৫ মাঘ  ১৪২৫  রবিবার ২০ জানুয়ারি ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফিরে দেখা ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

মণিশংকর চৌধুরি: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের বিরোধিতায় উত্তাল অসম। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে ত্রিপুরা, মেঘালয়-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেও। পাল্লা দিয়ে চলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মরিয়া চেষ্টা। বিতর্কিত বিলটির বিরোধিতায় সরব হওয়ায় বৃহস্পতিবার দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত অসমিয়া সাহিত্যিক ড. হিরেন গোঁহাই ও প্রবীণ সাংবাদিক মনজিৎ মহন্তর বিরুদ্ধে। একই অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে কৃষক নেতা অখিল গগৈয়ের বিরুদ্ধেও। এমনই পরিস্থিতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উলফা প্রধান পরেশ বরুয়া। শীঘ্রই এই মামলা প্রত্যাহার না করা হলে ভয়ংকর পরিণতির সন্মুখীন হতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে বলে হুমকি দিয়েছেন এই জঙ্গিনেতা।

নাগরিকত্ব বিল নিয়ে অসমে দিন কয়েক আগে থেকেই প্রতিবাদ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার শিলচরে গিয়ে বলেছিলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল খুব শীঘ্রই পাশ করানো হবে। তাঁর ওই ঘোষণার থেকেই সেখানে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রজধানী গুয়াহাটিতে গণ ভবনের সামনে ‘সংকল্প দিবস’ পালন করে অখিল গগৈয়ের নেতৃত্বে ৭০টি সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি বিলটির বিরোধিতায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তাররা হাতে কালো ফেট্টি পড়েন। বিতর্কিত বিলটি বাতিল না করা হলে অসমে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও হুঙ্কার দেন অখিল। উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) আইনে পরিণত হলে বদলে যাবে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন। সে ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশি দেশগুলিতে ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে কেউ ভারতে পালিয়ে এলে আশ্রয় দেবে ভারত সরকার। মিলবে ভারতের নাগরিকত্বও। যদিও এই সুবিধা পাবেন শুধু মাত্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং পার্সি ধর্মের মানুষেরা। বিজেপি ছাড়া অসমের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, এই বিল পাশ হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে আশ্রয় নেবেন। এই বিল ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির বিরোধী। অসমের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বহিরাগতদের নিজস্ব এলাকায় আশ্রয় দিতে বরাবরই নিজেদের বিরোধিতার কথা বলেছে প্রকাশ্যেই।

[নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ঘরে বাইরে চাপে বিজেপি, অসমে পদত্যাগ দলের মুখপাত্রের]

লোকসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলটি পাশ হলেও বিরোধীদের বিরোধিতায় তা থমকে গিয়েছে রাজ্যসভায়। তবে কিছুতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না অসমে। দক্ষিণ কামরূপ-সহ একাধিক জায়গায় বিজেপির কার্যালয় লণ্ডভণ্ড করছে অসম সেনা নামের এক সংগঠন। একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আসু-সহ ৭০টি সংগঠন। হামলার মুখে পড়েছেন একাধিক বিজেপি নেতা। পালটা বিজেপি নেতা ও শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, অসমকে বিদেশিমুক্ত করতে সাহায্য করবে এই বিলটি। ইচ্ছে করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আসু-র বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মামলা করেছেন বিজেপি নেতা মৃণাল শইকিয়া। এদিকে অসমে বিজেপি জোট সরকার থেকে অসম গণ পরিষদ বেরিয়ে গেলেও সরকারের সঙ্গেই থাকছে হাগ্রামা মহিলারির বিপিএফ (বোড়ল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট)| ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় এজিপির ১৪ বিধায়ক রয়েছে। বিজেপি ও বিপিএফ মিলিয়ে রয়েছে ৭২ বিধায়ক। ফলে আপাতত নিশ্চিন্ত সর্বানন্দ সরকার।

এদিকে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল নিয়ে বিভেদ দেখা দিয়েছে অসমের বাংলাভাষী হিন্দু ও ভূমিপুত্রদের মধ্যে। বিলটি পাশ হলে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া বাংলাভাষী হিন্দুদের আর কোনও সমস্যা থাকবে না। আর এতেই আপত্তি অসমের জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির। পাশাপাশি ফের আটের দশকের ‘বঙাল খেদাও’ জিগির তুলে ফায়দা লুটতে বিজেপি ছেড়েছে অতুল বরার এজিপি। তবে আসন্ন লোকসভার কথা মাথায় রেখেই অসমের ৬ জনগোষ্ঠীকে তফসিলি জনজাতির তালিকাভুক্ত করার জন্য বিল এনেছে বিজেপি সরকার। এদের মধ্যে রয়েছে তাই আহুম, মরান, মটক ও চুতিয়া জনগোষ্ঠী। আপার অসমের জেলাগুলি যেমন তিনসুকিয়া, শিবসাগর, জোরহাট, ডিব্রুগড়ে প্রভাব রয়েছে এই জনগোষ্ঠীর। পাশাপাশি বাংলাভাষী হিন্দুদের যোগ করলে আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কিছুটা মজবুত জায়গায় থাকবে গেরুয়া দলটি। 

[রাজ্যসভায় পাস উচ্চবর্ণের সংরক্ষণ বিল, সমর্থন বিরোধীদেরও]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং