উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে হারাতে কি এবার গোপনে হাত মেলাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি? সপা সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের (Akhilesh Yadav) সঙ্গে ককরোচ নেতা আশুতোষ রাঙ্কার (Ashutosh Ranka) ‘গোপন’ বৈঠক বৈঠক ঘিরে চাঞ্চল্য লখনউয়ের রাজনীতিতে। আরএসএসের প্রশ্ন, কী এমন আলোচনা হল? বৈঠকের এজেন্ডা গোপন রাখা হল কেন?
আরএসএসের মুখপত্র অর্গানাইজারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর লখনউয়ে গোপনে আশুতোষের সঙ্গে দেখা করেছেন অখিলেশ। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক কথা হয়েছে দু’জনে। আশুতোষ রাঙ্কা ককরোচ পার্টির সহকারী আহ্বায়ক। অভিজিৎ দীপকে বা সৌরভ দাসের মতো তিনি ছাত্র নন। পরিপক্ক রাজনৈতিক কর্মী। অতীতে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন ককরোচ পার্টির রাজনৈতিক কার্যকলাপে তাঁর ভালো প্রভাব রয়েছে। তাঁর সঙ্গে অখিলেশের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা রয়েছে। অবশ্য ওই বৈঠকের বিস্তারিত দু’পক্ষের কেউই প্রকাশ করেনি। তাতেই দানা বাঁধছে সন্দেহ।
আরও পড়ুন:
অর্গানাইজারের প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কী এমন আলোচনা হল ওই বৈঠকে? কেন এত গোপনীয়তা? তাহলে কি অঘোষিত কোনও সমঝোতা হচ্ছে ককরোচ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে? বলে রাখা দরকার, ককরোচ জনতা পার্টি এখনও সরকারিভাবে রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেনি। আবার তাঁদের কার্যকলাপ আর শুধু সোশাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসবের বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সরব হচ্ছে ককরোচরা। বিশেষ করে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে। আশুতোষ রাঙ্কা নিজে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে একাধিক স্কুলে গিয়েছেন। সার্বিকভাবে ককরোচরা আপাতত নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছেন। আর সেটার মূল ভিত্তিই হল বিজেপি বিরোধিতা। আবার অখিলেশ যাদব চান উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে। সেটারও মূল ভিত্তি সেই বিজেপি বিরোধিতা। দুই শিবির কি সম্মিলিতভাবে কোনও পরিকল্পনা করছে? দিল্লির ধাঁচে নতুন কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা? প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লিতে যে ‘সফল’ আন্দোলন করেছিল, সেই আন্দোলনের সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল উত্তরপ্রদেশের যুবসমাজের। দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দেওয়া জেন জি-মিলেনিয়ালদের একটা বড় অংশ ছিল যোগীরাজ্যের। অখিলেশের টার্গেট ওই জেন জি এবং মিলেনিয়ালদের বিজেপি বিরোধী মানসিকতাকে ভোটবাক্সে আনা। সেই লক্ষ্যে ককরোচরা তাঁকে সাহায্য করতে পারে। আবার অখিলেশ ক্ষমতায় এলে ককরোচ পার্টির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সহযোগিতা করতে পারেন। মনে রাখা দরকার, ককরোচদের সঙ্গে অখিলেশের সম্পর্ক বেশ ভালো। দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন ডিম্পল যাদব একাধিকবার গিয়েছেন। অখিলেশ নিজে গিয়েছেন। দু’জনেই রাঙ্কা-সৌরভ দাসদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছেন। সেটাকেই এবার তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সাফ বার্তা, হরমুজে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইরানকেও সমঝে দিলেন মোদি?
-
প্রাচীন সাহিত্যের হাত ধরে বন্ধুত্বে জোর! ব্রিকসে পুতিনকে তামিল গ্রন্থের অনুবাদ উপহার মোদির
-
ব্রিকসের মেনুতে বাংলার কুচো নিমকি, প্রিয় স্ন্যাকস কীভাবে বানালে অম্বল হবে না একটুও
-
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ছিনতাইবাজের রমরমা, ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক অভিযোগ! পুলিশি অ্যাকশনে আটক ৬২
-
চুপিসারে হাতিয়ে নিচ্ছে ওটিপি, নজরদারি হোয়াটসঅ্যাপেও! নতুন ম্যালওয়্যার ঘিরে আতঙ্ক