Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Ajit Pawar

বারামতিতে উত্থান, সেখানেই ‘পতন’! কাকার সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেই চলে গেলেন অজিত

'দাদা'র করুণ পরিণতিতে শোকাবিষ্ট মহারাষ্ট্র।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৫:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৫:২১

options
link
বারামতিতে উত্থান, সেখানেই ‘পতন’! কাকার সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেই চলে গেলেন অজিত zoom
কাকার সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকে বরাবরের জন্য জিইয়ে রেখেই চলে গেলেন অজিত।

বারামতি তাঁকে কখনও খালি হাতে ফেরায়নি। পরপর সাতবার এখান থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। তারও আগে ১৯৯১ সালে লোকসভা নির্বাচনেও এখান থেকেই জয়লাভ করেছিলেন। অথচ সেই বারামতিতেই আছড়ে পড়ল অজিত পওয়ারের বিমান! যেখান থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ারের উত্থান, সেখানেই জীবননাট্যের যবনিকা পতন! শরদ পওয়ারের ভাইপোর, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর আকস্মিক প্রয়াণ ঘিরে শোকের আবহ। এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না মহারাষ্ট্রের মানুষেরা। ‘দাদা’ নামেই ছিল খ্যাতি। দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের রাজনৈতিক কেরিয়ার। আরবসাগরের পারে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখের এমন মৃত্যু সত্যিই ইন্দ্রপতন।

‘শিব-শাহু-ফুলে-আম্বেদকর’ আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। অর্থাৎ ছত্রপতি শিবাজি, রাজর্ষি শাহু মহারাজ, জ্যোতিরাও ফুলে এবং ড. বিআর আম্বেদকরের মতাদর্শকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। ১৯৮২ সালে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয় বছর তেইশের অজিতের। সামনে ছিলেন কাকা শরদ পওয়ার! ততদিনে তিনি দেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। চিনি কারখানার সমবায় বোর্ডের সদস্য হিসেবে অজিত শুরু করলেন তাঁর ‘দৌড়’। প্রায় একদশক পরে ১৯৯১ সালে পুণে জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হন। আর সেবছরই প্রথমবারের জন্য সাংসদ হলেন। হ্যাঁ, বারামতি থেকেই। যে বারামতি থেকে সাতবারের বিধায়ক হওয়া। যে বারামতি তাঁর ও পওয়ার পরিবারের শক্ত ঘাঁটি। সেই বারামতিতেই পৌঁছনো হল না এবার। যেখানে স্থানীয় নির্বাচনে সাম্প্রতিক ফল ভালো হয়নি এনসিপির অজিত পওয়ার শিবিরের। সেখানেই আছড়ে পড়ল অজিতের বিমান। এক সফল রাজনীতিকের করুণ প্রস্থানের কাহিনি লিখে রাখল, হ্যাঁ, সেই বারামতিই।

Advertisement

দাদা’ নামেই ছিল খ্যাতি। দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের রাজনৈতিক কেরিয়ার। আরবসাগরের পারে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখের এমন মৃত্যু সত্যিই ইন্দ্রপতন।

Ajit Pawar's NCP gets finance, 6 other departments in Maharashtra Cabinet

জননেতা ছিলেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও ছিল। কিন্তু অজিতের প্রয়াণে বারবার আলোচনায় উঠে আসবে তাঁর সঙ্গে কাকার সম্পর্কের উত্থান-পতনের কাহিনি! প্রায় বছর তিনেক আগে শরদ পওয়ারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের দল গড়েন অজিত। আইনি যুদ্ধে জিতে এনসিপির ঘড়ি প্রতীকও যায় তাঁর দখলে। যদিও লোকসভা নির্বাচনে কিন্তু শরদ পওয়ার ভাইপোকে টেক্কা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যায় অজিত পওয়ারের শিবির যেখানে ৪১টি আসনে জিতেছে, সেখানে শরদের দল পেয়েছে ১০টি আসন। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, দুই এনসিপি মিলে যেতে চলেছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনে দুই এনসিপি পুণে এবং পিম্পরি-চিঁচওয়াড় পুরসভায় বিজেপি-শিব সেনার বিরুদ্ধে দুই শিবির ঐক্যবদ্ধ লড়ার পরই সংযুক্তিকরণের জল্পনা আরও জোরাল হয়।

বছরের শুরুতে এক সাংবাদিক অজিত পওয়ারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এনসিপির দুই শিবির কি আগামী দিনে এক হতে চলেছে? মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ওই বলে ওঠেন, “আপ কে মু মে ঘি-শক্কর।” আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক। শরদ পওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলে এবং অজিত পওয়ার নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন বলেও শোনা গিয়েছিল। ফলে সরাসরি কোনও ঘোষণা না করলেও সেই সম্ভাবনার ভিত্তি যে বাস্তব তাতে সন্দেহ ছিল না। রাজনীতি খুব কঠিন আঙিনা। পিতা-পুত্র, কাকা-ভাইপোর মতো সমীকরণের চেয়েও জরুরি হয়ে ওঠে মসনদ… গদির লড়াই। অজিত কি বুঝতে পেরেছিলেন, সেই হিসেবেও কাকার হাত ধরে থাকাটাই জরুরি? বছর আড়াই আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে কি অনুতাপ করতেন? যদিও বিজেপির সঙ্গ তাঁকে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী করেছিল, তবুও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা যে পদ্ম শিবিরের সঙ্গে থাকলে পূরণ হবে না, সেটাও বোধহয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত তাই শরদ পওয়ারের সঙ্গে হাত মেলানোটাই তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক হত, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু সব জল্পনা থেমে গেল বুধবার সকালে। যে বারামতি থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল, সেই বারামতির মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অজিত পওয়ার। কাকার সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকে বরাবরের জন্য জিইয়ে রেখেই!

বছরের শুরুতে এক সাংবাদিক অজিত পওয়ারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এনসিপির দুই শিবির কি আগামী দিনে এক হতে চলেছে? মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ওই বলে ওঠেন, “আপ কে মু মে ঘি-শক্কর।” আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.