Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Amartya Sen

অযথা তাড়াহুড়ো, গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায়, বাংলার SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন অমর্ত্য সেন, আর কী বললেন নোবেলজয়ী?

এ বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, অমর্ত্য সেন পণ্ডিত মানুষ। নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সমস্ত অর্থনীতিবিদরাই জানেন, এত বড় একটি কাজ কখনও একশো শতাংশ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। আর এটা তো খসড়া তালিকা। ভুল-ভ্রান্তি আছে বলেই তো খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১৩:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১৩:১৯

options
link
অযথা তাড়াহুড়ো, গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায়, বাংলার SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন অমর্ত্য সেন, আর কী বললেন নোবেলজয়ী? zoom
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ছবি: সংগৃহীত।

কয়েকদিন আগেই রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পেয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন (Amartya Sen)। তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও হয়েছিল বিস্তর। যদিও বিদেশে থাকায় সশরীরে শুনানিতে হাজির থাকতে পারেননি ৯২ বছর বয়সি প্রবীণ অধ্যাপক।

কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি যে সম্যক অবগত, তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাজ্যে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে যে ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করা হচ্ছে। তাতে সমগ্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই সমস্যায় পড়তে পারে বলে মত নোবেলজয়ীর। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে অমর্ত্য সেনের এহেন মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, জানুয়ারির শুরুতে প্রবাসী অমর্ত্য নিজেও এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। তাঁর বাসভবনে শুনানি হয়। উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই।

Advertisement

প্রসঙ্গত, জানুয়ারির শুরুতে প্রবাসী অমর্ত্য নিজেও এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। তাঁর বাসভবনে শুনানি হয়। উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই।

বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এসআইআর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন অমর্ত্য সেন। সেই সাক্ষাৎকারে ভোটার তালিকা সংশোধনের গণতান্ত্রিক মূল্য এবং তা কীভাবে মানুষের ভোটাধিকারকে আরও জোরদার করে, সে বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন তিনি। জানান, এই ধরনের প্রক্রিয়া অবশ্যই যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে সতর্ক হয়ে করা উচিত। ঠিক সেটাই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত’। অমর্ত্য বলেছেন, “সতর্ক হয়ে যত্ন সহকারে সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। মানুষকে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এমনটা হলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও।” প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এই অভিযোগই করে আসছেন।

অমর্ত্য বলেছেন, “সতর্ক হয়ে যত্ন সহকারে সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না।”

বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অমর্ত্য সেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “নির্বাচনী আধিকারিকদের উপরেও সময়ের চাপ যথেষ্ট।” তাঁর কথায়, “কখনও কখনও, নির্বাচন কমিশনের কর্তারা নিজেরাই যথেষ্ট সময়ের অভাব বোধ করেন। আমার বাড়ির বিধানসভা এলাকা শান্তিনিকেতন থেকে আমি আগেও ভোট দিয়েছি, আমার নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য নথি সরকারিভাবে নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সেখানেও আমার জন্মের সময় আমার মায়ের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমার মায়ের সমস্ত নথিও কিন্তু ভোটার হিসাবে অফিশিয়াল রেকর্ডে ছিল।” অমর্ত্য সেনের কথায়, “গ্রামীণ ভারতে জন্মানো অন্য বহু নাগরিকের মতোই আমারও বার্থ সার্টিফিকেট নেই, তাই আমার হয়ে আমার নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করার জন্য একাধিক অন্য নথি জমা দেওয়া প্রয়োজন। আমি হয়তো পেরেছি-কিন্তু অন্যদের জন্য চিন্তা হচ্ছে, যাঁদের আমার মতো তেমন বিশ্বস্ত বন্ধু নেই। আমার বন্ধুরা আমাকে অমননীয় নির্বাচন কমিশনের শক্ত দরজা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।”

অমর্ত্য সেনের কথায়, “গ্রামীণ ভারতে জন্মানো অন্য বহু নাগরিকের মতোই আমারও বার্থ সার্টিফিকেট নেই, তাই আমার হয়ে আমার নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করার জন্য একাধিক অন্য নথি জমা দেওয়া প্রয়োজন। আমি হয়তো পেরেছি-কিন্তু অন্যদের জন্য চিন্তা হচ্ছে, যাঁদের আমার মতো তেমন বিশ্বস্ত বন্ধু নেই। আমার বন্ধুরা আমাকে অমননীয় নির্বাচন কমিশনের শক্ত দরজা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।”

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধা হবে কি না, প্রশ্ন করা হলে নোবেলজয়ীর প্রতিক্রিয়া, “আমি জানি না এটা কতটা সত্যি। কিন্তু আসল কথা হল, কমিশনের উচিত ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া এবং আমাদের গর্বিত গণতন্ত্রকে অপ্রয়োজনীয় ভুল করতে বাধ্য করা নয়, তাতে যে-ই লাভবান হোক না কেন।” এই প্রক্রিয়ায় দেশের সংখ্যালঘু, গরিব, প্রান্তিক মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন বলেই জানিয়েছেন অমর্ত্য। তাঁর কথায়, “কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিকের ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়।”

এই প্রক্রিয়ায় দেশের সংখ্যালঘু, গরিব, প্রান্তিক মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন বলেই জানিয়েছেন অমর্ত্য। তাঁর কথায়, “কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিকের ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়।”

এ বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, অমর্ত্য সেন পণ্ডিত মানুষ। নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সমস্ত অর্থনীতিবিদরাই জানেন, এত বড় একটি কাজ কখনও একশো শতাংশ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। আর এটা তো খসড়া তালিকা। ভুল-ভ্রান্তি আছে বলেই তো খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.