দীপাঞ্জন মণ্ডল, অযোধ্যা: আর মাত্র একটা দিন। তারপরেই ৫০০ বছরের অপেক্ষার অবসান। রাত পোহালেই রাম মন্দিরের ‘ভূমি পূজন’। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবে দেশ তথা বিশ্ব। আর তাই জোরকদমে শুরু হয়েছে অযোধ্যাকে (Ayodhya) সাজানোর কাজ। রাস্তায় যেতে যেতে চোখে পড়ল শুধুমাত্র দুটি রং। হলুদ ও গেরুয়া। দীপাবলির সাজে সাজানো হয়েছে পুরো অযোধ্যাকে। বলতে গেলে এখানকার মানুষের কাছে দীপাবলিই। তবে একদিকে সাজানোর সাথে সাথে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো শহরকে। কারন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সহ আরও চার ভিআইপি উপস্থিত থাকবেন ‘ভূমি পূজনে’। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (Naredra Modi) হাতেই হবে শিলান্যাস। আর তাই সুরক্ষা কবচে ঘিরে ফেলা হয়েছে সেই জায়গা।
মূল পুজোর জায়গার ৪০০ মিটার আগে থেকেই প্রবেশ নিষেধ। প্রত্যেকটি মোড়ে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা। তবুও অনেকটাই ঢুকে পড়েছিলাম কিন্তু তখনই হাঁক এল পেছোন থেকে। এখানে ভিডিও করবেন না মানা আছে। আবার ফিরে এলাম সেই জায়গায়। তবে প্রধান জায়গা ৪০০ মিটার দূরে হলেও তার যে কতটা গুরুত্ব, সেটার অনুভূতি পাওয়া যায় ঐ দূরত্ব থেকেই। হবেই না কেন। দীর্ঘ টানাপোড়েন রাজনীতি ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ‘মন্দির ওহি বন রাহা হে’।
[আরও পড়ুন: জাতীয় ঐক্যের উৎসব হয়ে উঠুক রাম মন্দিরের ভূমিপুজো, বিরোধিতা ভুললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী]
তবে অযোধ্যার মানুষ বিষয়টিকে দেখছে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তাদের কাছে এটি একটি উৎসব এবং ভগবান শ্রীরামের সাথে তারা রাজনীতি জড়াতে একদমই নারাজ। রাম জন্মভূমির (Ram Janmabhoomi) ঠিক ঐ ৪০০ মিটার দূরেই রয়েছে বিভিন্ন দোকান। ছোট থেকেই সেই জায়গায় বড় হওয়া সেরকমই এক দোকানদার জানাল, অযোধ্যার মানুষ খুশি। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলাম আমরা। অবশেষে রাম মন্দির (Ram Mandir) হবে। মানুষ আসবে। জায়গার বিকাশ হবে।আমরা খুব খুশি। সমস্ত অযোধ্যা ঘুরলে অবশ্যই মানুষের মুখে মুখে এই কথায় শোনা যাবে। তাদের কাছে বিষয়টি রাজনীতির নয় ,তাদের কাছে রাম একটি অনুভূতি। তাই তারা এই করোনার পরিস্থিতিতেও মেতে উঠেছে আনন্দে। সেজে উঠেছে সারা অযোধ্যা। আজ বিকেলেই রাম কি পেরি ঘাটে হবে আরতি। সুন্দর আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে ঘাট। প্রদীপ দেওয়া হবে সন্ধ্যায়। এমনকী সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সেই প্রস্তুতি। হনুমান গড়িতে হয়েছে ‘নিশান’ পুজো। এই পুজোর গুরুত্ব হল বজরঙ্গবলির থেকে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি নেওয়া। সকাল থেকে শুরু হয়েছে অখণ্ড রামায়ন পাঠ। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা চলেছে এই পাঠ। অর্থাৎ রাত পোহালেই যে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হবে দেশ তার প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু করে দিয়েছে অযোধ্যা।
সর্বশেষ খবর
-
‘নকল বেবি বাম্প, সব ভুয়ো’, অন্তঃসত্ত্বা দীপিকাকে নিয়ে সন্দেহ! মোক্ষম জবাব ‘মস্তানি’র
-
দুর্গাপুজোকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে নয়া উদ্যোগ, ১০ হাজার প্রবীণকে নিয়ে ‘দুর্গা টুর’ করবে আদানিরা
-
এবার আমেরিকাতেও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! বাংলায় মাসে ৩ হাজার, মার্কিনিরা পাবেন কত করে?
-
হাইওয়ের কাজে বারবার ঢিলেমি, উদ্বোধনে যেতে ‘অস্বীকার’ গড়করির, বললেন, ‘লজ্জা লাগছে’
-
হোটেল রেস্তরাঁর খাবারে বিষ! দায় কে নেবে?