ্ট্রে, ‘উত্তরসূরিহীন’ এনসিপি-র অস্তিত্বই কি মুছে যাবে? zoom
(বাঁ দিক থেকে) শরদ পওয়ার এবং অজিত পওয়ার।

বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে আবার ডামাডোলের সম্ভাবনা তৈরি হল মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। সেখানে এনসিপি-র ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই খানিক অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট ‘মহাজুটি’।

২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে টানাপড়েন চলছে। উদ্ধব ঠাকরের বিজেপির সঙ্গত্যাগ, পরে উদ্ধবের শিবসেনা ভেঙে যাওয়া রাজ্য-রাজনীতিতে তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। শিবসেনা ভেঙে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই ভেঙে যায় শরদ পওয়ায়ের এনসিপি। দলের ‘দখল’ নেন অজিত। তাঁর মৃত্যু এখন কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে পড়েছে এনসিপি! এই পরিস্থিতিতে দলের সাংসদ-বিধায়কেরা কী করবেন, তা নিয়েই জল্পনা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

২০২৩ সালের ২ জুলাই এনসিপিতে বিদ্রোহ ঘটিয়ে শরদের অমতেই বিজেপির হাত ধরেছিলেন অজিত। একনাথ শিণ্ডের শিবসেনা এবং বিজেপির জোট সরকারের শরিক হয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন। অজিতের বিদ্রোহের পরেই এনসিপির অন্দরের সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। অজিত-সহ ন’জন বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়কের মন্ত্রিত্ব এবং ভালো দপ্তর লাভের পরে পরিষদীয় দলের অন্দরে ক্রমশ তাঁর শিবিরের পাল্লা ভারী হতে থাকে। সাংসদদের একাংশও তাঁর দিকে যান।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনসিপির নিয়ন্ত্রণ যায় অজিতের হাতেই। দলের নাম নির্বাচনী প্রতীক ঘড়ির তাঁর গোষ্ঠীর জন্যই বরাদ্দ করা হয়। শরদের নেতৃত্বাধীন এনসিপি পরিচিত হয় এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) নামে। নির্বাচনী প্রতীক হয় ‘তুতারি’ (পশ্চিমি বাদ্যযন্ত্র ট্রাম্পেটের মরাঠি সংস্করণ)। নাম ও প্রতীক হারিয়েও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন শরদ। জিতেছিলেন আটটি আসনে। অন্য দিকে, চারটিতে লড়ে অজিতের দল জিতেছিল মাত্র একটি আসনে। কিন্তু লোকসভার পর বিধানসভা নির্বাচনে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটে অজিতের। তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপি ৫৯টিতে লড়ে জেতে ৪১টিতে। অন্য দিকে, ৮৬টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিয়ে এনসিপি (শরদ)-র ঝুলিতে মাত্র ১০!

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপি বিধায়কেরা আবার শরদের হাত ধরার চেষ্টা করতে পারেন। তাতে খানিক অস্বস্তিতে পড়বে বিজেপি। যদিও এখন শরদের স্বাস্থ্যের যা অবস্থা, তাতে তিনি বেশি দিন দলের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না। তখন দলের মুখ হয়ে উঠবেন তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। কিন্তু সুপ্রিয়ার ‘উত্তরসূরি’ হওয়া নিয়ে দলের অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। কারণ সাংসদ সুপ্রিয়া যতটা না মহারাষ্ট্রের নেত্রী, তার চেয়ে অনেক বেশি দিল্লির নেত্রী! অন্তত এমনটাই মনে করেন দলীয় নেতাদের বড় অংশ।

গত বিধানসভা ভোটে অন্তত ২৩০ আসনে জিতেছিল ‘মহাজুটি’। রাজনৈতিক মহলের যুক্তি, এতে অজিতের দলের ৪১ জন বিধায়ক শরদের এনসিপির সঙ্গে হাত মেলালে শাসকজোট সংখ্যার দিক দিয়ে বিপাকে পড়বে না ঠিকই। কিন্তু বিরোধীদে পাল্লা ভারী হলে অস্বস্তি হওয়ারই কথা। আবার পালটা অভিমতও রয়েছে। অনেকের মত, অজিতের দলের বিধায়কেরা জানেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। তাই তাঁরা বিজেপির দিকেও ঝুঁকতে পারে। এতেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতি থেকে কার্যত মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এনসিপি-র।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.