Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১০ জুন ২০২৬
অযোধ্যা

কিছুক্ষণ পরই অযোধ্যার রায়, তার আগে দেখে নিন এই মামলার ৫০০ বছরের ইতিহাস

অযোধ্যাকে ঘিরে ১৩৪ বছরের আইনি লড়াইয়ে ইতি পড়বে কি?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৯:৪৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৯:৪৩

options
link
কিছুক্ষণ পরই অযোধ্যার রায়, তার আগে দেখে নিন এই মামলার ৫০০ বছরের ইতিহাস zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক এবং সামাজিক মামলার নিষ্পত্তি হতে চলেছে। আজই অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত রায়দান করতে চলেছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। ২৭ বছর আগে ধ্বংস হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। তবে বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্ক, গন্ডগোল যাই বলা হোক না কেন সবই কিন্তু নয়ের দশকে শুরু হয়নি। বিবাদের সূত্রপাত আরও আগে। সিপাহী বিদ্রোহের চারবছর আগে বাবরি মসজিদ নিয়ে প্রথম বিবাদের কথা উল্লেখিত রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। হিসাবমতো অযোধ্যা বিতর্ক ৫০০ বছরের পুরনো। বিতর্কিত ভূখণ্ডের দখল নিয়ে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের আইনি বিবাদ ১৩৪ বছর ধরে চলছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১- ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় নির্মিত হয় বাবরি মসজিদ। তাঁর নামেই এই মসজিদের নামকরণ হয়। যদিও হিন্দুদের দাবি ছিল, এটিই রাম জন্মভূমি এবং এখানে ভগবান রামের মন্দিরও ছিল।

২- ১৮৫৩ সালে সিপাই বিদ্রোহের চার বছর আগে প্রথম ধর্মীয় বিবাদের সূত্রপাত হয় এই মসজিদকে কেন্দ্র করে।

৩- ধর্মীয় বিবাদ আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় ছ’বছর পর ব্রিটিশ সরকার বিতর্কিত কাঠামোর চারপাশ ঘিরে দেয়। ভিতরের অংশে মুসলিম সম্প্রদায় এবং বাইরের অংশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবেশাধিকার করে দেওয়া হয়। প্রায় নব্বই বছর এইভাবেই ছিল সবকিছু।

৪. ১৮৮৫ সালে বিতর্কিত স্থানে মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে ফৈজাবাদ জেলা আদালতে প্রথম মামলা দায়ের করেন মোহন্ত রঘুবর দাস।

৪- স্বাধীনতার ২ বছর পর ১৯৪৯ সালে স্থাপত্যের ভিতরে রামের মূর্তি উদ্ধার হয়। মুসলিমরা অভিযোগ তোলে, স্থাপত্যের ভিতরে হিন্দুরা মূর্তি রেখে এসেছে। গোটা ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করেন। গোটা বিষয় নিয়ে দুই সম্প্রদায়ই আইনি মামলার পথে যায়। স্থাপত্যটিকে বিতর্কিত তকমা দিয়ে চিরতরের জন্য বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

৫- ১৯৮৪ সালে বাবরির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সংযোজিত হয়। জাতীয় কংগ্রেসের পর এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হয়। ভারতীয় জনতা পার্টি। তার সঙ্গে গোটা দেশে মাথাচাড়া দেয় হিন্দুত্ববাদ। ভগবান রামের জন্মভূমিকে অশুভ শক্তি থেকে ‘মুক্ত’ করার ডাক দিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে গঠিত হয় রাম মন্দির কমিটি। তার পুরোধা করা হয় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানীকে।

৬- ঠিক দু’বছর পর জেলা আদালতের বিচারক আচমকাই নির্দেশ দেন, হিন্দুদের পুজো-অর্চনার জন্য বিতর্কিত কাঠামোর গেট খুলে দেওয়া হোক। নির্দেশের ঘন্টাখানেকের মধ্যে গেট খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠন করে ফেলেন।

৭- তিন বছর পর ১৯৮৯ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এক অভিযান শুরু করে। বিতর্কিত কাঠামো লাগোয়া জমিতে রাম মন্দির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এই অভিযানের মধ্য দিয়ে।

৮- পরের বছর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য-সমর্থকরা বিতর্কিত কাঠামোর উপর রাম মন্দির নির্মাণ করতে যাওয়ায় গম্বুজের আংশিক ক্ষতি হয়। এরপরই উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব করসেবকদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেন। রাম মন্দির নির্মাণের সমর্থনে আডবানী দেশ জুড়ে রথযাত্রা বের করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর গোটা ঘটনায় মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও তা বিফলে যায়।

৯- এক বছর পরই সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। কেন্দ্রে যথারীতি কংগ্রেস।

১০- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২। ভারতের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ভিএইচপি, বিজেপি এবং শিব সেনার সমর্থকরা চড়াও হয়ে গুঁড়িয়ে দেয় বাবরি মসজিদের বিতর্কিত কাঠামো। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। প্রায় দু’হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ যায় এই দাঙ্গায়।

১১- ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপির জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী হন অটল বিহারী বাজপেয়ী।

১২- চার বছর পর বাজপেয়ী নিজের অফিসে একটি অযোধ্যা সেল গঠন করেন।

১৩- ওই বছরই মার্চ মাসের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ নেয় ভিএইচপি। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় গুজরাতের গোধরার কাছে সবরমতী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ৫৮ জন করসেবকের। তিনদিনের মধ্যে গোধরাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা বাধে। বহু মানুষের মৃত্যু হয় তাতে।

১৪- এপ্রিল মাসে বিতর্কিত কাঠামোয় অধিকার কোন সম্প্রংদায়ের, সেই মর্মে এলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়।

১৫- আদৌ বিতর্কিত কাঠামোর মধ্যে রাম মন্দির ছিল কি না তা জানার জন্য পরের বছর জানুয়ারি মাসে আদালত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে সার্ভে করার দায়িত্ব দেয়।

১৬- ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে এএসআই রিপোর্টে জানায়, মসজিদের নিচে রাম মন্দির থাকার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে মুসলিম ল’ বোর্ড।

১৭- দু’বছর পর নির্মীয়মাণ রাম মন্দিরের সাইটে জিপবোঝাই বিস্ফোরক-সহ হামলা চালায় বেশ কিছু ইসলামিক জঙ্গি। সেনা প্রত্যেককে নিকেশ করে দেয়।

১৮- ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আরও এক অধ্যায় সংযোজিত হল অযোধ্যার ইতিহাসে। এলাহাবাদ হাই কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেয়। বিতর্কিত কাঠামোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এক ভাগ পায় উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং বাকি দুই ভাগ দেওয়া হয় নির্মোহী আখাড়া এবং রাম লালা কমিটিকে। কাঠামোর কর্তৃত্ব যায় হিন্দুদের দখলে। মুসলিমদের হয়ে এক আইনজীবী এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

১৯- পরের বছর মে মাসে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানে পৌঁছনো যাযনি এই ইস্যুতে। তাই বিতর্কিত কাঠামো এখনও বন্ধই পড়ে রয়েছে।

২০- ২০১৭ সালের ২১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহের নির্দেশ দেন, আদালতের বাইরে অযোধ্যা বিতর্কের মীমাংসা করে নিতে।

২১- ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট মামলার জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা হয়।

২২- ওই বছরই ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এন আবদুল নাজিরের বেঞ্চে ফের নতুন করে শুরু হয় অযোধ্যা মামলা।

২৩- ২০১৯ সালের ৮ মার্চ বিচারপতি এফ এম কলিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর এবং আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের মধ্যস্থাকারী প্যানেল তৈরি করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই বছরই ২ আগস্ট মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রধান বিচারপতি তখন জানান, ৬ আগস্ট থেকে রোজ শুনানি হবে অযোধ্যা মামলার।

২৪- টানা ৪০ দিন ম্যারাথন শুনানির পর মামলার রায়দান স্থগিত রাখা হয়। এবং ঘোষণা করা হয় ১৭ নভেম্বরের মধ্যে হবে রায়দান।

২৫– শুক্রবার ৮ নভেম্বর হঠাৎই ঘোষণা করা হয় শনিবার অর্থাৎ আজ মামলার চূড়ান্ত রায়দান হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.